ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পাওয়া ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংক কী?

কালবেলা ডেস্ক

  ২১ মে ২০২৫, ১০:২৫
ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর পদোন্নতি পেয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। এ অভিযানের পর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সামরিক পদোন্নতি ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংক পেয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি এ পদোন্নতি পেয়েছেন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে যে, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি এ র‌্যাংক পেয়েছেন।

কে ছিলেন প্রথম ফিল্ড মার্শাল?
মোহাম্মদ আয়ুব খান ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম ফিল্ড মার্শাল। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৫৮ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এর এক বছর পর ১৯৫৯ সালে সেনাবাহিনীর নিয়মিত অবসর বয়সের কাছাকাছি আসার সময় আইয়ুব খান নিজেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বেসামরিক সমাজের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এ পদ গ্রহণ করছেন। অক্টোবর ১৯৫৯-এ প্রেসিডেন্সিয়াল কেবিনেট একটি ঘোষণার মাধ্যমে তাকে এই পদে উন্নীত করে।

ফিল্ড মার্শাল পদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও ব্যবহার
ফিল্ড মার্শাল পদটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। এটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক ঐতিহ্যের দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সামরিক মডেল অনুসরণকারী দেশগুলোতে, যেমন যুক্তরাজ্য, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে এটি একটি পাঁচ তারকা সম্মানসূচক পদ। যুদ্ধকালীন অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য এ র‌্যাংক দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্নার্ড মন্টগোমারিতে অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যে ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংক পান। এছাড়া ভারতে মাত্র দুজন ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংক পেয়েছেন। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে স্যাম মানেকশ এবং ১৯৮৬ সালে সম্মানসূচক স্বীকৃতি হিসেবে কেএম কারিয়াপ্পা এ র‌্যাংক পান।

অন্যান্য দেশে এই পদের সমতুল্য পদবি ভিন্ন নামে রয়েছে। জার্মানিতে, জেনারেল ফিল্ড মার্শাল ছিল বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি উল্লেখযোগ্য পদ। আর রাশিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের মার্শাল (পরবর্তীতে রাশিয়ান ফেডারেশনের মার্শাল) একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো। এই পদগুলো সাধারণত যুদ্ধকালীন বা অসাধারণ সেবার জন্য সংরক্ষিত। যুক্তরাষ্ট্রে, জেনারেল অব দ্য আর্মি নামে এ পদের সমমর্যাদার একটি পদ রয়েছে। যদিও এটিকে ফিল্ড মার্শাল বলা হয় না।

পদটির তাৎপর্য
ফিল্ড মার্শাল পদ প্রদান গভীর জাতীয় প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল একটি সামরিক পদবি নয়, বরং একটি জাতীয় সম্মান। এ পদবি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং সম্মান রক্ষায় একজন ব্যক্তির ভূমিকার প্রশংসার প্রমাণস্বরূপ। এটি রাষ্ট্রের সেই ব্যক্তির নেতৃত্ব, কৌশলগত দূরদর্শিতা এবং দেশের সেবার প্রতি সর্বোচ্চ আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।


পাকিস্তানে পদটি কীভাবে প্রদান করা হয়?
পাকিস্তানে ফিল্ড মার্শাল পদটি ফেডারেল সরকার কর্তৃক প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং ফেডারেল ক্যাবিনেটের যৌথ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এটি সাধারণত একজন বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধানের অসাধারণ সামরিক সাফল্য বা যুদ্ধকালীন বা অস্তিত্বগত হুমকির সময় জাতীয় সেবার জন্য প্রদান করা হয়।

ভারতে কতজন ফিল্ড মার্শাল আছেন?

ভারতে এখন পর্যন্ত দুজন ফিল্ড মার্শাল রয়েছেন। প্রথমবার এটি প্রদান করা হয় স্যাম মানেকশকে ১৯৭৩ সালে দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তার অসামান্য সেবা এবং নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এটি অর্জন করেন তিনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মানেকশকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং যুদ্ধের পরপরই তাকে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে নিয়োগ করেন।

১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর প্রধান (চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ) হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছুদিন আগে মানেকশকে রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়।

দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি ভারতে ফিল্ড মার্শাল পদে ভূষিত হন তিনি হলেন কোদান্দেরা এম কারিয়াপ্পা। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন। এই পদটি পরবর্তীতে চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে পরিচিত হয়। কারিয়াপ্পার অনবদ্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালের ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি বিশেষ সমারোহে তাকে ফিল্ড মার্শাল পদে ভূষিত করা হয়।

পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংঘাতের জেরে আকাশসীমা ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।  শুক্রবার (২৩ মে) একযোগে দেওয়া ঘোষণায় দুই দেশই নিশ্চিত করে যে, নিবন্ধিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো বিমান আপাতত এক অপরের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় উভয় দেশ। এরপর শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া কোনো বিমানই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি ভারতীয় সামরিক বিমানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের ঘোষণা আসার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের নিবন্ধিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া সামরিক ও বেসামরিক বিমান ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভারত ‘অপরেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, বন্ধ করে দেয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম। সীমান্তও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত প্রশমনে হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যস্থতায় গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থেকে যায় অমীমাংসিত। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংকেতই নয়, এটি আঞ্চলিক যাত্রী ও মালবাহী বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো আকাশপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকা মানে শুধু কৌশলগত বার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক ধরনের শাস্তি। এখন প্রশ্ন হলো- সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি আকাশপথ খোলার মাধ্যমে শুরু হবে শান্তির সম্ভাবনা?  
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
যেসব নদীর ওপর ভারতের অধিকার আছে, সেসব নদী থেকে পাকিস্তান পানি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা তিনটি নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হয়।  এই অবস্থায় বন্ধু পাকিস্তানকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেছে চীন। চীনের সহায়তায় খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে নদীর ওপর বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান। ৭০০ ফুট উঁচু এই বাঁধ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম হতে যাচ্ছে। ভারত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।  খাইবার-পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে পাথুরে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে সোয়াত নদী। এর উপরেই মোহমন্দ বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলছে ইসলামাবাদ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এই বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে ১২০ কোটি ডলার খরচ করবে পাকিস্তান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, মোহমন্দ বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ ছাড়া পেশোয়ারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারবে তারা। এই পানি চাষের কাজেও ব্যবহার করা হবে। পাকিস্তানের কৃষি পুরোপুরি নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাঁধটি খাইবার-পাখতুনখোয়ার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী ইসলামাবাদ। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন নেহরু।  চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে পশ্চিম দিকের সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার পানি ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। পানির নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান।  
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
চিরশত্রু দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভাটা পড়েনি উত্তেজনায়। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে সংশয়।  সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাবে না পাকিস্তান। মোদির এই ঘোষণা কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি—১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও দিল্লি এর পরই সিন্ধু পানি চুক্তি আংশিক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও পরে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের এই ঘোষণা পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইসলামাবাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে পানি বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে দেশটি একাধিকবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা বারবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের কারণে সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, যা অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বিদ্যমান। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জারি কার্যত অচলসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পানি ইস্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া নতুন এই সঙ্কট পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পানিনীতি কেবল পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল নয়, এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের অংশও। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি সত্যিই পাকিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—পাকিস্তান কি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে, না পরমাণু হুমকিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে?   
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  মোদি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না। গত মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সমর্থন ছিল, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে শান্ত হয়। রাজস্থানে একটি জনসভায় মোদি বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে ভারী মূল্য দিতে হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি এর মাশুল গুনবে। এনডিটিভি জানিয়েছে, সিন্ধু চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করে। এসব পানি ভারত থেকে প্রবাহিত তিনটি নদী থেকে আসে। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী এই মাসে বলেছেন, চুক্তি স্থগিতের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বর্তমানে কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না এবং সৈন্যদের কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে থাকে, আমরা তাদের সেখানেই আঘাত করব। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত থেকে বিভক্তির পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশ তিনটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কাশ্মীর নিয়ে। ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে, যা পাকিস্তান অস্বীকার করে। এপ্রিলের হামলার পর দুই দেশ বাণিজ্য স্থগিত, স্থল সীমান্ত বন্ধ এবং বেশিরভাগ ভিসা স্থগিতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান এখনো মোদি ও জয়শঙ্করের মন্তব্যের জবাব দেয়নি।
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় জানাল সুপারকো
