ইরানের ভূখণ্ডে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে একাধিক যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং পুলিশ কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের একটি বড় পরিবহন বিমান ও দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে পারায় ট্রাম্প এ অভিযানকে অব্যাহত সাফল্যের অংশ হিসেবে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে, ইরানের আকাশে আমরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি।
রোববার (৫ এপ্রিল) ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের পুলিশ কমান্ড ইসফাহানের দক্ষিণে একটি মার্কিন সি-১৩০ বিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে। ফারাজ রেঞ্জার্স নামক পুলিশ কমান্ডো ইউনিটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি যৌথ অভিযানের সময় (অ্যারোস্পেস, গ্রাউন্ড ফোর্স, পপুলার ইউনিটস, বাসিজ এবং পুলিশ কমান্ডের সমন্বয়ে) শত্রুপক্ষের বিমানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভূপাতিত বিমানগুলোর মধ্যে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া অন্তত দুটি সামরিক হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে কিছু প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন জানিয়েছে, একটি গোপন এয়ারস্ট্রিপে থাকা অন্তত দুটি মার্কিন পরিবহন বিমান অকার্যকর হয়ে পড়লে সেগুলো নিজেরাই ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বাহিনী, যাতে শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের সময় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ আক্রমণকারী বিমান ইরানি হামলার শিকার হয়ে বিধ্বস্ত হয়।
সব মিলিয়ে ভূপাতিত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলসহ অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান হারানো এবং আরও কয়েকটি এয়ারক্রাফট বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরে চালানো এই উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু তথ্য প্রদান করেছেন। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সেই ওয়েপনস অফিসার। পদমর্যাদায় তিনি একজন কর্নেল। উদ্ধারকারী দল তার অবস্থান ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করছিল এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করছিল।
উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, পাইলটকে (কর্নেল) উদ্ধার করতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রে সজ্জিত ডজন ডজন বিমান পাঠিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তিনি কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন। একজন আমেরিকানও নিহত বা এমনকি আহত হওয়া ছাড়াই আমরা দুটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।




