পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমি চাইলে একদিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি।’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,‘ইরানের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রতিটি কেন্দ্র, বিশেষ করে তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দিতে পারি, যা অনেক বড় একটি বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ যাতায়াত করবে তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় প্রতিটি জাহাজ সেখানে নিরাপদ চলাচলের সুবিধা পাবে, নতুবা কেউই পাবে না। ইরান তাদের পছন্দের লোকদের কাছে তেল বিক্রি করে টাকা কামাবে, এমনটা আমরা হতে দেব না। হয় সবার জন্য, না হয় কারও জন্য নয়, এটাই নিয়ম।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তার এবারের হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রক্রিয়া ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতোই হবে, তবে এটা হতে পারে আরও বড় পরিসরে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এর ফলে আরও বেশি দেশ তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসবে।
এদিকে, কোনো সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাস্ট দ্য নিউজের একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে পারে। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল প্রয়োগ করে মার্কিন নৌবাহিনী এখন খুব সহজেই এই প্রণালির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
এর আগে গত শনিবার এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, চীন, জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোর ওপর ‘করুণা’ করে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকা থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। কারণ ওই দেশগুলোর এই কাজ করার মতো সাহস নেই।
এদিকে ইসলামাবাদে বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাবটি টেবিলে তুলেছি এবং যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন দেখার বিষয় ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদল এই বৈঠককে ‘অবিশ্বাসের পরিবেশে’ হওয়া আলোচনা বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে নমনীয়তার যে দাবি করছে তা ভিত্তিহীন।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিই এখন দুই দেশের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কয়েকটি রণতরি প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।
ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ করলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।




