ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

জামায়াতের জোট ছাড়লে বিএনপির মন্ত্রীত্বের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বক্তব্য দেননি চরমোনাই পীর

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০২ মে ২০২৬, ১৪:৩৬
বিএনপি জামায়াতকে জড়িয়ে চরমোনাই পীরের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার। ছবি : সংগৃহিত

‘জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়লে মন্ত্রীত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিএনপি আমাদের তা দেয়নি। বিএনপি একটি বিশ্বাসঘাতক দল।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

যাচাইয়ে দেখা যায়, সংবাদমাধ্যম মিরর নিউজের সংবাদ ফটোকার্ড ধরন নকল করে ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। ফেসবুকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করতে দেখা গেছে। এতে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের বক্তব্য দাবি করে লেখা হয়েছে, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়লে মন্ত্রীত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিএনপি আমাদের তা দেয়নি। বিএনপি একটি বিশ্বাসঘাতক দল।’ এতে ওপরের অংশে তারিখ হিসেবে লেখা হয়েছে, ০১ মে ২০২৬। এবং নিচের অংশে মিরর নিউজের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে দাবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ ধরনের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। এবং মিরর নিউজ এক পোস্টে ‘কার্ডটি তাদের পেজ থেকে ছড়ানো হয়নি’ বলে দাবি করেছে। এ ছাড়াও সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চে ‘বিগত নির্বাচন ছিল ভাগাভাগির: ফয়জুল করীম’ শিরোনামে একাধিক সংবাদ পাওয়া যায়। এতে ফয়জুল করীম বলেন, ‘বিগত নির্বাচন জনগণের নির্বাচন ছিল না, বরং এটি একটি চুক্তি নির্ভর ও ভাগাভাগির নির্বাচন ছিল। বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আশ্চর্য বিষয় হলো বিরোধী দল সংসদে দাঁড়িয়ে বলে তারা বিরোধী দল না। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আগে থেকেই চুক্তি হয়েছে কার কয়টি সিট হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামি আন্দোলনকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে।

অর্থ্যাৎ, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়লে মন্ত্রীত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিএনপি আমাদের তা দেয়নি। বিএনপি একটি বিশ্বাসঘাতক দল।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

ভারতে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রামের
‘ভারতে মুসলিমরা মসজিদে নামাজ আদায় করছে। হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে ঢোল, বাঁশি বাজাচ্ছে। এই জুলুমের শেষ কোথায়?’ ‘আজ কোলকাতায় নামাজ চলাকালীন সময় কসাই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের লিডার মোদির সন্ত্রাসীরা ঢোল বাদ্য বাজিয়ে ঢুকে পড়ে স্থানীয় একটি মসজিদে, হে আল্লাহ আপনি রক্ষা করুন মুসলিম উম্মাহ ভাই এবং বোনদেরকে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী কসাই-মোদির হাত থেকে।’ এ ধরনের ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।  এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক জয় পেয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যটির একাধিক জেলায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। এসব তথ্যের প্রবাহের মধ্যে অপতথ্য কিংবা মিথ্যা তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে।  প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, সামনে একজন ব্যক্তি নামাজরত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন, তার পিছনে কয়েকজন বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে। পোস্টগুলোর ক্যাপশনে ঘটনাটি ভারতের দাবি করে জানানো হচ্ছে,‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে ঢোল, বাঁশি বাজাচ্ছে। মসজিদে নামাজ চলাকালে কতিপয় উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুসারীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে উচ্চ শব্দে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করেছে।’ তবে ভিডিওটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত বছরের ১২ জুন তারিখে  সামাজিকমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ভিডিওটি স্পষ্টভাবে মিলে যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ভিডিওটি গশ্চি শাহী দরবার শরীফ নামে একটি মাজারের ভেতর থেকে ধারণ করা। মাজারটির অবস্থান গুগল ম্যাপে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গশ্চি ধরেরটেক এলাকায় বলে জানা গেছে। উল্লিখিত টিকটক অ্যাকাউন্টটি থেকে মাজারটির ভেতরের এ ধরনের আরও কিছু ভিডিও পোস্ট করতে দেখা গেছে। অর্থ্যাৎ, ‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে ঢোল-বাঁশি বাজাচ্ছে। মসজিদে নামাজ চলাকালে কতিপয় উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুসারীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে উচ্চ শব্দে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করেছে।’ এ ধরনের ক্যাপশনে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নয়। মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার একটি মুসলিম মাজারের ভিডিও এটি। 
ভারতে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রামের
ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে জামায়াত নেতা দাবিতে প্রচার
