ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মেয়াদ আরও বাড়ানোর খবরে বিশ্ববাজোরে তেলের দাম আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখি ধারায় আরও একদিন যুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিতে তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতি এবং তেল রপ্তানির ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পথ বেছে নেবেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাজারের শুরুতে জুন মাসে সরবরাহের জন্য মজুত থাকা ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। টানা অষ্টম দিনের মতো তেলের এ দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। জুলাই মাসের জন্য অধিক সক্রিয় চুক্তিতে দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, জুন মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারের দাম ৫৭ সেন্ট বা দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। আগের সেশনে এর দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল এবং গত আট দিনের মধ্যে সাত দিনই এর দাম বেড়েছে।
হাইটং ফিউচারসের বিশ্লেষক ইয়াং আন বলেন, সাম্প্রতিক তেলের দাম বাড়ার মূল কারণ হলো প্রণালিতে অবরোধ। ট্রাম্প যদি এই অবরোধের মেয়াদ বাড়াতে প্রস্তুত থাকেন, তবে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হবে। এ পরিস্থিতে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলমান। তবে সংঘাত নিরসনের আলোচনায় এক অচলাবস্থায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করার উপায় খুঁজছে। বর্তমানে ইরান বিশ্বব্যাপী তেল ও এলএনজি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ বন্ধ করে রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে। বিপরীতে ইরান সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে দখো গছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ১ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো এই পতন দেখা গেল। এছাড়া গ্যাসোলিনের মজুত ৮ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ব্যারেল এবং ডিস্টিলেট মজুত ২ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে।




