ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন

কালবেলা ডেস্ক

  ২২ মে ২০২৫, ২২:৫১
পাকিস্তানের একটি বাঁধ। ছবি : সংগৃহীত

যেসব নদীর ওপর ভারতের অধিকার আছে, সেসব নদী থেকে পাকিস্তান পানি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা তিনটি নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হয়।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এই অবস্থায় বন্ধু পাকিস্তানকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেছে চীন। চীনের সহায়তায় খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে নদীর ওপর বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান। ৭০০ ফুট উঁচু এই বাঁধ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম হতে যাচ্ছে। ভারত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।

খাইবার-পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে পাথুরে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে সোয়াত নদী। এর উপরেই মোহমন্দ বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলছে ইসলামাবাদ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এই বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে ১২০ কোটি ডলার খরচ করবে পাকিস্তান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, মোহমন্দ বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ ছাড়া পেশোয়ারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারবে তারা। এই পানি চাষের কাজেও ব্যবহার করা হবে। পাকিস্তানের কৃষি পুরোপুরি নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাঁধটি খাইবার-পাখতুনখোয়ার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী ইসলামাবাদ।

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন নেহরু।

চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে পশ্চিম দিকের সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার পানি ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। পানির নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান।

পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংঘাতের জেরে আকাশসীমা ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।  শুক্রবার (২৩ মে) একযোগে দেওয়া ঘোষণায় দুই দেশই নিশ্চিত করে যে, নিবন্ধিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো বিমান আপাতত এক অপরের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় উভয় দেশ। এরপর শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া কোনো বিমানই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি ভারতীয় সামরিক বিমানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের ঘোষণা আসার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের নিবন্ধিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া সামরিক ও বেসামরিক বিমান ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভারত ‘অপরেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, বন্ধ করে দেয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম। সীমান্তও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত প্রশমনে হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যস্থতায় গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থেকে যায় অমীমাংসিত। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংকেতই নয়, এটি আঞ্চলিক যাত্রী ও মালবাহী বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো আকাশপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকা মানে শুধু কৌশলগত বার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক ধরনের শাস্তি। এখন প্রশ্ন হলো- সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি আকাশপথ খোলার মাধ্যমে শুরু হবে শান্তির সম্ভাবনা?  
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
চিরশত্রু দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভাটা পড়েনি উত্তেজনায়। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে সংশয়।  সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাবে না পাকিস্তান। মোদির এই ঘোষণা কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি—১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও দিল্লি এর পরই সিন্ধু পানি চুক্তি আংশিক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও পরে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের এই ঘোষণা পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইসলামাবাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে পানি বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে দেশটি একাধিকবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা বারবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের কারণে সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, যা অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বিদ্যমান। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জারি কার্যত অচলসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পানি ইস্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া নতুন এই সঙ্কট পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পানিনীতি কেবল পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল নয়, এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের অংশও। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি সত্যিই পাকিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—পাকিস্তান কি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে, না পরমাণু হুমকিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে?   
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  মোদি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না। গত মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সমর্থন ছিল, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে শান্ত হয়। রাজস্থানে একটি জনসভায় মোদি বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে ভারী মূল্য দিতে হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি এর মাশুল গুনবে। এনডিটিভি জানিয়েছে, সিন্ধু চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করে। এসব পানি ভারত থেকে প্রবাহিত তিনটি নদী থেকে আসে। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী এই মাসে বলেছেন, চুক্তি স্থগিতের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বর্তমানে কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না এবং সৈন্যদের কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে থাকে, আমরা তাদের সেখানেই আঘাত করব। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত থেকে বিভক্তির পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশ তিনটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কাশ্মীর নিয়ে। ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে, যা পাকিস্তান অস্বীকার করে। এপ্রিলের হামলার পর দুই দেশ বাণিজ্য স্থগিত, স্থল সীমান্ত বন্ধ এবং বেশিরভাগ ভিসা স্থগিতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান এখনো মোদি ও জয়শঙ্করের মন্তব্যের জবাব দেয়নি।
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় জানাল সুপারকো
পবিত্র ঈদুল আজহার সময় জানিয়েছে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সুপারকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪৪৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ কৌশলের ভিত্তিতে একটি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জ্যোতির্বিদ্যার মডেল অনুসারে, জিলহজের নতুন চাঁদের জন্ম হবে ২৭ মে।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৭ মে পাকিস্তানে চাঁদের বয়স সূর্যাস্তের সময় প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট হবে। তবে সবচেয়ে অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দেশজুড়ে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কেননা সূর্যাস্ত এবং চাঁদের অস্তের মধ্যে মাত্র ৩৭ মিনিটের ব্যবধান থাকবে। কমিশন জানিয়েছে, ২৯ মে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। এ হিসাবে পাকিস্তানে ঈদুল আজহা ৭ জুন উদযাপিত হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি রুয়েত-ই-হিলাল। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আবহাওয়ার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তারিখ নির্ধারণ করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চারদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে ৫ জুন আরাফাত দিবস এবং ৬ জুন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য দিন ধরে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখানেও চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটি জানিয়েছে, ২৭ মে সকাল ৭টা ২ মিনিটে চাঁদ উদিত হবে এবং সূর্যাস্তের প্রায় ৩৮ মিনিট পর পর্যন্ত আকাশে দৃশ্যমান থাকবে, ফলে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ২৮ মে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে এবং ৬ জুন ঈদ উদযাপিত হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ৭ জুন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে সে হিসেবে বাংলাদেশে ৭ অথবা ৮ জুন ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় জানাল সুপারকো
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অজানা কিছু প্রশ্নের উত্তর
কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জেরে যুদ্ধে জড়িয়েছে ভারত-পাকিস্তান। এ যুদ্ধে এখনো নানা প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পেহেলগামে হামলার পর ভারত পাকিস্তানের সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে (এলওসি) ৯টি স্থাপনায় হামলা চালায়। এসব স্থাপনাকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু এ হামলার পরও অধরা রয়ে গেছে কথিত জঙ্গিরা। তাহলে কেন এ যুদ্ধ? দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া যুদ্ধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্ধৃদি দিয়ে ‘পাকিস্তান টাইমস’ এ-সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  ভারতের হামলার পর সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। এই সংঘর্ষ চলাকালীন এবং তার পরেও উভরপক্ষের বহু দাবি জানানো হয়েছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে কিছু দাবি যাচাই করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগই এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া অনেক সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এমন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রতিরক্ষা, কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান টাইমস।  পুলিশ জানিয়েছে, পেহেলগামে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে চিহ্নিত করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন কাশ্মীরি ও দুজন পাকিস্তানি ছিলেন। তাদের বিষয়ে তথ্য দিলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের বোনেদের সিঁদুর মুছে দিয়েছে। তাই ভারত এই সন্ত্রাসের সদর দপ্তরই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ হামলায় শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভারত।    সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) জীবন রাজপুরোহিত জানান, এই সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা কঠিন। কারণ, তাদের চারপাশে স্থানীয় সমর্থকদের একটা নেটওয়ার্ক রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তারা পাকিস্তানের কাছ থেকে সাহায্য পায়। তিনি বলেন, এই দুটি কারণে ভারতের জন্য সন্ত্রাসবাদকে একেবারে গোড়া থেকে উৎখাত করা জরুরি। সন্ত্রাসবাদ একটা কাঠামো। তাই সন্ত্রাসবাদের শিকড়কে উপড়ে ফেলতে হলে শুধু সন্ত্রাসীদের হত্যা করাই যথেষ্ট নয়, বরং যে কাঠামো এটা পরিচালনা করে সেটা গুঁড়িয়ে ফেলা দরকার। কেবল কয়েকজন সন্ত্রাসীকে নিধন করে এই সমস্যার মূল উৎপাটন করা সম্ভব নয়। আন্তঃসীমান্ত হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মৃত্যু হয়েছে। বিবিসিসহ একাধিক গণমাধ্যম নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললেও ভারত সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, সীমান্তে গোলাগুলির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কেন সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি? এই প্রশ্নের জবাবে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল দীপ্তেন্দু চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব নির্দেশিকা আছে। কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যা তুলনামূলক কম, জম্মুতে বেশি, এবং পাঞ্জাবে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ এর আগেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। বহু বছর ধরে তারা গোলাগুলির সম্মুখীন। তারা এর জন্য প্রস্তুত থাকেন। সেখানে বাংকার ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সাইরেন বাজলে বা ব্ল্যাকআউট হলে তারা জানেন কী করতে হবে। এ কারণে ভারত সরকার নতুন করে স্থানান্তরের নির্দেশনা জারির প্রয়োজন মনে করেনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে বা সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি পেলে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে হঠাৎ গোলাগুলির কারণে আগাম সতর্কতা জারি করা সম্ভব হয়নি। পাম্পোরে ধাতব টুকরো ও পাকিস্তানের দাবি জম্মু ও কাশ্মীরের পাম্পোরে একটি বৃহৎ ধাতব টুকরো পাওয়া গেছে, তবে ভারত সরকার এটি কোনো ভারতীয় বিমানের অংশ কিনা তা নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে যে তারা ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এয়ার মার্শাল একে ভারতী বলেছেন, আমরা যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি, এবং ক্ষয়ক্ষতি এরই অংশ। প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমরা কি আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি? আমরা কি সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করতে পেরেছি? উত্তর হলো—হ্যাঁ। তিনি আরও বলেন, বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, কারণ এতে শত্রুপক্ষ লাভবান হতে পারে। তবে আমি বলতে পারি, আমাদের সব পাইলট নিরাপদে ফিরেছেন। পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ভূখণ্ডে তাদের বিমান প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তাদের ধ্বংসাবশেষ আমাদের কাছে নেই। ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশে ভিন্ন মত এয়ার মার্শাল দীপ্তেন্দু চৌধুরী বলেন, কোনো অভিযানে ক্ষয়ক্ষতির বিষয় প্রকাশ্যে জানানোর ব্যাপারে বিভিন্ন মত রয়েছে। তিনি বালাকোট অভিযানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা অভিযানের সাফল্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে প্রস্তুত ছিলাম না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথ্য দিচ্ছিল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরে এসেছিল। কিন্তু ততক্ষণে ন্যারেটিভ বদলে গিয়েছিল। পাইলট অভিনন্দন বর্তমান ধরা পড়ায় বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলগত উদ্দেশ্য ম্লান হয়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষয়ক্ষতি সেনাবাহিনীর কাজের অংশ। কে কতগুলো বিমান ভূপাতিত করেছে, তা বড় বিষয় নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছি? লোকসান হবেই, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনই মুখ্য। যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তার মধ্যস্থতায় দুই দেশ সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়েছে। ভারত বলছে, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) এর উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক দিলীপ সিং বলেন, সম্ভবত পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে কথা বলে। ভারত বলেছে, আমরা প্রস্তুত, তবে উদ্যোগটা পাকিস্তানের হতে হবে। এরপর পাকিস্তান তাদের ডিজিএমও-র মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক শুধু ট্রাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিরোধীদের প্রশ্ন ও সরকারের দায়বদ্ধতা যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বিরোধী রাজনীতিবিদরা সরকারের কাছে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী ছিল। তারা সামরিক অভিযানে বিরোধী দলের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তাও উত্থাপন করেছেন। দিলীপ সিং বলেন, সামরিক অভিযানে বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শ কোনো প্রোটোকলের অংশ নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গোপনীয় তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। বিস্তারিত প্রকাশ করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক চন্দ্রচূড় সিং বলেন, সামরিক নীতি নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শের কোনো নজির নেই। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও এমন আলোচনা হয়নি। সংসদীয় ব্যবস্থায় সামরিক সিদ্ধান্ত সংসদে আনা হয় না। এই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হয় যাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানের বিবরণ থাকে।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অজানা কিছু প্রশ্নের উত্তর
