ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

জন্মের সময়ই কি আমাদের ব্যক্তিত্ব নির্ধারিত হয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৩ মে ২০২৬, ১১:১০
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের ব্যক্তিত্ব - মানে আমরা কীভাবে ভাবি, অনুভব করি ও আচরণ করি - এটা কি জন্ম থেকেই ঠিক হয়ে যায়, নাকি জীবন চলার পথে গড়ে ওঠে? এই প্রশ্ন বহুদিনের। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, উত্তরটা সরল নয়, এখানে জিন ও পরিবেশ দুটোরই জটিল ভূমিকা রয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আগে ধারণা ছিল, কিছু নির্দিষ্ট জিন মানুষের আচরণ নির্ধারণ করে। যেমন, একসময় ‘ওয়ারিয়র জিন' নামে পরিচিত একটি জিনকে আক্রমণাত্মক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টা এতটা সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞ আয়সু ওকবে (Aysu Okbay) জানান, মানুষের ব্যক্তিত্ব এক বা দুইটি জিন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং হাজার হাজার জিনের ছোট ছোট প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তিত্বের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অংশ জিনগত হতে পারে। বাকি অংশ আসে পরিবেশ, অভিজ্ঞতা ও জীবনযাপনের প্রভাব থেকে।

টুইন স্টাডি কী বলছে

যমজদের নিয়ে গবেষণা (টুইন স্টাডি) এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। একই ডিএনএ থাকা যমজদের ব্যক্তিত্ব অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও পুরোপুরি এক নয়। অর্থাৎ, জিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র নির্ধারক নয়।

পরিবেশের ভূমিকা

তাহলে কি পরিবেশই সব ঠিক করে? সেটাও পুরো সত্য নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে - বড় কোনো ঘটনা (যেমন দুর্ঘটনা বা বড় সাফল্য) ব্যক্তিত্বে খুব বড় পরিবর্তন আনে না। এছাড়া পরিবার, সমাজ বা অভিজ্ঞতা -সব মিলিয়ে ছোট ছোট প্রভাব ফেলে এবং এসব ছোট প্রভাব একত্রে বড় ভূমিকা তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞানী ব্রেন্ট রবার্টস (Brent Roberts) বলেন, ‘বড় কোনো ট্রমা বা ঘটনা মানুষকে পুরোপুরি বদলে দেয়, এ ধারণা অনেক সময় অতিরঞ্জিত।’

গর্ভকালীন প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় আরও দেখা যাচ্ছে, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়েও কিছু প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- মায়ের মানসিক চাপ শিশুর স্বভাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ‘ফিটাল প্রোগ্রামিং’ নামে পরিচিত একটি ধারণার অংশ।

তবে এই বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

পলিজেনিক ও পলি-এনভায়রনমেন্টাল বাস্তবতা

বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, ব্যক্তিত্ব পলিজেনিক (polygenic) ও পলি-এনভায়রনমেন্টাল (poly-environmental) অনেক অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রভাব। এ ছাড়া জিন ও পরিবেশ একে অপরকে প্রভাবিতও করে। অর্থাৎ, একই জিন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন আচরণ তৈরি করতে পারে।

তাই বলা যায়,, আমরা জন্ম থেকেই কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসি, কিন্তু জীবনভর অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত আমাদের বদলে দেয়। আর মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিত্ব স্থির নয়, সময় অনুযায়ী এর কিছুটা পরিবর্তন হয়।

গবেষক জানা ইন্সটিনস্কে বলেন, ‘জিনগত প্রবণতা থাকলেই যে মানুষ সারাজীবন একইভাবে আচরণ করবে, এমনটা নয়।’

মানুষের ব্যক্তিত্ব কোনো একক কারণে তৈরি হয় না। এটি জিন, পরিবেশ, অভিজ্ঞতা - সবকিছুর মিশ্র ফল। তাই বলা যায়, জন্ম আমাদের শুরুটা নির্ধারণ করে, কিন্তু আমরা কীভাবে বড় হব- তা অনেকটাই নির্ভর করে জীবনের পথে আমরা কী অভিজ্ঞতা পাই এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই তার ওপর।

