ইসলামাবাদ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নাচক করে দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেই ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন না বলে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটার দিকে ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। এর আগে তারা পাকিস্তানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন ইরানের প্রতিনিধিদলটি সারাদিন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। প্রতিনিধিদলটি রওনা হওয়ার আগে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের দাবিসমূহের আনুষ্ঠানিক তালিকা পাকিস্তানি নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
আগের দিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানে তেহরানের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনার’ জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। তবে এই সফর এখনও হবে কি না বা তারা কখন রওনা দেবেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
ইরান বারবার প্রকাশ্যে দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। শনিবার তারা কেবল পাকিস্তানিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়।
তবে উইটকফ ও কুশনারের সফরের বিষয়ে শুক্রবার লেভিটের ঘোষণা ইসলামাবাদসহ সারাবিশ্বে এক ধরনের গুঞ্জন তৈরি করেছিল যে, এই সফর হয়তো দ্বিতীয় দফার আলোচনায় মোড় নেবে।
লেভিট শুক্রবার ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, ‘ইরানিরাই যোগাযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট যেমনটা আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, এটি ফলপ্রসূ আলোচনা হবে এবং একটি চুক্তির দিকে আমাদের এগিয়ে নেবে।’
এর আগে, ইরান বলেছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের কাছে যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা দাবি করছিল যে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে এবং প্রণালিটির ওপর থেকে নিজেদের অবরোধ তুলে নেবে।
শুক্রবার পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ট্রাম্প বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রচুর সময় আছে এবং আমরা কোনো চুক্তির জন্য উদগ্রীব নই’। তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে।