‘মেহেন্দিগঞ্জে জামাত নেতা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের করাই ! এলাকায় মহিলারা রাজাকারকে ঝাড়ু দিয়ে গণধোলাই দিলেন।’ এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।  এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং অভিযুক্ত ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিওকে জামায়াত নেতা বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে এতে।  প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন বৃদ্ধকে একাধিক নারী মারধর করছেন। ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির উপরের ডানপাশে  ‘মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে একটি বরিশালের স্থানীয় একটি পত্রিকার লোগো রয়েছে। ফেসবুকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টগুলোতে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে ‘জামাত নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও একই ব্যক্তিকে আওয়ামী নেতার দাবিতেও প্রচার করা হয়েছে। তবে প্রচারিত ভিডিওর ফ্রেমে থাকা ‘মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে লোগোটির সূত্র ধরে সার্চ করে মূল পোস্টটি পাওয়া যায়। গত ১ মে দুপুরে পোস্ট করা হয় ভিডিওটি। এতে ঘটনার বিবরণ হিসেবে পোস্টটির ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ‘মেহেন্দিগঞ্জের ১০ বছর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক।’ এতে অভিযুক্তের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।  অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। এতে জানানো হয়, ‘বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুলাল জমাদার (৬০) নামের এই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চে উল্লিখিত ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যম গুলোতে পাওয়া যায়নি।  অর্থ্যাৎ,‘মেহেন্দিগঞ্জে জামাত নেতা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের করাই ! এলাকায় মহিলারা রাজাকারকে ঝাড়ু দিয়ে গণধোলাই দিলেন।’ এমন ক্যাপশনে প্রচারিত দাবিটি সত্য নয়। অভিযুক্তকে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে এতে। 
ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে জামায়াত নেতা দাবিতে প্রচার
দিল্লির পুরোনো ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দাবিতে প্রচার
‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুসলিমদের কবরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে উগ্রবাদীরা!’ এমন শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।  এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং এতে ভারতেরই আরেকটি ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকে ‘বিচিত্রা নিউজ’ নামে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, ‘ব্রেকিং নিউজ, ভারতে বিজেপি ক্ষমতার এসেই মুসলিমদের ওপর শুরু করে দিয়েছে চরম নির্যাতন। নিষ্ঠুরতার সব সীমা ছাড়িয়ে এবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে  মুসলিমদের কবরস্থান। মুসলিমদের কবরের মাটি খুঁড়ে ফেলছে এবং কবরের ভেতর পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এমন পৈশাচিক ঘটনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নিত্যদিনের চিত্র। এর পাশাপাশি অহরহ ভেঙে ফেলা হচ্ছে মুসলিমদের ঘরবাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। কোথায় গিয়ে থামবে উগ্রবাদীদের এই তাণ্ডব? পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।’ প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একটি কবরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে এবং ভাঙচুর করছে। ভিডিওটির শেষের দিকে বসতবাড়ি ভাঙচুরের ভিন্ন কিছু ফুটেজ দেখানো হয়। একই দাবিতে ভিডিও, ছবি এবং লেখা অর্ধশতাধিক পেজ এবং প্রোফাইল থেকে পোস্ট করতে দেখা গেছে। তবে প্রচারিত ভিডিওটির বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে মুসলিম মিরর নামে দিল্লিভিত্তিক এক পত্রিকায় একটি সংবাদ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও পত্রিকাটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। চলতি বছরের ৪ মার্চে প্রকাশিত সংবাদটিতে জানানো হয়, উত্তর দিল্লির ওয়াজিরাবাদ মুসলিম কবরস্থানে গত ১ মার্চ ঘটনাটি ঘটে। আকাশ পন্ডিত তথা সত্যম পন্ডিত নামে একজন স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদ কর্মী ঘটনাটির নেতৃত্ব দেন। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় তিমারপুর পুলিশ একটি মামলাও নথিবদ্ধ করেছে। অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের ঘটনার কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।  অর্থ্যাৎ,‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুসলিমদের কবরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে উগ্রবাদীরা!’ এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত কবরে আগুন দেওয়ার ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়। মূলত চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ভারতের উত্তর দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও এটি। 
দিল্লির পুরোনো ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দাবিতে প্রচার
তামিল অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার দাবিটি ভুয়া