সূত্র: বিবিসি

৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে মেটা, নজর এআইয়ের দিকে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিশাল অংকের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনক। পাশাপাশি নিজেদের ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। সিএনএন জানাচ্ছে, এর ফলে চাকরি হারাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮ হাজার কর্মী। মেটার প্রধান জনবল কর্মকর্তা জেনেল গেল জানিয়েছেন, আগামী ২০ মে থেকে শুরু হবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে এবং এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৮ হাজার কর্মীর ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে থালি থাকা আরও ৬ হাজার পদে নিয়োগও বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে মেটা এআই অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টারের পেছনে ৭ হাজার ২২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা ২০২৬ সালে ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ চলতি বছর নাটকীয়ভাবে কাজের ধরন বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘যেসব প্রকল্প সম্পন্ন করতে আগে বিশাল দলের প্রয়োজন হতো, এখন এআইয়ের কল্যাণে একজন দক্ষ মানুষই তা করে ফেলছে।’ মূলত ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে মেটা ইদানীং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাব’, ‘মল্টবুক’ ও ‘মানুসের’ মতো বিভিন্ন এআই স্টার্টআপ কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন খরচ করছে। এদিকে ছাঁটাইয়ের আওতায় থাকা কর্মীদের ১৬ সপ্তাহের মূল বেতন এবং প্রতি বছর কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত আরও দুই সপ্তাহের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেটা।
৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে মেটা, নজর এআইয়ের দিকে
এআই কি আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট - যেমন চ্যাটজিপিটি, গুগল জেমিনি এবং ক্লউদ (ChatGPT, Google Gemini, Claude) এখন অনেক মানসিক খাটনির কাজ সহজ করে দিচ্ছে। কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই সুবিধার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে একটি বড় ঝুঁকি- মানসিক দক্ষতা কমে যাওয়া। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক নাটালিয়া কোসমিনা লক্ষ্য করেন, অনেক শিক্ষার্থীর লেখা কভার লেটার প্রায় একই রকম। এতে বোঝা যায়, তারা এআই ব্যবহার করছে। একই সময় তিনি দেখেন, শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় পড়া বিষয়গুলোও সহজে ভুলে যাচ্ছেন। এআই নির্ভরতা কেন চিন্তার বিষয়? গবেষকদের মতে, আমরা যখন চিন্তার কাজগুলো এআইয়ের ওপর ছেড়ে দিই, তখন একে বলা হয় ‘কগনিটিভ অফলোডিং’। এতে আমাদের নিজের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও ভাষার দক্ষতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আগে ইন্টারনেট আসার পর মানুষ তথ্য কম মনে রাখত। এটিকে বলা হয় ‘গুগল ইফেক্ট’। আর এখন এআই ব্যবহারের ফলে এই প্রবণতা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কমে যেতে পারে এক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের তিন দলে ভাগ করা হয়। এক দল চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে, এক দল শুধু সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে, আরেক দল কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। ফলাফল অনুযায়ী - যারা নিজেরা লিখেছে, তাদের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি কার্যকলাপ দেখা গেছে। অন্যদিকে, সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের কার্যকলাপ মাঝামাঝি আর যারা এআই ব্যবহার করেছে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ প্রায় ৫৫% পর্যন্ত কম ছিল।  গবেষকরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারে সৃজনশীলতা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের মস্তিষ্কের অংশ কম সক্রিয় থাকে। স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব গবেষণায় আরও যায়, এআই ব্যবহারকারীরা নিজের লেখা ঠিকভাবে মনে রাখতে পারেনি। তাই অনেকেই নিজের কাজের ওপর মালিকানাবোধ হারিয়েছে। আর সহজেই এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই না করে মেনে নেওয়ার প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এটিকে বলা হয়েছে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’। অর্থাৎ নিজে চিন্তা না করে এআই-এর ওপর নির্ভর করা। