ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরানবিরোধী মার্কিন জোট 

অনলাইন ডেস্ক
  ২৩ মে ২০২৫, ১১:২৫
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরোধীদের অবস্থান এখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট বলছে, এ বিরোধিতা এখন মূলত কিছু রক্ষণশীল রাজনীতিক ও ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তেহরান টাইমসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ, এমনকি রিপাবলিকানরাও ইরান নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তাই ট্রাম্প যদি শুধু এই চরমপন্থিদের কথা শুনে চলেন, তবে তা তার রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নব্য রক্ষণশীলদের চরম দাবি

ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কিছু চরমপন্থি নেতা চাচ্ছেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে। তবে অনেক বিশ্লেষকই এই দাবি অবাস্তব ও উসকানিমূলক বলছেন। গবেষক সিনা তুসি মন্তব্য করেছেন, এসব দাবির পেছনে উদ্দেশ্য হলো আলোচনার পথ রুদ্ধ করা।

মার্কিন জনমত: সমঝোতার পক্ষে

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক এবং ৬৪ শতাংশ রিপাবলিকান ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তির পক্ষে। কিন্তু যারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছেন।

ট্রাম্প শিবিরেই মতভেদ

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যেমন স্টিভ ব্যানন, মার্জোরি টেলর গ্রিন ও টাকার কার্লসন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চান না। তাদের মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান বদলেছে

সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র, যারা আগে ইরান-বিরোধী ছিল, এখন ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থেই তারা এই অবস্থান নিচ্ছে।