‘আলহামদুলিল্লাহ, আরও একটি হিন্দু ভাই মুসলমান হলো। ভারতের তামিলনাড়ুর এমপি থালাপতি বিজয় ভোটে জয় হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্মগ্রহণ করলেন।’ এমন ক্যাপশনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির সংবাদ ফটোকার্ড নকল করে একই দাবিতে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।  একই দাবিতে ২০২৫ সালে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইফানস মম’ নামে একটি পেজ থেকে দাবিটি (৪ মে) সন্ধ্যায় পোস্ট করা হয়েছে। এতে সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির সংবাদ ফটোকার্ডের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। ফটোকার্ডটিতে থালাপতি বিজয় প্রার্থনা বা মুনাজাত করছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করে নিচের অংশে দাবিটি বসানো হয়েছে। এতে শিরোনাম হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।’ শিরোনামের নিচেই যমুনা টিভির লোগো এবং একটি রেফ্রিজারেটরের বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে।  অন্যদিকে ফটোকার্ডটি ছাড়াও তিনি ‘ভোটে জয় হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করলেন’ ক্যাপশনে একাধিক পোস্ট করতে দেখা গেছে। ‘কিং মিহাদু’ নামে একটি পেজ থেকে দাবিটি পোস্ট করা হলে সেখানে ৯ শতাধিক প্রতিক্রিয়া আসতে দেখা যায়।  তবে দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদমাধ্যমে দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোতে সার্চ করে এ ধরনের কোনো সংবাদ বা পোস্ট পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দাবিটির সাথে প্রচারিত ছবি এবং ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফ্রেম রিভার্স সার্চ করে ভারতের মুম্বাই থেকে পরিচালিত ‘দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমে ৭ মার্চ, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও টুইটারে (বর্তমান এক্স) একই দিনে পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়।  প্রকাশিত ভিডিও এবং সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রচারিত ঘটনাটি এক বছর আগের। রমজান উপলক্ষে অভিনেতা এবং তামিলাগা ভেটরি খাজাগামের বা (TVK) পার্টির নেতা থালাপতি বিজয় সেদিন চেন্নাইতে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তার দলের পক্ষ থেকে ইফতার অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সাদা পোশাক ও টুপি পরে সেদিন তিনি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নামাজও আদায় করেছিলেন।   অর্থ্যাৎ, ‘মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন।’ বা ‘ভারতের তামিলনাড়ুর এমপি থালাপতি বিজয় ভোটে জয় হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করলেন।’ শিরোনামে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া। যমুনা টিভিও এ ধরনের কোনো সংবাদ কিংবা ফটোকার্ড পোস্ট করেনি। মূলত পুরোনো একটি ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর দাবিটি ছড়ানো হচ্ছে। 
তামিল অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার দাবিটি ভুয়া
‘দুই কোটি টাকায় দুই টয়লেট’ জামায়াত এমপি মাসুদকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
‘জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এলাকায় দুই কোটি টাকায় দুই টয়লেট’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে। এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার হচ্ছে। ফেসবুকে বেশ কয়েকটি পেজ এবং প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে একাধিক ধরনের ফটোকার্ড পোস্ট করতে দেখা গেছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ফ্রিডম বাংলা নিউজ নামে একটি পেজ থেকে সর্বপ্রথম (৫ মে রাত ১২ টা ৭ মিনিটে) পোস্ট করা হয়। এতে আলোচিত টয়লেটটির সামনে শফিকুল ইসলাম মাসুদের ছবি ব্যবহার করে নিচের অংশে শিরোনামটি বসানো হয়েছে। পোস্টটিতে আড়াই হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি হাজারের বেশি শেয়ার হতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ৫ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে। তবে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কিত বেশকিছু সংবাদ পাওয়া যায়। প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় নবনির্মিত টয়লেটটির নামফলকে নির্মাণ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে লেখা হয়েছে। বাউফল উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পটির প্রকৃত ব্যয় ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ দশমিক ৯৩ টাকা। তবে নামফলক প্রস্তুতের সময় ভুল তথ্য ছাপা হয়।  এ ছাড়াও নামফলকটিতেই এর অর্থবছর হিসেবে লেখা হয়েছে, ২০২৪-২০২৫। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারিতে। সে হিসেবে ঘটনাটির সঙ্গে উল্লিখিত এলাকার সংসদ সদস্যের সম্পর্ক থাকার সুযোগ নেই।  অর্থাৎ, ‘জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এলাকায় দুই কোটি টাকায় দুই টয়লেট’ শিরোনামে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে। 
‘দুই কোটি টাকায় দুই টয়লেট’ জামায়াত এমপি মাসুদকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
ভারতে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রামের
ভারতে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রামের
