
যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় ইরানের নতুন প্রস্তাব জমা দেওয়ার খবরে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের আকস্মিক ওঠানামা এবং স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের চাহিদার কারণে স্বর্ণের দাম কমার মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্তানীয় সময় শুক্রবার (২ মে) লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ১ শতাংশের বেশি পতন হয়েছিল। এই ঘটনা মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের শুরুতে ৪ হাজার ৫৫৯ ডলার পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। তবে সপ্তাহ শেষে এটি এখনও ১ দশমিক ৭ শতাংশ লোকসানে রয়েছে।
এভারব্যাংকের ওয়ার্ল্ড মার্কেটস প্রেসিডেন্ট ক্রিস গ্যাফনি বলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনার ইতিবাচক খবরে স্বর্ণের দামে লোকসান কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে এফওএমসি পুনরায় সুদের হার কমানো শুরু করতে পারে, যা ইউএস ডলারের মান কমিয়ে দেবে এবং স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক হবে।
রয়টার্স বলছে, অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান কিছুটা কমেছে, ফলে অন্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে স্বর্ণ কেনা সস্তা হয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এই খবরে তেলের দাম কমলেও সাপ্তাহিক হিসেবে তেলের দাম বৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বজায় আছে। ক্রমবর্ধমান খরচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার দীর্ঘসময়ের জন্য উচ্চ রাখতে প্ররোচিত করতে পারে। এতে স্বর্ণের মতো মুনাফাহীন সম্পদে চাপ তৈরি হবে।
ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ এই সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং একটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে বাজার এই বছর সুদের হার কমানোর আশা ছেড়ে দিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হলেও গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পণ্যের দাম কমেছে।
এছাড়াও রুপার দাম ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন লিখেছেন, টানা ষষ্ঠ বছরের বাজার ঘাটতি, মজুত কমে আসা এবং সোলার ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী চাহিদার কারণে রুপার দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা উজ্জ্বল রয়ে গেছে।




