
চলতি বছরের বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় সিঙ্গাপুর প্রথমস্থান দখল করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। সম্প্রতি হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স এমন একটি পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে।
তালিকায় দেখা যায়, ২০২৬ সালে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ১৯২টি দেশে প্রবেশ করতে পারেন। তুলনামূলকভাবে, তালিকার নিচের দেশগুলোর নাগরিকরা ৫০টিরও কম দেশে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই ব্যবধান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।
সিঙ্গাপুরের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তিনটি দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই তিন দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তবে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমিরাতের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন না—যা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকা (পাশে সেই দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই কয়টি দেশে যেতে পারবেন তার সংখ্যা )
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপ, এখনও শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে এগিয়ে। যেমন নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড উভয়েরই ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার ১৮৫টি দেশে।
২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি একক পাসপোর্ট ব্যবস্থা থাকলেও, সদস্যভেদে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন। যেমন—সুইডেনের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে যেতে পারেন, আর বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার ক্ষেত্রে তা ১৭৭টি।
গড় হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট শক্তি ১৮৩টি ভিসামুক্ত গন্তব্য, যা মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সমান এবং কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা বেশি।
তালিকার নিচের দিকে গেলে পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্বল পাসপোর্টধারীরা ৫০টিরও কম দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও উচ্চ অভিবাসনের প্রবণতা। এসব কারণে অনেক দেশের ওপর ভিসা সীমাবদ্ধতা বাড়ে। যেমন—নাইজেরিয়া (৪৪), সোমালিয়া (৩২) এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪৩) তালিকার নিচের দিকে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, পাসপোর্টের শক্তিমত্তা শুধু ভ্রমণের সুবিধাই নয়। এটি বৈশ্বিক বৈষম্যেরও একটি স্পষ্ট চিত্র। একজন মানুষ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে তিনি বিশ্বের কতটা অংশে সহজে যেতে পারবেন।
সাধারণভাবে দেখা যায়, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পাসপোর্ট তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এমনকি মালয়েশিয়া বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উন্নত উদাহরণ থাকলেও, বড় গন্তব্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসামুক্ত প্রবেশে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়লে এই বৈষম্য কিছুটা কমতে পারে।
সূত্র: হেনলি এ্যান্ড পার্টনারস