‘ভারতে মুসলিমরা মসজিদে নামাজ আদায় করছে। হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে ঢোল, বাঁশি বাজাচ্ছে। এই জুলুমের শেষ কোথায়?’ ‘আজ কোলকাতায় নামাজ চলাকালীন সময় কসাই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের লিডার মোদির সন্ত্রাসীরা ঢোল বাদ্য বাজিয়ে ঢুকে পড়ে স্থানীয় একটি মসজিদে, হে আল্লাহ আপনি রক্ষা করুন মুসলিম উম্মাহ ভাই এবং বোনদেরকে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী কসাই-মোদির হাত থেকে।’ এ ধরনের ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।  এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক জয় পেয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যটির একাধিক জেলায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। এসব তথ্যের প্রবাহের মধ্যে অপতথ্য কিংবা মিথ্যা তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে।  প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, সামনে একজন ব্যক্তি নামাজরত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন, তার পিছনে কয়েকজন বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে। পোস্টগুলোর ক্যাপশনে ঘটনাটি ভারতের দাবি করে জানানো হচ্ছে,‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে ঢোল, বাঁশি বাজাচ্ছে। মসজিদে নামাজ চলাকালে কতিপয় উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুসারীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে উচ্চ শব্দে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করেছে।’ তবে ভিডিওটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত বছরের ১২ জুন তারিখে  সামাজিকমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ভিডিওটি স্পষ্টভাবে মিলে যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ভিডিওটি গশ্চি শাহী দরবার শরীফ নামে একটি মাজারের ভেতর থেকে ধারণ করা। মাজারটির অবস্থান গুগল ম্যাপে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গশ্চি ধরেরটেক এলাকায় বলে জানা গেছে। উল্লিখিত টিকটক অ্যাকাউন্টটি থেকে মাজারটির ভেতরের এ ধরনের আরও কিছু ভিডিও পোস্ট করতে দেখা গেছে। অর্থ্যাৎ, ‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা মসজিদে ঢুকে ঢোল-বাঁশি বাজাচ্ছে। মসজিদে নামাজ চলাকালে কতিপয় উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুসারীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে উচ্চ শব্দে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করেছে।’ এ ধরনের ক্যাপশনে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নয়। মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার একটি মুসলিম মাজারের ভিডিও এটি। 
ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে জামায়াত নেতা দাবিতে প্রচার
ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে জামায়াত নেতা দাবিতে প্রচার
‘মেহেন্দিগঞ্জে জামাত নেতা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের করাই ! এলাকায় মহিলারা রাজাকারকে ঝাড়ু দিয়ে গণধোলাই দিলেন।’ এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।  এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং অভিযুক্ত ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিওকে জামায়াত নেতা বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে এতে।  প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন বৃদ্ধকে একাধিক নারী মারধর করছেন। ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির উপরের ডানপাশে  ‘মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে একটি বরিশালের স্থানীয় একটি পত্রিকার লোগো রয়েছে। ফেসবুকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টগুলোতে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিকে ‘জামাত নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও একই ব্যক্তিকে আওয়ামী নেতার দাবিতেও প্রচার করা হয়েছে। তবে প্রচারিত ভিডিওর ফ্রেমে থাকা ‘মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে লোগোটির সূত্র ধরে সার্চ করে মূল পোস্টটি পাওয়া যায়। গত ১ মে দুপুরে পোস্ট করা হয় ভিডিওটি। এতে ঘটনার বিবরণ হিসেবে পোস্টটির ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ‘মেহেন্দিগঞ্জের ১০ বছর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক।’ এতে অভিযুক্তের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।  অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। এতে জানানো হয়, ‘বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুলাল জমাদার (৬০) নামের এই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চে উল্লিখিত ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যম গুলোতে পাওয়া যায়নি।  অর্থ্যাৎ,‘মেহেন্দিগঞ্জে জামাত নেতা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের করাই ! এলাকায় মহিলারা রাজাকারকে ঝাড়ু দিয়ে গণধোলাই দিলেন।’ এমন ক্যাপশনে প্রচারিত দাবিটি সত্য নয়। অভিযুক্তকে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে এতে। 
দিল্লির পুরোনো ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দাবিতে প্রচার
দিল্লির পুরোনো ভিডিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দাবিতে প্রচার
‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুসলিমদের কবরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে উগ্রবাদীরা!’ এমন শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।  এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং এতে ভারতেরই আরেকটি ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকে ‘বিচিত্রা নিউজ’ নামে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, ‘ব্রেকিং নিউজ, ভারতে বিজেপি ক্ষমতার এসেই মুসলিমদের ওপর শুরু করে দিয়েছে চরম নির্যাতন। নিষ্ঠুরতার সব সীমা ছাড়িয়ে এবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে  মুসলিমদের কবরস্থান। মুসলিমদের কবরের মাটি খুঁড়ে ফেলছে এবং কবরের ভেতর পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এমন পৈশাচিক ঘটনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নিত্যদিনের চিত্র। এর পাশাপাশি অহরহ ভেঙে ফেলা হচ্ছে মুসলিমদের ঘরবাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। কোথায় গিয়ে থামবে উগ্রবাদীদের এই তাণ্ডব? পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।’ প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একটি কবরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে এবং ভাঙচুর করছে। ভিডিওটির শেষের দিকে বসতবাড়ি ভাঙচুরের ভিন্ন কিছু ফুটেজ দেখানো হয়। একই দাবিতে ভিডিও, ছবি এবং লেখা অর্ধশতাধিক পেজ এবং প্রোফাইল থেকে পোস্ট করতে দেখা গেছে। তবে প্রচারিত ভিডিওটির বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে মুসলিম মিরর নামে দিল্লিভিত্তিক এক পত্রিকায় একটি সংবাদ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও পত্রিকাটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। চলতি বছরের ৪ মার্চে প্রকাশিত সংবাদটিতে জানানো হয়, উত্তর দিল্লির ওয়াজিরাবাদ মুসলিম কবরস্থানে গত ১ মার্চ ঘটনাটি ঘটে। আকাশ পন্ডিত তথা সত্যম পন্ডিত নামে একজন স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদ কর্মী ঘটনাটির নেতৃত্ব দেন। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় তিমারপুর পুলিশ একটি মামলাও নথিবদ্ধ করেছে। অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের ঘটনার কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।  অর্থ্যাৎ,‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মুসলিমদের কবরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে উগ্রবাদীরা!’ এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত কবরে আগুন দেওয়ার ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়। মূলত চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ভারতের উত্তর দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও এটি। 
তামিল অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার দাবিটি ভুয়া
তামিল অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার দাবিটি ভুয়া
‘আলহামদুলিল্লাহ, আরও একটি হিন্দু ভাই মুসলমান হলো। ভারতের তামিলনাড়ুর এমপি থালাপতি বিজয় ভোটে জয় হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্মগ্রহণ করলেন।’ এমন ক্যাপশনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির সংবাদ ফটোকার্ড নকল করে একই দাবিতে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।  একই দাবিতে ২০২৫ সালে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।  তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইফানস মম’ নামে একটি পেজ থেকে দাবিটি (৪ মে) সন্ধ্যায় পোস্ট করা হয়েছে। এতে সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির সংবাদ ফটোকার্ডের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। ফটোকার্ডটিতে থালাপতি বিজয় প্রার্থনা বা মুনাজাত করছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করে নিচের অংশে দাবিটি বসানো হয়েছে। এতে শিরোনাম হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।’ শিরোনামের নিচেই যমুনা টিভির লোগো এবং একটি রেফ্রিজারেটরের বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে।  অন্যদিকে ফটোকার্ডটি ছাড়াও তিনি ‘ভোটে জয় হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করলেন’ ক্যাপশনে একাধিক পোস্ট করতে দেখা গেছে। ‘কিং মিহাদু’ নামে একটি পেজ থেকে দাবিটি পোস্ট করা হলে সেখানে ৯ শতাধিক প্রতিক্রিয়া আসতে দেখা যায়।  তবে দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদমাধ্যমে দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোতে সার্চ করে এ ধরনের কোনো সংবাদ বা পোস্ট পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দাবিটির সাথে প্রচারিত ছবি এবং ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফ্রেম রিভার্স সার্চ করে ভারতের মুম্বাই থেকে পরিচালিত ‘দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমে ৭ মার্চ, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও টুইটারে (বর্তমান এক্স) একই দিনে পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়।  প্রকাশিত ভিডিও এবং সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রচারিত ঘটনাটি এক বছর আগের। রমজান উপলক্ষে অভিনেতা এবং তামিলাগা ভেটরি খাজাগামের বা (TVK) পার্টির নেতা থালাপতি বিজয় সেদিন চেন্নাইতে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তার দলের পক্ষ থেকে ইফতার অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সাদা পোশাক ও টুপি পরে সেদিন তিনি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নামাজও আদায় করেছিলেন।   অর্থ্যাৎ, ‘মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন।’ বা ‘ভারতের তামিলনাড়ুর এমপি থালাপতি বিজয় ভোটে জয় হয়ে হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করলেন।’ শিরোনামে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া। যমুনা টিভিও এ ধরনের কোনো সংবাদ কিংবা ফটোকার্ড পোস্ট করেনি। মূলত পুরোনো একটি ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর দাবিটি ছড়ানো হচ্ছে।