ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

কালবেলা প্রতিবেদক

  ২২ মে ২০২৫, ০০:০০

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পুরোপুরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা হয়তো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের কাছে একটি আংশিকভাবে পুনর্গঠিত অর্থনীতি দিয়ে যাব। তবে ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রাখবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে ‘বাংলাদেশে আর্থিক খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের (আইজিসি) যৌথ আয়োজনে এ সেমিনারে গভর্নর আরও বলেন, যত দিন আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে না পারব, তত দিন অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণও সম্ভব হবে না। যদিও এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, প্রবাসী আয়, রপ্তানি ও বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে আবার চাঙা করতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আনিস উর রহমান, পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ আলম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।

বিকাশে রেমিট্যান্স নিয়ে ফ্রিজ-টিভি জেতার সুযোগ
ঈদে বিকাশ অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স নিয়ে রয়েছে হাইসেন্স ডিপ ফ্রিজ ও স্মার্ট টিভি জেতার সুযোগ। আগামী ৫ জুন পর্যন্ত চলা বিশেষ ক্যাম্পেইনে ১০ হাজার বা এর বেশি টাকার রেমিট্যান্স গ্রহণ করলেই প্রবাসীর স্বজনরা পাবেন ৫০০ টাকার ডিসকাউন্ট কুপন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পাবেন একটি হাইসেন্স ডিপ ফ্রিজ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পাবেন একটি ৪৩ ইঞ্চি হাইসেন্স স্মার্ট টিভি। প্রতিদিন ফ্রিজ ও টিভি বিজয়ীসহ সব বিজয়ীর কুপনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে। একজন গ্রাহক ক্যাম্পেইন চলাকালে একবারই ফ্রিজ বা টিভি ও ডিসকাউন্ট কুপন পাবেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স স্মার্ট প্লাজা থেকে হাইসেন্স ফ্রিজ-টিভি কেনার সময় বিকাশ পেমেন্ট করে কুপন ব্যবহার করা যাবে। ক্যাম্পেইনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বিকাশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ এবং ওয়েবসাইটের https://www.bkash.com/page/rem-eid-anondo-june লিঙ্কে।
বিকাশে রেমিট্যান্স নিয়ে ফ্রিজ-টিভি জেতার সুযোগ
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ঢাকা চেম্বারের
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সমাজ। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ চায়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এখন অত্যাবশ্যক। গতকাল বুধবার ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার আবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘যে ব্যবসায়ী প্রতিদিন নিজের কারখানা বা দোকান নিয়ে নিরাপত্তা-সংকটে থাকেন, যার পণ্য পরিবহনে ছিনতাইয়ের ভয় থাকে, অথবা যে ই-কমার্স উদ্যোক্তা প্রতারণার শিকার হয়ে দ্রুত প্রতিকার পান না, তিনি কখনোই বড় পরিসরে বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন না।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বাস্তবধর্মী অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, যাতে ব্যবসাবান্ধব আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নিশ্চিত হয়। এ লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভা একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে খোলামেলা আলোচনা ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উদ্যোক্তারা নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমন অনিরাপদ পরিবেশ, চাঁদাবাজি, প্রতারণামূলক অনলাইন কার্যক্রম, পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি, জালিয়াতি ও সাইবার হুমকি। এ সবকিছু কেবল বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে না, অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা স্থায়ীভাবে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।’ এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ন্যায্য প্রত্যাশা হলো তারা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নভাবে ব্যবসা করতে পারেন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নগর প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।’
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ঢাকা চেম্বারের
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটছে না
গাজীপুরে কারখানাগুলোয় গ্যাস সংকট থাকায় মারাত্মকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে লোডশেডিং। জেলার তিন শতাধিক ডাইং কারখানাসহ বেশিরভাগ কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎনির্ভর। তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে কারখানার মালিকরা। ফলে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারে খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কমছে উৎপাদন সক্ষমতা। এমন পরিস্থিতিতে কারখানা সচল রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকট নিরসনে তারা কাজ করছেন। জানা গেছে, গাজীপুরের শিল্পকারখানার বেশিরভাগ তৈরি পোশাক শিল্প। এ ছাড়া ওষুধ, চামড়া, সিরামিকের কারখানা রয়েছে। শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গাজীপুরে মোট তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৭৬টি। নিবন্ধনবিহীন কারখানাসহ সব মিলিয়ে গাজীপুরে পাঁচ হাজারের মতো ছোট-বড় কারখানা আছে। যার বেশিরভাগই গ্যাসের ওপর নির্ভর। এসব কারখানার মধ্যে ডাইং কারখানার প্রধান যন্ত্রাংশ বয়লার সচল রাখার জন্য যেখানে ন্যূনতম ৩ পিএসআই (প্রেশার পার স্কয়ার ইঞ্চি) গ্যাসের সরবরাহ দরকার, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ পিএসআই। এই মাত্রায় গ্যাস সরবরাহে কারখানার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অবস্থাও খারাপ। ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস পাইপলাইনে চাপ কমে গেছে। গ্যাসের চাপ যেখানে থাকার কথা ছিল ১৫ পিএসআই, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১ পিএসআইয়ের নিচে। এ ছাড়া দিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলোর সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে না শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় সময়মতো পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সাদমা গ্রুপের পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, গ্যাস সংকট জেলার প্রায় সব কারখানায় রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে ঈদে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সময়মতো বিদেশি শিপমেন্ট পাঠাতে না পারলে অর্ডার ঝুঁকিতে পড়বে। ইয়ন নিট কম্পোজিট কারখানার চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ৩০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে, খরচ বেড়ে গেছে ৪০ ভাগ। এমনিতে বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা কারণে দেশের শিল্পকারখানার অবস্থা ভালো নয়। এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নিজেদের সঙ্গে নিজেদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ম্যাট অটোমেশন কারখানার উদ্যোক্তা আহমেদ টিপু বলেন, দিনে ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। সময়মতো পণ্য দিতে পারছি না। এ অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে সরকার প্রণোদনা দিলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও চাপ অনেকটা কমে যেত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকট, মূল্যবৃদ্ধিসহ নানামুখী প্রতিকূলতার কারণে তৈরি পোশাক শিল্প জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছরে নানা কারণে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পথে। অনেকে বিকল্প উপায়ে বেশি খরচ করে ডিজেল জেনারেটরে উৎপাদন চালু রাখলেও রপ্তানিতে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় কারখানা বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান তিনি। গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে গাজীপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সুরুয আলম বলেন, গাজীপুরে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা আছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে অনেক জায়গায় গ্যাসের চাপ কম রয়েছে। সংকট নিরসনে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে, গ্যাস লাইনে সরবরাহ বাড়লে এ সমস্যার সমাধান হবে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, কড্ডা গ্রিডে সমস্যা থাকায় জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে আগামী মাসে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটছে না
শ্রম আইন লঙ্ঘনে কুমিল্লায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
বাংলাদেশে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা একটি মামলায় বাঙ্গরা গ্যাস প্রসেসিং ফ্যাসিলিটির মহাব্যবস্থাপক ব্রিটিশ নাগরিক এডউইন জর্জ বোলসকে ৪০ হাজার অর্থদণ্ড দিয়েছেন শ্রম আদালত। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে চিহ্নিত সমস্যা সমাধানের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) হাবিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। শ্রম আদালত সূত্র জানায়, তাল্লো বাংলাদেশ লিমিটেড (ত্রিশ এনার্জি গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান) বাঙ্গরা গ্যাস প্রসেসিং ফ্যাসিলিটি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে অনিয়ম করে আসছে।
শ্রম আইন লঙ্ঘনে কুমিল্লায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
বিকাশে রেমিট্যান্স নিয়ে ফ্রিজ-টিভি জেতার সুযোগ
বিকাশে রেমিট্যান্স নিয়ে ফ্রিজ-টিভি জেতার সুযোগ
ঈদে বিকাশ অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স নিয়ে রয়েছে হাইসেন্স ডিপ ফ্রিজ ও স্মার্ট টিভি জেতার সুযোগ। আগামী ৫ জুন পর্যন্ত চলা বিশেষ ক্যাম্পেইনে ১০ হাজার বা এর বেশি টাকার রেমিট্যান্স গ্রহণ করলেই প্রবাসীর স্বজনরা পাবেন ৫০০ টাকার ডিসকাউন্ট কুপন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পাবেন একটি হাইসেন্স ডিপ ফ্রিজ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পাবেন একটি ৪৩ ইঞ্চি হাইসেন্স স্মার্ট টিভি। প্রতিদিন ফ্রিজ ও টিভি বিজয়ীসহ সব বিজয়ীর কুপনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে। একজন গ্রাহক ক্যাম্পেইন চলাকালে একবারই ফ্রিজ বা টিভি ও ডিসকাউন্ট কুপন পাবেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স স্মার্ট প্লাজা থেকে হাইসেন্স ফ্রিজ-টিভি কেনার সময় বিকাশ পেমেন্ট করে কুপন ব্যবহার করা যাবে। ক্যাম্পেইনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বিকাশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ এবং ওয়েবসাইটের https://www.bkash.com/page/rem-eid-anondo-june লিঙ্কে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ঢাকা চেম্বারের
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ঢাকা চেম্বারের
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সমাজ। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ চায়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এখন অত্যাবশ্যক। গতকাল বুধবার ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার আবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘যে ব্যবসায়ী প্রতিদিন নিজের কারখানা বা দোকান নিয়ে নিরাপত্তা-সংকটে থাকেন, যার পণ্য পরিবহনে ছিনতাইয়ের ভয় থাকে, অথবা যে ই-কমার্স উদ্যোক্তা প্রতারণার শিকার হয়ে দ্রুত প্রতিকার পান না, তিনি কখনোই বড় পরিসরে বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন না।’ তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বাস্তবধর্মী অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, যাতে ব্যবসাবান্ধব আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নিশ্চিত হয়। এ লক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভা একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে খোলামেলা আলোচনা ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উদ্যোক্তারা নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমন অনিরাপদ পরিবেশ, চাঁদাবাজি, প্রতারণামূলক অনলাইন কার্যক্রম, পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি, জালিয়াতি ও সাইবার হুমকি। এ সবকিছু কেবল বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে না, অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা স্থায়ীভাবে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।’ এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ন্যায্য প্রত্যাশা হলো তারা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নভাবে ব্যবসা করতে পারেন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নগর প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।’