সম্ভাব্য চুক্তি: যুদ্ধ ছাড়াই সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প চাইলে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন যা ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তবে সেটা হতে হবে ইরানের পুরো কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি ছাড়াই। যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীগুলো ভুল তথ্য দিয়ে এ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
ব্রিটিশ ডানপন্থি সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স-এর মালিকানায় যাচ্ছে। শুক্রবার উভয়পক্ষ একটি নীতিগত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানায় দ্য টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ (টিএমজি)। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রেডবার্ড টিএমজি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৭০ বছর পুরনো এই পত্রিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য টেলিগ্রাফ বর্তমানে মুদ্রণ সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আবুধাবি-ভিত্তিক রেডবার্ড আইএমআই দ্য টেলিগ্রাফ কেনার চেষ্টা করেছিল। তবে, তখন ব্রিটেনের রক্ষণশীল সরকার চুক্তিতে আপত্তি জানায়। কারণ, আবুধাবির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অতীত রেকর্ড দেখে যুক্তরাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তৎক্ষণাৎ নতুন নিলামের উদ্যোগ নেয়। এবারের চুক্তি নিয়ে রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স জানায়, এই অধিগ্রহণ কেবল মালিকানা পরিবর্তন নয়, বরং দ্য টেলিগ্রাফের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার এক নতুন যুগের সূচনা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল কার্যক্রম, সাবস্ক্রিপশন মডেল এবং সাংবাদিকতায় মূলধন বিনিয়োগ বাড়াবে এবং সংবাদপত্রটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। রেডবার্ড আরও জানিয়েছে, তারা দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদনা স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় রয়েছে।
মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।  চলমান বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর বিবিসি। ট্রাম্প বলেন, তাদের (ইইউ) সঙ্গে আমাদের আলোচনা কোনো দিশা পাচ্ছে না। তাই ইউরোপ থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণাকে বিশ্লেষককরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা ইইউ-ভিত্তিক ব্যবসাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধু ইউরোপীয় পণ্য নয়, ট্রাম্পের নজরে রয়েছে প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট অ্যাপলও। তিনি বলেন, যেসব আইফোন আমেরিকায় তৈরি হয় না, সেগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। ট্রাম্প আরও জানান, আমি অনেক আগেই অ্যাপলের সিইও টিম কুককে বলেছি, আমি চাই আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হোক- ভারত বা অন্য কোথাও নয়। যদি তা না হয়, তাহলে অ্যাপলকে শুল্ক দিতে হবে। ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি এমন সময় এলো, যখন তিনি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, চীন এবং প্রযুক্তি খাতের জন্য এই পরিবর্তন হতে পারে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ইইউ এখনো এই শুল্ক হুমকির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা পাল্টা জবাব দেবে বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
ঘুম থেকে উঠেই বাসার সামনে দেখল বড় কার্গো জাহাজ
ঘুম থেকে উঠেই অবাক কাণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন নরওয়ের এক বাসিন্দা। তিনি জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার বাড়ির সামনের বাগানে আটকে রয়েছে বিরাট এক কন্টেইনারবাহী জাহাজ। তবে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।  শুক্রবার (২৩ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় হান হেলবার্গ নামে নরওয়ের এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে এসে আটকে যায়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩৫ মিটার। তবে এতে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে তিনি নিজে বেঁচে গিয়েছেন।  হেলবার্গকে এই ঘটনার বিষয়ে সতর্ক করেন তার প্রতিবেশী। তিনি জাহাজটিকে সরাসরি তীরের দিকে আসতে দেখেছিলেন। হেলবার্গ টিভি২-কে বলেন,  তিনি যখন আমার দরজায় বেল বাজিয়েছিলেন তখন আমি দরজা খুলতে পছন্দ করি না। তিনি গার্ডিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি জানালার কাছে গিয়ে একটি বিশাল জাহাজ দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। এটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমাকে ঘাড় বাঁকিয়ে জাহাজের উপরের অংশ দেখতে হয়েছে। নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আরও পাঁচ মিটার দক্ষিণে হলে এটি আমার শোবার ঘরে ঢুকে যেত। আমি কিছুই শুনিনি। প্রতিবেশী জোস্টেইন জর্গেনসেন বলেন, তিনি জাহাজটির শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন যখন এটি পূর্ণ গতিতে তীরের দিকে আসছিল। তখন তিনি হেলবার্গের বাড়িতে ছুটে যান। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি ইতিমধ্যে বাইরে আছেন, কিন্তু না, কোনো জীবনের চিহ্ন ছিল না। আমি বারবার দরজার বেল বাজালাম, কিন্তু কিছুই হলো না। পরে ফোনে কল করার পরই আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এই কার্গো জাহাজ এনসিএল সালটেন  ট্রন্ডহেইম ফজর্ড দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে ওরকাঙ্গারের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়।  এ সময় জাহাজে ১৬ জন লোক ছিল। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় নরওয়েজিয়ান পুলিশ তদন্ত করছে। জাহাজটি ২০২৩ সালে এর আগেও আটকে গিয়েছিল, তবে নিজের শক্তিতে মুক্ত হতে পেরেছিল।