পবিত্র ঈদুল আজহার সময় জানিয়েছে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সুপারকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪৪৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ কৌশলের ভিত্তিতে একটি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জ্যোতির্বিদ্যার মডেল অনুসারে, জিলহজের নতুন চাঁদের জন্ম হবে ২৭ মে।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৭ মে পাকিস্তানে চাঁদের বয়স সূর্যাস্তের সময় প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট হবে। তবে সবচেয়ে অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দেশজুড়ে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কেননা সূর্যাস্ত এবং চাঁদের অস্তের মধ্যে মাত্র ৩৭ মিনিটের ব্যবধান থাকবে। কমিশন জানিয়েছে, ২৯ মে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। এ হিসাবে পাকিস্তানে ঈদুল আজহা ৭ জুন উদযাপিত হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি রুয়েত-ই-হিলাল। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আবহাওয়ার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তারিখ নির্ধারণ করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চারদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে ৫ জুন আরাফাত দিবস এবং ৬ জুন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য দিন ধরে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখানেও চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটি জানিয়েছে, ২৭ মে সকাল ৭টা ২ মিনিটে চাঁদ উদিত হবে এবং সূর্যাস্তের প্রায় ৩৮ মিনিট পর পর্যন্ত আকাশে দৃশ্যমান থাকবে, ফলে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ২৮ মে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে এবং ৬ জুন ঈদ উদযাপিত হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ৭ জুন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে সে হিসেবে বাংলাদেশে ৭ অথবা ৮ জুন ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় জানাল সুপারকো
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংঘাতের জেরে আকাশসীমা ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।  শুক্রবার (২৩ মে) একযোগে দেওয়া ঘোষণায় দুই দেশই নিশ্চিত করে যে, নিবন্ধিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো বিমান আপাতত এক অপরের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় উভয় দেশ। এরপর শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া কোনো বিমানই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি ভারতীয় সামরিক বিমানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের ঘোষণা আসার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের নিবন্ধিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া সামরিক ও বেসামরিক বিমান ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভারত ‘অপরেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, বন্ধ করে দেয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম। সীমান্তও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত প্রশমনে হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যস্থতায় গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থেকে যায় অমীমাংসিত। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংকেতই নয়, এটি আঞ্চলিক যাত্রী ও মালবাহী বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো আকাশপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকা মানে শুধু কৌশলগত বার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক ধরনের শাস্তি। এখন প্রশ্ন হলো- সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি আকাশপথ খোলার মাধ্যমে শুরু হবে শান্তির সম্ভাবনা?  
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
যেসব নদীর ওপর ভারতের অধিকার আছে, সেসব নদী থেকে পাকিস্তান পানি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা তিনটি নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হয়।  এই অবস্থায় বন্ধু পাকিস্তানকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেছে চীন। চীনের সহায়তায় খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে নদীর ওপর বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান। ৭০০ ফুট উঁচু এই বাঁধ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম হতে যাচ্ছে। ভারত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।  খাইবার-পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে পাথুরে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে সোয়াত নদী। এর উপরেই মোহমন্দ বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলছে ইসলামাবাদ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এই বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে ১২০ কোটি ডলার খরচ করবে পাকিস্তান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, মোহমন্দ বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ ছাড়া পেশোয়ারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারবে তারা। এই পানি চাষের কাজেও ব্যবহার করা হবে। পাকিস্তানের কৃষি পুরোপুরি নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাঁধটি খাইবার-পাখতুনখোয়ার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী ইসলামাবাদ। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন নেহরু।  চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে পশ্চিম দিকের সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার পানি ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। পানির নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান।  
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
চিরশত্রু দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভাটা পড়েনি উত্তেজনায়। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে সংশয়।  সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাবে না পাকিস্তান। মোদির এই ঘোষণা কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি—১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও দিল্লি এর পরই সিন্ধু পানি চুক্তি আংশিক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও পরে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের এই ঘোষণা পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইসলামাবাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে পানি বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে দেশটি একাধিকবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা বারবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের কারণে সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, যা অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বিদ্যমান। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জারি কার্যত অচলসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পানি ইস্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া নতুন এই সঙ্কট পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পানিনীতি কেবল পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল নয়, এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের অংশও। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি সত্যিই পাকিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—পাকিস্তান কি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে, না পরমাণু হুমকিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে?   
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  মোদি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না। গত মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সমর্থন ছিল, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে শান্ত হয়। রাজস্থানে একটি জনসভায় মোদি বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে ভারী মূল্য দিতে হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি এর মাশুল গুনবে। এনডিটিভি জানিয়েছে, সিন্ধু চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করে। এসব পানি ভারত থেকে প্রবাহিত তিনটি নদী থেকে আসে। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী এই মাসে বলেছেন, চুক্তি স্থগিতের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বর্তমানে কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না এবং সৈন্যদের কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে থাকে, আমরা তাদের সেখানেই আঘাত করব। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত থেকে বিভক্তির পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশ তিনটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কাশ্মীর নিয়ে। ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে, যা পাকিস্তান অস্বীকার করে। এপ্রিলের হামলার পর দুই দেশ বাণিজ্য স্থগিত, স্থল সীমান্ত বন্ধ এবং বেশিরভাগ ভিসা স্থগিতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান এখনো মোদি ও জয়শঙ্করের মন্তব্যের জবাব দেয়নি।