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটছে না
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটছে না
গাজীপুরে কারখানাগুলোয় গ্যাস সংকট থাকায় মারাত্মকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে লোডশেডিং। জেলার তিন শতাধিক ডাইং কারখানাসহ বেশিরভাগ কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎনির্ভর। তীব্র গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে কারখানার মালিকরা। ফলে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারে খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। কমছে উৎপাদন সক্ষমতা। এমন পরিস্থিতিতে কারখানা সচল রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকট নিরসনে তারা কাজ করছেন। জানা গেছে, গাজীপুরের শিল্পকারখানার বেশিরভাগ তৈরি পোশাক শিল্প। এ ছাড়া ওষুধ, চামড়া, সিরামিকের কারখানা রয়েছে। শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গাজীপুরে মোট তৈরি পোশাক কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৭৬টি। নিবন্ধনবিহীন কারখানাসহ সব মিলিয়ে গাজীপুরে পাঁচ হাজারের মতো ছোট-বড় কারখানা আছে। যার বেশিরভাগই গ্যাসের ওপর নির্ভর। এসব কারখানার মধ্যে ডাইং কারখানার প্রধান যন্ত্রাংশ বয়লার সচল রাখার জন্য যেখানে ন্যূনতম ৩ পিএসআই (প্রেশার পার স্কয়ার ইঞ্চি) গ্যাসের সরবরাহ দরকার, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ পিএসআই। এই মাত্রায় গ্যাস সরবরাহে কারখানার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সময় বসে থাকতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অবস্থাও খারাপ। ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস পাইপলাইনে চাপ কমে গেছে। গ্যাসের চাপ যেখানে থাকার কথা ছিল ১৫ পিএসআই, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১ পিএসআইয়ের নিচে। এ ছাড়া দিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলোর সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে না শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় সময়মতো পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সাদমা গ্রুপের পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, গ্যাস সংকট জেলার প্রায় সব কারখানায় রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে ঈদে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সময়মতো বিদেশি শিপমেন্ট পাঠাতে না পারলে অর্ডার ঝুঁকিতে পড়বে। ইয়ন নিট কম্পোজিট কারখানার চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ৩০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে, খরচ বেড়ে গেছে ৪০ ভাগ। এমনিতে বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা কারণে দেশের শিল্পকারখানার অবস্থা ভালো নয়। এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নিজেদের সঙ্গে নিজেদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ম্যাট অটোমেশন কারখানার উদ্যোক্তা আহমেদ টিপু বলেন, দিনে ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। সময়মতো পণ্য দিতে পারছি না। এ অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে সরকার প্রণোদনা দিলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও চাপ অনেকটা কমে যেত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকট, মূল্যবৃদ্ধিসহ নানামুখী প্রতিকূলতার কারণে তৈরি পোশাক শিল্প জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছরে নানা কারণে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পথে। অনেকে বিকল্প উপায়ে বেশি খরচ করে ডিজেল জেনারেটরে উৎপাদন চালু রাখলেও রপ্তানিতে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় কারখানা বাঁচাতে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান তিনি। গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে গাজীপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সুরুয আলম বলেন, গাজীপুরে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা আছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে অনেক জায়গায় গ্যাসের চাপ কম রয়েছে। সংকট নিরসনে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে, গ্যাস লাইনে সরবরাহ বাড়লে এ সমস্যার সমাধান হবে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, কড্ডা গ্রিডে সমস্যা থাকায় জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে আগামী মাসে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
শ্রম আইন লঙ্ঘনে কুমিল্লায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
শ্রম আইন লঙ্ঘনে কুমিল্লায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
বাংলাদেশে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা একটি মামলায় বাঙ্গরা গ্যাস প্রসেসিং ফ্যাসিলিটির মহাব্যবস্থাপক ব্রিটিশ নাগরিক এডউইন জর্জ বোলসকে ৪০ হাজার অর্থদণ্ড দিয়েছেন শ্রম আদালত। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে চিহ্নিত সমস্যা সমাধানের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) হাবিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। শ্রম আদালত সূত্র জানায়, তাল্লো বাংলাদেশ লিমিটেড (ত্রিশ এনার্জি গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান) বাঙ্গরা গ্যাস প্রসেসিং ফ্যাসিলিটি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে অনিয়ম করে আসছে।