ঘুম থেকে উঠেই বাসার সামনে দেখল বড় কার্গো জাহাজ
নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালির দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব নিয়ে দুঃসংবাদ দিয়েছে ইতালি। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ভাষা বা সংস্কৃতি না জানা বিদেশে বসবাসরত ইতালীয়দের বংশধররা খুব সহজে নাগরিকত্ব পাবেন না।  সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির সরকার চলতি সপ্তাহে একটি নতুন আইন কার্যকর করেছে। এ আইনে যা পূর্বপুরুষের মাধ্যমে ইতালীয় নাগরিকত্ব দাবি করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে যারা ইতিমধ্যে নথিপত্র সংগ্রহ, অনুবাদ ও নোটারি করতে অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন, তাদের আশা ভঙ্গ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থি সরকার মার্চ মাসে এই আইন প্রস্তাব করেছিল। গত মঙ্গলবার (২০ মে) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইন অনুসারে, জুস স্যাঙ্গুইনিস (রক্তের বংশধর) নীতির অধীনে এখন শুধু যাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি ইতালীয় নাগরিক ছিলেন, তারাই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮ কোটি মানুষ ইতালীয় বংশোদ্ভূত। যারা তাদের প্রপিতামহ-প্রপিতামহীর ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র প্রস্তুত করেছিলেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন একটি বড় ধাক্কা। এখন তাদের ইতালিতে বসবাস করে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে, যা মেলোনির সরকারের কঠোর ভিসা নীতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া আগামী ৮ ও ৯ জুন ইতালিতে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট হবে। বর্তমানে, ইইউবহির্ভূত নাগরিকদের ১০ বছরের বৈধ বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। গণভোটে এই সময়সীমা ৫ বছরে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি এটি ব্যর্থ হয়, তবে আরেকটি গণভোটের মাধ্যমে বসবাসের সময়সীমা ১২ বছরে বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে।
নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালির দুঃসংবাদ
মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
মার্কিন মালিকানায় গেল দ্য টেলিগ্রাফ
ব্রিটিশ ডানপন্থি সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স-এর মালিকানায় যাচ্ছে। শুক্রবার উভয়পক্ষ একটি নীতিগত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানায় দ্য টেলিগ্রাফ মিডিয়া গ্রুপ (টিএমজি)। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রেডবার্ড টিএমজি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৭০ বছর পুরনো এই পত্রিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য টেলিগ্রাফ বর্তমানে মুদ্রণ সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আবুধাবি-ভিত্তিক রেডবার্ড আইএমআই দ্য টেলিগ্রাফ কেনার চেষ্টা করেছিল। তবে, তখন ব্রিটেনের রক্ষণশীল সরকার চুক্তিতে আপত্তি জানায়। কারণ, আবুধাবির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অতীত রেকর্ড দেখে যুক্তরাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তৎক্ষণাৎ নতুন নিলামের উদ্যোগ নেয়। এবারের চুক্তি নিয়ে রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স জানায়, এই অধিগ্রহণ কেবল মালিকানা পরিবর্তন নয়, বরং দ্য টেলিগ্রাফের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার এক নতুন যুগের সূচনা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল কার্যক্রম, সাবস্ক্রিপশন মডেল এবং সাংবাদিকতায় মূলধন বিনিয়োগ বাড়াবে এবং সংবাদপত্রটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। রেডবার্ড আরও জানিয়েছে, তারা দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদনা স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় রয়েছে।
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
আইফোনসহ ইউরোপীয় পণ্যে ৫০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।  চলমান বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর বিবিসি। ট্রাম্প বলেন, তাদের (ইইউ) সঙ্গে আমাদের আলোচনা কোনো দিশা পাচ্ছে না। তাই ইউরোপ থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণাকে বিশ্লেষককরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা ইইউ-ভিত্তিক ব্যবসাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধু ইউরোপীয় পণ্য নয়, ট্রাম্পের নজরে রয়েছে প্রযুক্তি খাতের জায়ান্ট অ্যাপলও। তিনি বলেন, যেসব আইফোন আমেরিকায় তৈরি হয় না, সেগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। ট্রাম্প আরও জানান, আমি অনেক আগেই অ্যাপলের সিইও টিম কুককে বলেছি, আমি চাই আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হোক- ভারত বা অন্য কোথাও নয়। যদি তা না হয়, তাহলে অ্যাপলকে শুল্ক দিতে হবে। ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি এমন সময় এলো, যখন তিনি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, চীন এবং প্রযুক্তি খাতের জন্য এই পরিবর্তন হতে পারে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ইইউ এখনো এই শুল্ক হুমকির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা পাল্টা জবাব দেবে বলেই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
ঘুম থেকে উঠেই বাসার সামনে দেখল বড় কার্গো জাহাজ
ঘুম থেকে উঠেই বাসার সামনে দেখল বড় কার্গো জাহাজ
ঘুম থেকে উঠেই অবাক কাণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন নরওয়ের এক বাসিন্দা। তিনি জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার বাড়ির সামনের বাগানে আটকে রয়েছে বিরাট এক কন্টেইনারবাহী জাহাজ। তবে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।  শুক্রবার (২৩ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় হান হেলবার্গ নামে নরওয়ের এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে এসে আটকে যায়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩৫ মিটার। তবে এতে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে তিনি নিজে বেঁচে গিয়েছেন।  হেলবার্গকে এই ঘটনার বিষয়ে সতর্ক করেন তার প্রতিবেশী। তিনি জাহাজটিকে সরাসরি তীরের দিকে আসতে দেখেছিলেন। হেলবার্গ টিভি২-কে বলেন,  তিনি যখন আমার দরজায় বেল বাজিয়েছিলেন তখন আমি দরজা খুলতে পছন্দ করি না। তিনি গার্ডিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি জানালার কাছে গিয়ে একটি বিশাল জাহাজ দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। এটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে আমাকে ঘাড় বাঁকিয়ে জাহাজের উপরের অংশ দেখতে হয়েছে। নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আরও পাঁচ মিটার দক্ষিণে হলে এটি আমার শোবার ঘরে ঢুকে যেত। আমি কিছুই শুনিনি। প্রতিবেশী জোস্টেইন জর্গেনসেন বলেন, তিনি জাহাজটির শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন যখন এটি পূর্ণ গতিতে তীরের দিকে আসছিল। তখন তিনি হেলবার্গের বাড়িতে ছুটে যান। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি ইতিমধ্যে বাইরে আছেন, কিন্তু না, কোনো জীবনের চিহ্ন ছিল না। আমি বারবার দরজার বেল বাজালাম, কিন্তু কিছুই হলো না। পরে ফোনে কল করার পরই আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এই কার্গো জাহাজ এনসিএল সালটেন  ট্রন্ডহেইম ফজর্ড দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে ওরকাঙ্গারের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়।  এ সময় জাহাজে ১৬ জন লোক ছিল। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় নরওয়েজিয়ান পুলিশ তদন্ত করছে। জাহাজটি ২০২৩ সালে এর আগেও আটকে গিয়েছিল, তবে নিজের শক্তিতে মুক্ত হতে পেরেছিল।
নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালির দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালির দুঃসংবাদ
নাগরিকত্ব নিয়ে দুঃসংবাদ দিয়েছে ইতালি। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ভাষা বা সংস্কৃতি না জানা বিদেশে বসবাসরত ইতালীয়দের বংশধররা খুব সহজে নাগরিকত্ব পাবেন না।  সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির সরকার চলতি সপ্তাহে একটি নতুন আইন কার্যকর করেছে। এ আইনে যা পূর্বপুরুষের মাধ্যমে ইতালীয় নাগরিকত্ব দাবি করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে যারা ইতিমধ্যে নথিপত্র সংগ্রহ, অনুবাদ ও নোটারি করতে অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন, তাদের আশা ভঙ্গ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থি সরকার মার্চ মাসে এই আইন প্রস্তাব করেছিল। গত মঙ্গলবার (২০ মে) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইন অনুসারে, জুস স্যাঙ্গুইনিস (রক্তের বংশধর) নীতির অধীনে এখন শুধু যাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি ইতালীয় নাগরিক ছিলেন, তারাই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮ কোটি মানুষ ইতালীয় বংশোদ্ভূত। যারা তাদের প্রপিতামহ-প্রপিতামহীর ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র প্রস্তুত করেছিলেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন একটি বড় ধাক্কা। এখন তাদের ইতালিতে বসবাস করে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে, যা মেলোনির সরকারের কঠোর ভিসা নীতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া আগামী ৮ ও ৯ জুন ইতালিতে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট হবে। বর্তমানে, ইইউবহির্ভূত নাগরিকদের ১০ বছরের বৈধ বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। গণভোটে এই সময়সীমা ৫ বছরে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি এটি ব্যর্থ হয়, তবে আরেকটি গণভোটের মাধ্যমে বসবাসের সময়সীমা ১২ বছরে বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে।