প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পুনরায় আলোচনায় বসা নিয়ে অনিশ্চিতা এখনও কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি চাইলেও ইরান তার সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা দোলাচোলেই রয়ে গেছে। ইরানের কূটনীতিকরা বর্তমানে পাকিস্তান সফররত হলেও দ্বিতীয় দফায় সংলাপের টেবিলে বসবেন কি না, তা নিয়ে কোনো পক্ষই মুখ খুলছেন না।
তবে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফরে যাবেন। এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে পাকিস্তান সফররত ইরানি প্রতিনিধিদলেও নেই পার্লামেন্টের স্পিকার ও কূটনীতিক আলোচকদের নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ধারণা করা হচ্ছে, গালিবাফ ও ভ্যান্সকে ছাড়াই এবার অনুষ্ঠিত হতে পারে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা।
সংবাদমাধ্যম খবর অনুযায়ী, কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনার জন্য স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার পাকিস্তানে যাবেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেসি সচিব ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার ফক্স নিউজকে বলেন, আমি নিশ্চিত করছি যে বিশেষ দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার সকালে আবারও পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।’
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরানিরা যোগাযোগ করেছে এবং এই মুখোমুখি আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছে। প্রয়োজনে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত থাকবেন, কিন্তু প্রথমে এই শীর্ষ সহযোগীরা সেখানে গিয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। জেডি ভ্যান্স ও প্রথম দফার আলোচনায় ইরানি আলোচক দলের নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ উভয়েই দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অনুপস্থিত থাকবেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ‘দ্বিপাক্ষিক বিষয় ও আঞ্চলিক ঘটনাবলির’ ওপর আলোকপাত করে পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়ায় একটি ‘সময়োপযোগী সফরের’ ঘোষণা দেওয়ার পর এই ঘটনাটি ঘটল।
তিনি এক্সে লেখেন, ইসলামাবাদ, মাস্কাট ও মস্কো সফরে যাচ্ছি। আমার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করা এবং আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করা। আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।
এর আগে, ইরান বলেছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের কাছে যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা দাবি করছিল যে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে এবং প্রণালিটির ওপর থেকে নিজেদের অবরোধ তুলে নেবে।
শুক্রবার পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ট্রাম্প বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রচুর সময় আছে এবং আমরা কোনো চুক্তির জন্য উদগ্রীব নই’। তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি




