চলমান ইরান যুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুদ্ধবিমান হারিয়ে দিশেহারা মার্কিন বিমানবাহিনী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি মানবচালিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) একদিনে পৃথক দুই ঘটনায় একটি এফ-১৫ এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

এ ছাড়া যুদ্ধের শুরুর দিকে ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ভুলবশত কুয়েতি বাহিনীর ফ্রেন্ডলি ফায়ারে (ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর দ্বারা আঘাত) তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল, যদিও সংশ্লিষ্ট পাইলটরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন।

গত ১২ মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হন, যা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে পরিচালিত মিশনে অংশ নিয়েছিল।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ২৭ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি অত্যাধুনিক ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ধ্বংস হয়। ওই হামলায় ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি ট্যাংকার বিমানও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ইরানের বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে চলমান যুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর উন্নত যুদ্ধবিমান ও ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অন্তত ১৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সদর দপ্তরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি এক বিবৃতিতে এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে ইরানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ স্থানীয় অনেক নেতাও রয়েছেন। পাল্টা প্রতিরোধে ইরান এখন ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।




