‘দুকান মালিক এক লাক টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির ছাত্রদল নেতারা সন্ত্রাসী হামলা চালাই দুকান মালিকের ওপর।’ এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগে স্থানীয়দের হামলা সম্পর্কিত বলে জানা গেছে।
প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায় একটি দোকানের সামনে একাধিক ব্যক্তির ওপর হামলা করে তাদের মারধর করছেন কয়েকজন যুবক। ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি সর্বপ্রথম (৮ এপ্রিল, বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে) পোস্ট করা হয় ‘Faceless Democracy - মুখহীন গণতন্ত্র’ নামে একটি পেজ থেকে। এতে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘চান্দা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের তাণ্ডব দেখুন। কেমন লাগে এখন বাংলাদেশ?’ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি উল্লিখিত প্রোফাইল থেকে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভিউ হতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে সাড়ে ৪ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৪ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে। ছাত্রদল নেতাদের চাঁদাবাজি দাবিতে একই ভিডিওর পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
তবে ভিডিওটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফ্রেম রিভার্স সার্চ করে একাধিক প্রোফাইলে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে মিলে যায় এমন পোস্ট পাওয়া যায়। হুদহুদ নিউজ নামে গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘নারায়ণগঞ্জ বন্দরের একরামপুরে যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজের তৎপরতা—মাদক ব্যবসায়ীদের উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ।’ এ ছাড়াও জিয়াউল হক নিলয় নামে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি সর্বপ্রথম (৭ এপ্রিল রাত ১১টা ১৮ মিনিটে) পোস্ট করা হয়। এতে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। ২৩নং একরামপুর যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক বব্যবসায়ীদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে দেয়।’
অন্যদিকে, দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দাবিটি প্রমাণিত হয় এমন কোনো সংবাদ দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ, এক লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় দোকানির ওপর ছাত্রদলের হামলা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। নারায়ণগঞ্জ বন্দরের উপজেলার একরামপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে স্থানীয়দের হামলার ভিডিওকে ছাত্রদলের হামলা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।