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংঘাতের জেরে আকাশসীমা ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।  শুক্রবার (২৩ মে) একযোগে দেওয়া ঘোষণায় দুই দেশই নিশ্চিত করে যে, নিবন্ধিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো বিমান আপাতত এক অপরের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় উভয় দেশ। এরপর শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া কোনো বিমানই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি ভারতীয় সামরিক বিমানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের ঘোষণা আসার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের নিবন্ধিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া সামরিক ও বেসামরিক বিমান ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভারত ‘অপরেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, বন্ধ করে দেয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম। সীমান্তও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত প্রশমনে হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যস্থতায় গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থেকে যায় অমীমাংসিত। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংকেতই নয়, এটি আঞ্চলিক যাত্রী ও মালবাহী বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো আকাশপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকা মানে শুধু কৌশলগত বার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক ধরনের শাস্তি। এখন প্রশ্ন হলো- সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি আকাশপথ খোলার মাধ্যমে শুরু হবে শান্তির সম্ভাবনা?  
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
চিরশত্রু দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভাটা পড়েনি উত্তেজনায়। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে সংশয়।  সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাবে না পাকিস্তান। মোদির এই ঘোষণা কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি—১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও দিল্লি এর পরই সিন্ধু পানি চুক্তি আংশিক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও পরে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের এই ঘোষণা পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইসলামাবাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে পানি বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে দেশটি একাধিকবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা বারবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের কারণে সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, যা অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বিদ্যমান। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জারি কার্যত অচলসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পানি ইস্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া নতুন এই সঙ্কট পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পানিনীতি কেবল পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল নয়, এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের অংশও। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি সত্যিই পাকিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—পাকিস্তান কি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে, না পরমাণু হুমকিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে?   
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ভারতের
পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  মোদি বলেন, ভারতের অধিকারে থাকা নদীগুলোর পানি পাকিস্তান পাবে না। গত মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সমর্থন ছিল, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে শান্ত হয়। রাজস্থানে একটি জনসভায় মোদি বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে ভারী মূল্য দিতে হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি এর মাশুল গুনবে। এনডিটিভি জানিয়েছে, সিন্ধু চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করে। এসব পানি ভারত থেকে প্রবাহিত তিনটি নদী থেকে আসে। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী এই মাসে বলেছেন, চুক্তি স্থগিতের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রভাব পড়বে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বর্তমানে কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না এবং সৈন্যদের কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদি সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে থাকে, আমরা তাদের সেখানেই আঘাত করব। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত থেকে বিভক্তির পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশ তিনটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কাশ্মীর নিয়ে। ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে, যা পাকিস্তান অস্বীকার করে। এপ্রিলের হামলার পর দুই দেশ বাণিজ্য স্থগিত, স্থল সীমান্ত বন্ধ এবং বেশিরভাগ ভিসা স্থগিতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান এখনো মোদি ও জয়শঙ্করের মন্তব্যের জবাব দেয়নি।
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় জানাল সুপারকো
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য সময় জানাল সুপারকো
পবিত্র ঈদুল আজহার সময় জানিয়েছে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সুপারকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪৪৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ কৌশলের ভিত্তিতে একটি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জ্যোতির্বিদ্যার মডেল অনুসারে, জিলহজের নতুন চাঁদের জন্ম হবে ২৭ মে।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৭ মে পাকিস্তানে চাঁদের বয়স সূর্যাস্তের সময় প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট হবে। তবে সবচেয়ে অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দেশজুড়ে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কেননা সূর্যাস্ত এবং চাঁদের অস্তের মধ্যে মাত্র ৩৭ মিনিটের ব্যবধান থাকবে। কমিশন জানিয়েছে, ২৯ মে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। এ হিসাবে পাকিস্তানে ঈদুল আজহা ৭ জুন উদযাপিত হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি রুয়েত-ই-হিলাল। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আবহাওয়ার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তারিখ নির্ধারণ করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চারদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে ৫ জুন আরাফাত দিবস এবং ৬ জুন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য দিন ধরে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখানেও চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটি জানিয়েছে, ২৭ মে সকাল ৭টা ২ মিনিটে চাঁদ উদিত হবে এবং সূর্যাস্তের প্রায় ৩৮ মিনিট পর পর্যন্ত আকাশে দৃশ্যমান থাকবে, ফলে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ২৮ মে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে এবং ৬ জুন ঈদ উদযাপিত হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ৭ জুন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে সে হিসেবে বাংলাদেশে ৭ অথবা ৮ জুন ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে।