
‘শূকরের মাংস হারাম’ এটা মূলত দেশীয় গরুর মাংস ব্যাবসায়ীদের প্রোপাগান্ডা। কারণ, শূকরের মাংস দেশের বাজারে ঢুকলে তারা বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রি করতে পারবে না। প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী এমন মন্তব্য করেছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
তিনি ছাড়াও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নামেও একই দাবিতে এ ধরনের ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
এ সম্পর্কিত ভিডিও দেখুন এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে এসব বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, বেঙ্গলি স্টিম নামে একটি পেজ থেকে সর্বপ্রথম (১ মে, দুপুর ১ টা বেজে ৪৮ মিনিটে) শায়খ আহমাদুল্লাহর নামে এ সম্পর্কিত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। এতে তার ছবি ব্যবহার করে ওপরে বামপাশে লিখা হয়েছে, ‘ড. ইউনূসের সমালোচনা না করে শূকরের মাংস যে হারাম তার একটা শক্ত দলিল দেখান।’ উল্লিখিত পেজে পোস্টটিতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৬ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে। এতে মন্তব্য করা নেটিজেনদের বেশির ভাগকেই দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও পেজটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে নিয়মিতভাবে এতে আওয়ামী লীগের বিরোধী ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা মন্তব্য দিয়ে ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একইদিন (১ মে) রাত ৮টা ১৬ মিনিটে মুফতি আমির হামজার নামে একই ধরনের আরেকটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। এতে তার বক্তব্য হিসেবে দাবি করা হয়, ‘এই ডাইনি হাসিনা ১৭ বছর আমাদের শূকরের মাংস খাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছে। ধন্যবাদ ড. ইউনূস আমাদেরকে সূদুর আমেরিকা থেকে শুকর এনে দেওয়ার জন্য।’ পোস্টটিতে এ পর্যন্ত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৩ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে। এতে শরিফ উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনাদের মতো আলেমরা যদি এমন কথা বলেন,তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে।’
এ ছাড়াও একই দাবিতে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঐক্য গ্রুপ’ এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড পোস্ট করতে দেখা গেছে। এসব পোস্টে একই দাবি আংশিক পরিবর্তন করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রচার করা হয়েছে। যেমন—অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য দাবি করে একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘আপনারা না জেনে ইউনূস স্যারকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কোথায় লেখা আছে শূকরের মাংস খাওয়া হারাম সেটা আমাকে দেখান।’ গুপ্ত টেলিভিশন নামে একটি পেজ থেকে ফটোকার্ডটি প্রথম পোস্ট করা হলেও নেটিজেনদের অনেকে দাবিটি বিশ্বাস করে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করতে দেখা গেছে।
তবে এসব ব্যক্তিদের নামে ছড়ানো দাবি সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড আলাদা করে সার্চ করে একটি বক্তব্যেরও সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ, ‘শূকরের মাংস হালাল’, ‘শূকরও আল্লাহর তৈরি প্রাণী, অতএব খাওয়াই যায়’ ‘শূকরের মাংস হারাম' এটা মূলত দেশীয় গরুর মাংস ব্যাবসায়ীদের প্রোপাগান্ডা’ ইত্যাদি দাবিতে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো বানোয়াট। এধরনের কোনো মন্তব্য তারা করেছেন এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।




