ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযানের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে দক্ষিণ লেবাননে। সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে শক্তিশালী বিস্ফোরক বসিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আস্ত এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে তারা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে দেখছে ‘ডোমিসাইড’ বা পরিকল্পিতভাবে একটি এলাকাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার কৌশল হিসেবে ।
দ্য গার্ডিয়ান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তিনটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে রোববার (১২ এপ্রিল) জানিয়েছে, লেবাননের তাইবেহ, নাকুরা এবং দেইর সেরিয়ান গ্রামে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর আস্তানা ধ্বংসের দাবি করলেও, এভাবে নির্বিচারে বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করাকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো গণ্য করছে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের সীমান্ত এলাকার সব ঘরবাড়ি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি একে গাজার রাফাহ ও বেইত হ্যানুন অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। উল্লেখ্য, গাজার রাফাহ এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি এরই মধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে।
এই ধ্বংসযজ্ঞে কেবল বাড়িঘর ও দালানকোঠাই ধ্বংস করছে না। এর সঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষের বংশ পরম্পরার স্মৃতি। তাইবেহ গ্রামের দোকানদার আহমেদ আবু তাম (৫৬) একটি ভিডিওতে নিজের দোকান ধ্বংস হতে দেখে বলেন, ‘চোখের সামনে নিজের পুরো জীবনটা উড়ে যেতে দেখলাম। আমি এখন এক নিঃস্ব উদ্বাস্তু।’
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লিটানি নদী পর্যন্ত একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করতে চায়। উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত লেবানিজদের ফিরতে দেওয়া হবে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে আজীবনের জন্য ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্ক জেঁকে বসেছে।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

