ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সংঘাত নিরসনে কূটনীতির পথ এখনও বন্ধ হয়নি। যুদ্ধ বন্ধে ও ভিন্ন সংকট নিরসনে তারা এখন পাকিস্তানের শরণাপন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদক আলমিগদাদ আলরুহাইদ জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমানে নানা গুঞ্জন থাকলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক নেই। অন্তত বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তবে দু’দেশের সংঘাত নিরসনে কূটনীতির পথ এখনও বন্ধ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবরোধের ফলে ইসলামবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা বা যে কোনো ধরনের অগ্রগতির পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে আছে।
সরাসরি আলোচনা না হলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি ইসলামাবাদ থেকে সফর শুরু করে মস্কো এবং পরবর্তীতে মাস্কাট যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। আরাগচি জানিয়েছেন, তার বর্তমান সফরের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে এই দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
ইরানের অবস্থানের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে তাদের বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন অবরোধ এবং অতীতে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা। মূলত, দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
তবে এতো জটিলতা সত্ত্বেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতির পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ও ভিন্ন সংকট নিরসনে দু’দেশে এখন পাকিস্তানের শরণাপন্ন হয়েছে।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

