
বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘এমভি হুনডিউসের’ যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন শনাক্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সংক্রামক নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসও একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, তারা এক সপ্তাহের বেশি আগে ফ্লোরিডার শহর ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা করা একটি প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া নরোভাইরাস সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৮ এপ্রিল পোর্ট এভারগ্লেডস থেকে যাত্রা শুরু করা ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে এই প্রাদুর্ভাবটি ঘটে।
ক্রুজম্যাপারের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস এখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৩ দিনের সমুদ্রযাত্রায় রয়েছে। যাত্রাপথে এটি বাহামাস, নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস, পুয়ের্তো রিকো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে থামবে। আগামী ১১ মে অরল্যান্ডোর পোর্ট ক্যানাভেরালে পৌঁছানোর মাধ্যমে জাহাজটির এই একমুখী যাত্রা শেষ হবে।
সিডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির ৩ হাজার ১১৬ যাত্রীর মধ্যে ১০২ জন ও ১ হাজার ১৩১ নাবিকের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে ছিল ডায়রিয়া ও বমি।
নোরোভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রিন্সেস ক্রুজেস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম বাড়িয়েছে; পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে, অসুস্থ যাত্রী ও নাবিকদের আলাদা করে রেখেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি ও অসুস্থতার খবর জানানোর বিষয়ে সংস্থাটির ভেসেল স্যানিটেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।
পোর্টটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য ভিএসপি একটি পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রাদুর্ভাব তদন্তের উদ্দেশ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রাদুর্ভাবের রিপোর্ট গত ৭ মে করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সিডিসি।
ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেসে এই প্রাদুর্ভাবটি এমন একসময়ে ঘটল যখন প্রিন্সেস কোম্পানির আরেকটি জাহাজে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। গত মার্চ মাসে স্টার প্রিন্সেসে একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যাতে ১০৪ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৪৯ জন নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই জাহাজটিও ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ক্যারিবিয়ানে বিশেষ করে হন্ডুরাস, বেলিজ ও মেক্সিকান রিভিয়েরায় থেমেছিল। সেই সমুদ্রযাত্রা শেষে স্টার প্রিন্সেস ফোর্ট লডারডেলের পোর্ট এভারগ্লেডসে ফিরে আসে। যখন প্রাদুর্ভাবের খবরটি পাওয়া যায় তখন সেই ভ্রমণসূচি অনুযায়ী স্টার প্রিন্সেসের বেলিজ সিটি থেকে কোজুমেলে যাওয়ার কথা ছিল।
গত জানুয়ারির শুরুতে সিডিসি জানায়, ডিসেম্বরের শেষে ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করার পর হল্যান্ড আমেরিকা ক্রুজ জাহাজে একটি প্রাদুর্ভাবের কারণে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সংস্থাটি পরের মাসে জানিয়েছিল, মিয়ামি থেকে হনলুলুগামী রিজেন্ট সেভেন সিজ নামের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে অজানা এক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের প্রাদুর্ভাবে ২৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হুনডিউস’ নামের প্রমোদতরিতে রহস্যময় হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে আরও পাঁচজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আর্জেন্টিনা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপ কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরিটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রমোদতরিটির একজন ৭০ বছর বয়সি যাত্রী প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ




