ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে আদিবাসী গোষ্ঠীর মামলা

কালবেলা ডেস্ক

  ২৩ মে ২০২৫, ২৩:২৯
আমাজনের মারুবো নামের একটি আদিবাসী গোষ্ঠী এই মামলা করে। ছবি : সংগৃহীত

আমাজনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মারুবো নামের একটি আদিবাসী গোষ্ঠী মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-সহ আরও দুটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সম্প্রদায়টির দাবি, হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের পর তাদের সমাজকে ‘নীল ছবি আসক্ত’ হিসেবে উপস্থাপন করে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তা তাদের সম্মান, সংস্কৃতি ও সামাজিক স্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

মামলার কেন্দ্রে রয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন, যেখানে বলা হয়- ইলন মাস্কের ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ার পর মাত্র ৯ মাসেই মারুবো সম্প্রদায় ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের পরিচিত সমস্যার’ মুখোমুখি হয়েছে।

বিশেষত- মোবাইল ফোনে আসক্তি, সহিংস ভিডিও গেমস এবং নাবালকদের নীল ছবি দেখার প্রবণতা উল্লেখ করে গোষ্ঠীটির তরুণ সমাজের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে গোষ্ঠীর এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইন্টারনেটের প্রসারে তরুণদের মধ্যে আগ্রাসী যৌন আচরণ বেড়েছে এবং এই পরিবর্তন তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে।

যদিও ওই প্রতিবেদনে ইন্টারনেটের কিছু ইতিবাচক দিক- যেমন স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দূরবর্তী আত্মীয়দের সঙ্গে সংযোগের সুবিধা- তুলে ধরা হয়, কিন্তু বাদীপক্ষের দাবি, সামগ্রিকভাবে গোষ্ঠীটিকে প্রযুক্তির প্রভাবে বিভ্রান্ত, দুর্বল ও বিকৃত সংস্কৃতির বাহক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মামলায় নিউইয়র্ক টাইমস ছাড়াও টিএমজেড ও ইয়াহু নিউজ-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি মাধ্যম মূল প্রতিবেদনকে বিকৃত ও অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরেছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে, টিএমজেড একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে সরাসরি ‘নীল ছবির আসক্তি’ শব্দ ব্যবহার করে বিতর্ক আরও উসকে দেয়।

বাদীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে মিডিয়া ঝড় তোলে। এর ফলে গোষ্ঠীর নেতা এনোক মারুবো ও মানবাধিকারকর্মী ফ্লোরা ডুত্রা ব্যাপক হয়রানি, অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েন। ফ্লোরা ডুত্রা মূলত স্টারলিংকের ২০টি অ্যানটেনা (মূল্য ১৫ হাজার ডলার) বিতরণের মাধ্যমে গোষ্ঠীর ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সহায়তা করেছিলেন।

তবে টিএমজেডের একটি ভিডিও প্রতিবেদনেও তাদেরকে অ্যানটেনা বিতরণ করতে দেখা যায়। বাদীদের মতে, এর মাধ্যমে এমন এক ভ্রান্ত বার্তা ছড়িয়ে পড়ে যেন তারাই ওই গোষ্ঠীর মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

এই মামলার প্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবেদনটি ছিল সংবেদনশীল ও তথ্যনির্ভর। এতে প্রযুক্তির আগমনে একটি গর্বিত, ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের সমাজে কী ধরনের জটিলতা ও সুফল এসেছে, তা দেখানো হয়েছে। আমরা মামলার বিরুদ্ধে জোরালোভাবে লড়ব।

পরে বিতর্ক প্রশমনে নিউইয়র্ক টাইমস আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল- না, প্রত্যন্ত আমাজন গোষ্ঠীটি নীল ছবিতে আসক্ত নয়। কিন্তু গোষ্ঠীর ভাষ্য, মূল প্রতিবেদন থেকেই সামাজিক ক্ষতির সূত্রপাত, যা পরবর্তী ব্যাখ্যায় ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

প্রায় ২ হাজার সদস্যবিশিষ্ট মারুবো গোষ্ঠী নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্য দুই মাধ্যমের কাছে কমপক্ষে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এ মামলাটি শুধুই অর্থের লড়াই নয়, বরং প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতায় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান, তথ্যের দায়িত্বশীলতা ও উপস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে।