ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

কালবেলা ডেস্ক

  ২৩ মে ২০২৫, ১৫:৩৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তবে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হবে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শুক্রবার (২৩ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তবে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হবে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এ ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র আজ পঞ্চম দফায় পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। এই আলোচনার মূল বিষয় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে গভীর মতপার্থক্য, যা ওয়াশিংটনের মতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে, তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিপ্রায় অস্বীকার করে আসছে এবং জোর দিয়ে বলছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ইসরায়েলের যে কোনো দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে ইরান কঠোর সতর্কবার্তা জারি করছে এবং এই শাসনের যে কোনো হুমকি বা বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, ইসরায়েলের হুমকি অব্যাহত থাকলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে, যা না হলে ইরানকে তার পারমাণবিক স্থাপনা ও উপকরণ রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।

আরাঘচি জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো হামলায় তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অংশগ্রহণকারী’ হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, আমাদের পদক্ষেপের ধরন, বিষয়বস্তু এবং পরিধি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গৃহীত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সমানুপাতিক হবে।

মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কর্মকর্তারা বারবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন, যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।

শুক্রবার রোমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পঞ্চম দফা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত বা বন্ধ করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। ইসরায়েল বারবার এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যদি ইরানে হামলা চালায় তবে তারা ‘ধ্বংসাত্মক ও দৃঢ় জবাব’ দেবে। আইআরজিসির মুখপাত্র আলিমোহাম্মদ নাইনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেন, তারা যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে আমাদের ভীত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তারা ভুল হিসেব করছে।

মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
ব্রিটিশ ডানপন্থি সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স-এর মালিকানায় যাচ্ছে। শুক্রবার উভয়পক্ষ একটি নীতিগত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানায় দ্য টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ (টিএমজি)। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রেডবার্ড টিএমজি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৭০ বছর পুরনো এই পত্রিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য টেলিগ্রাফ বর্তমানে মুদ্রণ সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আবুধাবি-ভিত্তিক রেডবার্ড আইএমআই দ্য টেলিগ্রাফ কেনার চেষ্টা করেছিল। তবে, তখন ব্রিটেনের রক্ষণশীল সরকার চুক্তিতে আপত্তি জানায়। কারণ, আবুধাবির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অতীত রেকর্ড দেখে যুক্তরাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তৎক্ষণাৎ নতুন নিলামের উদ্যোগ নেয়। এবারের চুক্তি নিয়ে রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স জানায়, এই অধিগ্রহণ কেবল মালিকানা পরিবর্তন নয়, বরং দ্য টেলিগ্রাফের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার এক নতুন যুগের সূচনা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল কার্যক্রম, সাবস্ক্রিপশন মডেল এবং সাংবাদিকতায় মূলধন বিনিয়োগ বাড়াবে এবং সংবাদপত্রটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। রেডবার্ড আরও জানিয়েছে, তারা দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদনা স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় রয়েছে।
মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।  চলমান বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর বিবিসি। ট্রাম্প বলেন, তাদের (ইইউ) সঙ্গে আমাদের আলোচনা কোনো দিশা পাচ্ছে না। তাই ইউরোপ থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণাকে বিশ্লেষককরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা ইইউ-ভিত্তিক ব্যবসাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধু ইউরোপীয় পণ্য নয়, ট্রাম্পের নজরে রয়েছে প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট অ্যাপলও। তিনি বলেন, যেসব আইফোন আমেরিকায় তৈরি হয় না, সেগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। ট্রাম্প আরও জানান, আমি অনেক আগেই অ্যাপলের সিইও টিম কুককে বলেছি, আমি চাই আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হোক- ভারত বা অন্য কোথাও নয়। যদি তা না হয়, তাহলে অ্যাপলকে শুল্ক দিতে হবে। ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি এমন সময় এলো, যখন তিনি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, চীন এবং প্রযুক্তি খাতের জন্য এই পরিবর্তন হতে পারে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ইইউ এখনো এই শুল্ক হুমকির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা পাল্টা জবাব দেবে বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
৪০ কোটি ডলারের ‘উপহার’ পেয়ে বিপাকে ট্রাম্প
কাতারের রাজ পরিবারের দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ ‘উপহার’ হিসেবে নিয়ে কড়া রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবকিছু আইন মেনেই হয়েছে, তবে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই এত বড় উপহার নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পেন্টাগন জানিয়েছে, গত ২১ মে বিমানটি গ্রহণ করেছে মার্কিন সরকার এবং এটিকে প্রেসিডেন্ট পরিবহনের উপযোগী করে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ রূপান্তর করা হবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিমানটি তার ব্যক্তিগত নয়, বরং প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য, এবং তিনি মেয়াদ শেষে এটি ব্যবহার করবেন না। তবু বিতর্ক থামছে না। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন বলেন, কেউই বিনা স্বার্থে ৪০ কোটি ডলারের উপহার দেয় না। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো প্রত্যাশা রয়েছে। সমালোচনা এসেছে ট্রাম্পের নিজের দল থেকেও। রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল বলেছেন, বিষয়টি আইনগত হলেও এটা নৈতিক প্রশ্ন তোলে। কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদের অবস্থান কতটা নিরপেক্ষ থাকবে?  আরেক সিনেটর টেড ক্রুজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সরকার বা সরকারি ব্যক্তি কোনো বিদেশি উপহার গ্রহণ করতে পারে না। এই বিমানের ক্ষেত্রে এখনও কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি—এমনটি নিশ্চিত করেছে একাধিক আইনপ্রণেতা।  
৪০ কোটি ডলারের ‘উপহার’ পেয়ে বিপাকে ট্রাম্প
দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরানবিরোধী মার্কিন জোট 
ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরোধীদের অবস্থান এখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট বলছে, এ বিরোধিতা এখন মূলত কিছু রক্ষণশীল রাজনীতিক ও ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তেহরান টাইমসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ, এমনকি রিপাবলিকানরাও ইরান নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তাই ট্রাম্প যদি শুধু এই চরমপন্থিদের কথা শুনে চলেন, তবে তা তার রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। নব্য রক্ষণশীলদের চরম দাবি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কিছু চরমপন্থি নেতা চাচ্ছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে। তবে অনেক বিশ্লেষকই এই দাবি অবাস্তব ও উসকানিমূলক বলছেন। গবেষক সিনা তুসি মন্তব্য করেছেন, এসব দাবির পেছনে উদ্দেশ্য হলো আলোচনার পথ রুদ্ধ করা। মার্কিন জনমত: সমঝোতার পক্ষে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক এবং ৬৪ শতাংশ রিপাবলিকান ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তির পক্ষে। কিন্তু যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। ট্রাম্প শিবিরেই মতভেদ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যেমন স্টিভ ব্যানন, মার্জোরি টেলর গ্রিন ও টাকার কার্লসন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চান না। তাদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান বদলেছে সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র, যারা আগে ইরান-বিরোধী ছিল, এখন ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই তারা এই অবস্থান নিচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তি: যুদ্ধ ছাড়াই সমাধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প চাইলে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন যা ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তবে সেটা হতে হবে ইরানের পুরো কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি ছাড়াই। যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীগুলো ভুল তথ্য দিয়ে এ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরানবিরোধী মার্কিন জোট 
বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়েছে, না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা হারাতে পারে। মার্কিন সরকারের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, হার্ভার্ড বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টি সহিংসতা, ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে মিলে কাজ করে। ডিএসইচএস সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ কোনো অধিকার নয়, এটি একটি সুবিধা মাত্র।’ হার্ভার্ড এই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ ও প্রতিশোধমূলক’ বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘১৪০টির বেশি দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আমাদের ক্যাম্পাস ও জাতিকে সমৃদ্ধ করে। আমরা তাদের পাশে আছি।’ এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের হার্ভার্ডবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগেও হার্ভার্ডকে ‘বামপন্থী’ বলে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। গত মাসে ফেডারেল তহবিল বরাদ্দ নিয়েও সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে পরিবর্তন, বৈচিত্র্য বিষয়ক দপ্তর বন্ধ, এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য অভিবাসন বিভাগকে দেওয়া। এই তহবিল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হার্ভার্ড আদালতে মামলা করেছে।
বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
ব্রিটিশ ডানপন্থি সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স-এর মালিকানায় যাচ্ছে। শুক্রবার উভয়পক্ষ একটি নীতিগত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানায় দ্য টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ (টিএমজি)। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রেডবার্ড টিএমজি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৭০ বছর পুরনো এই পত্রিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য টেলিগ্রাফ বর্তমানে মুদ্রণ সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আবুধাবি-ভিত্তিক রেডবার্ড আইএমআই দ্য টেলিগ্রাফ কেনার চেষ্টা করেছিল। তবে, তখন ব্রিটেনের রক্ষণশীল সরকার চুক্তিতে আপত্তি জানায়। কারণ, আবুধাবির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অতীত রেকর্ড দেখে যুক্তরাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তৎক্ষণাৎ নতুন নিলামের উদ্যোগ নেয়। এবারের চুক্তি নিয়ে রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স জানায়, এই অধিগ্রহণ কেবল মালিকানা পরিবর্তন নয়, বরং দ্য টেলিগ্রাফের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার এক নতুন যুগের সূচনা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল কার্যক্রম, সাবস্ক্রিপশন মডেল এবং সাংবাদিকতায় মূলধন বিনিয়োগ বাড়াবে এবং সংবাদপত্রটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। রেডবার্ড আরও জানিয়েছে, তারা দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদনা স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় রয়েছে।
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।  চলমান বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর বিবিসি। ট্রাম্প বলেন, তাদের (ইইউ) সঙ্গে আমাদের আলোচনা কোনো দিশা পাচ্ছে না। তাই ইউরোপ থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণাকে বিশ্লেষককরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা ইইউ-ভিত্তিক ব্যবসাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধু ইউরোপীয় পণ্য নয়, ট্রাম্পের নজরে রয়েছে প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট অ্যাপলও। তিনি বলেন, যেসব আইফোন আমেরিকায় তৈরি হয় না, সেগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। ট্রাম্প আরও জানান, আমি অনেক আগেই অ্যাপলের সিইও টিম কুককে বলেছি, আমি চাই আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হোক- ভারত বা অন্য কোথাও নয়। যদি তা না হয়, তাহলে অ্যাপলকে শুল্ক দিতে হবে। ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি এমন সময় এলো, যখন তিনি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, চীন এবং প্রযুক্তি খাতের জন্য এই পরিবর্তন হতে পারে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ইইউ এখনো এই শুল্ক হুমকির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা পাল্টা জবাব দেবে বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
৪০ কোটি ডলারের ‘উপহার’ পেয়ে বিপাকে ট্রাম্প
৪০ কোটি ডলারের ‘উপহার’ পেয়ে বিপাকে ট্রাম্প
কাতারের রাজ পরিবারের দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ ‘উপহার’ হিসেবে নিয়ে কড়া রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবকিছু আইন মেনেই হয়েছে, তবে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই এত বড় উপহার নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পেন্টাগন জানিয়েছে, গত ২১ মে বিমানটি গ্রহণ করেছে মার্কিন সরকার এবং এটিকে প্রেসিডেন্ট পরিবহনের উপযোগী করে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ রূপান্তর করা হবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিমানটি তার ব্যক্তিগত নয়, বরং প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য, এবং তিনি মেয়াদ শেষে এটি ব্যবহার করবেন না। তবু বিতর্ক থামছে না। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন বলেন, কেউই বিনা স্বার্থে ৪০ কোটি ডলারের উপহার দেয় না। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো প্রত্যাশা রয়েছে। সমালোচনা এসেছে ট্রাম্পের নিজের দল থেকেও। রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল বলেছেন, বিষয়টি আইনগত হলেও এটা নৈতিক প্রশ্ন তোলে। কাতারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদের অবস্থান কতটা নিরপেক্ষ থাকবে?  আরেক সিনেটর টেড ক্রুজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সরকার বা সরকারি ব্যক্তি কোনো বিদেশি উপহার গ্রহণ করতে পারে না। এই বিমানের ক্ষেত্রে এখনও কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি—এমনটি নিশ্চিত করেছে একাধিক আইনপ্রণেতা।  
দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরানবিরোধী মার্কিন জোট 
দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরানবিরোধী মার্কিন জোট 
ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরোধীদের অবস্থান এখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট বলছে, এ বিরোধিতা এখন মূলত কিছু রক্ষণশীল রাজনীতিক ও ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তেহরান টাইমসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ, এমনকি রিপাবলিকানরাও ইরান নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তাই ট্রাম্প যদি শুধু এই চরমপন্থিদের কথা শুনে চলেন, তবে তা তার রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। নব্য রক্ষণশীলদের চরম দাবি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কিছু চরমপন্থি নেতা চাচ্ছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে। তবে অনেক বিশ্লেষকই এই দাবি অবাস্তব ও উসকানিমূলক বলছেন। গবেষক সিনা তুসি মন্তব্য করেছেন, এসব দাবির পেছনে উদ্দেশ্য হলো আলোচনার পথ রুদ্ধ করা। মার্কিন জনমত: সমঝোতার পক্ষে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক এবং ৬৪ শতাংশ রিপাবলিকান ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তির পক্ষে। কিন্তু যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন। ট্রাম্প শিবিরেই মতভেদ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যেমন স্টিভ ব্যানন, মার্জোরি টেলর গ্রিন ও টাকার কার্লসন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চান না। তাদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান বদলেছে সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র, যারা আগে ইরান-বিরোধী ছিল, এখন ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই তারা এই অবস্থান নিচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তি: যুদ্ধ ছাড়াই সমাধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প চাইলে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন যা ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তবে সেটা হতে হবে ইরানের পুরো কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি ছাড়াই। যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীগুলো ভুল তথ্য দিয়ে এ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।