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকেরা কয়েক মাস এআই ব্যবহার করার পর নিজেরা রোগ শনাক্ত করার দক্ষতায়ও কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। এছাড়া গবেষকরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি লেখায় সৃজনশীলতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞ ভিভিয়েন মিং-এর মতে, যদি মানুষ নিয়মিত এআই-এর ওপর নির্ভর করে, তাহলে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কমে যেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কম মানসিক সক্রিয়তা ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। যেমন, জিপিএস বেশি ব্যবহার করলে মানুষের দিকনির্দেশনা মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে - এমন তথ্যও গবেষণায় পাওয়া গেছে। তাহলে কি এআই খারাপ? না, এআই সম্পূর্ণ খারাপ নয়। বরং এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক টুল, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আগে নিজে চিন্তা করুন, তারপর এআই ব্যবহার করুন এআই-এর উত্তর সরাসরি গ্রহণ না করে যাচাই করুন শেখার সময় পুরোপুরি এআই-এর ওপর নির্ভর করবেন না এআই-কে এমনভাবে ব্যবহার করুন, যাতে এটি আপনার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি কৌশল হলো ‘নেমেসিস প্রম্পট’ - যেখানে এআই-কে বলা হয় আপনার যুক্তির ভুল খুঁজে বের করতে। এতে চিন্তাশক্তি বাড়ে।  এআই আমাদের কাজ সহজ করছে, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের চিন্তা, স্মৃতি ও সৃজনশীলতার ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে হলে আমাদের নিয়মিত নিজেদের চিন্তাশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করুন; কিন্তু নিজের মস্তিষ্ককে অব্যবহৃত রেখে নয়। সূত্র : বিবিসি 
এআই কি আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে
গত এক বছরে পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার
আমরা ভাবি পৃথিবী সম্পর্কে সবই যেন জানা হয়ে গেছে আমাদের। কিন্তু বাস্তবে এখনও নতুন নতুন আবিষ্কার আমাদের অবাক করেই চলেছে। সূর্য থেকে তৃতীয় এই গ্রহটি এখনও রহস্যে ভরা। প্রতি বছর ঋতু বদলের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তন যেমন আমাদের নতুন করে মুগ্ধ করে, তেমনি বিজ্ঞানীরাও প্রতিনিয়ত পৃথিবী সম্পর্কে নতুন তথ্য জানছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব তথ্য আমাদের আগের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে। পৃথিবী দিবসের সময় এসব আবিষ্কার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, এগুলো শুধু বিস্ময় জাগায় না, বরং আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার প্রেরণাও দেয়। নিচে গত এক বছরে পাওয়া এমন ৯টি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরা হলো। পৃথিবীর আরেকটি ‘চাঁদ’ আছে সম্পূর্ণ চাঁদ না হলেও পৃথিবীর একটি ‘কোয়াসি-মুন’ বা অস্থায়ী উপগ্রহ পাওয়া গেছে, যার নাম পিএন ৭ (PN7)। এটি আসলে একটি গ্রহাণু, যা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তবে পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে আমাদের সঙ্গে আছে এবং আরও কিছু সময় থাকবে। সমুদ্রের গভীরে নতুন প্রাণজগৎ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৬ মাইল গভীরে ‘হেডাল জোন’ নামে পরিচিত এলাকায় একটি নতুন বাস্তুতন্ত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। এখানে সূর্যালোক ছাড়াই নানা প্রাণী টিকে আছে। তারা শক্তির উৎস হিসেবে মিথেন ব্যবহার করে, যা জীবনের সীমা সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সোনা বের হচ্ছে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবীর গভীর কেন্দ্র থেকে সোনা ও অন্যান্য ধাতু ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসছে। আগ্নেয়গিরির লাভার মাধ্যমে এই ধাতুগুলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে উষ্ণতা বাড়ছে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিক অঞ্চলের জমাট মাটি দ্রুত গলছে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যা আবার বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়াচ্ছে। এতে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হচ্ছে। বিবার প্রাণী পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবার নদীতে বাঁধ তৈরি করে জলাভূমি তৈরি করে, যা কার্বন ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভূগর্ভে ভূমিকম্প হচ্ছে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীরে, ম্যান্টল স্তরে ভূমিকম্পের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। আগে ধারণা করা হতো এতো গভীরে ভূমিকম্প হয় না। তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্প বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। অ্যাসপেন গাছ বাঁচিয়েছে নেকড়ে  যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্কে দেখা গেছে, নেকড়ে ফিরে আসার পর অ্যাসপেন গাছ আবার বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, নেকড়ে হরিণের সংখ্যা কমিয়েছে, ফলে গাছগুলো বাঁচার সুযোগ পেয়েছে। ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ থেকে জীবনের সৃষ্টি হতে পারে গবেষণায় দেখা গেছে, পানি ভাঙার সময় তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ বা ‘মাইক্রোলাইটনিং’ জীবনের সূচনায় ভূমিকা রাখতে পারে। এটি নতুন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরিতে সহায়ক। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এগিয়ে গেছে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি কয়লাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হয়েছে। এটি পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। এসব আবিষ্কার প্রমাণ করে, পৃথিবী এখনও আমাদের জন্য নতুন নতুন রহস্য উন্মোচন করছে। একই সঙ্গে এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই গ্রহকে রক্ষা করা কতটা জরুরি। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
গত এক বছরে পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইকে বিশ্বাস করা কি উচিত
গত এক বছরে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। সহজে ডাক্তার পাওয়া না গেলে বা দ্রুত কোনো প্রশ্নের উত্তর দরকার হলে এই প্রযুক্তি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। সবসময় উপস্থিত থাকা, দ্রুত উত্তর দেওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দেওয়া- এসব কারণে চ্যাটবটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে প্রশ্ন হলো, এই ধরনের এআই চ্যাটবটের পরামর্শ কতটা নির্ভরযোগ্য! এটি কি সাধারণ ইন্টারনেট সার্চের মতোই, নাকি এতে কিছু বাড়তি ঝুঁকিও আছে। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা অ্যাবি নামের একজন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এই বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করে। তিনি প্রায়ই তার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন এবং মনে করেন, চ্যাটবট অনেক সময় সাধারণ সার্চের তুলনায় বেশি নির্দিষ্ট পরামর্শ দেয়। তার মতে, এটি অনেকটা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার মতো অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তবে সব সময় অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হয়, এমনটা নয়। একবার হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পিঠে আঘাত পান তিনি। তখন চ্যাটবট তাকে জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে জানায়। কিন্তু পরে দেখা যায়, পরিস্থিতি ততটাও গুরুতর ছিল না। এতে বোঝা যায়, কখনও কখনও চ্যাটবট ভুল সিদ্ধান্তও দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রফেসর স্যার ক্রিস হুইটি বলেন, মানুষ এখন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় এর উত্তর যথেষ্ট নির্ভুল নয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে চ্যাটবটকে পরীক্ষা করেন, তখন এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ফল দেয়। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যখন ধাপে ধাপে তথ্য দেয় বা কিছু তথ্য বাদ পড়ে যায়, তখন চ্যাটবটের সঠিক উত্তরের হার অনেক কমে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে সমস্যা বোঝাতে চেষ্টা করে, তখন সঠিক ফল পাওয়ার হার প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এখানে মূল সমস্যা হলো, মানুষ সব তথ্য একসঙ্গে দেয় না বা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। ফলে চ্যাটবটও ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চ্যাটবট ব্যবহার করলে অনেক সময় মনে হয় এটি ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দিচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীরা সেই তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ ওয়েবসাইটে তথ্য খুঁজলে উৎস যাচাই করার সুযোগ বেশি থাকে। এআই চ্যাটবট দ্রুত ও সহজ তথ্য পাওয়ার একটি উপায় হতে পারে, তবে এটিকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য জানার জন্য এটি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু গুরুতর বা জটিল সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতা এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র : বিবিসি
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইকে বিশ্বাস করা কি উচিত
সূর্যের উত্তাপে চূর্ণবিচূর্ণ গ্রহাণু, পৃথিবী থেকে উল্কাবৃষ্টিরূপে দেখা যাবে
অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। মহাকাশে সূর্যের প্রচণ্ড তাপে একটি বিশাল গ্রহাণু (অ্যাস্টেরয়েড) ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যাচ্ছে। আর পৃথিবী সেই গ্রহাণুর ধ্বংসাবশেষের মেঘের ভেতর দিয়ে ছুটে চলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহাণুর ধ্বংসাবশেষের সেই টুকরাগুলো পৃথিবী থেকে উল্কাবৃষ্টি আকারে দেখা যাবে।  এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। নাসার একজন বিজ্ঞানী সতর্ক করেছেন, পৃথিবী এখন গ্রহাণুর ধ্বংসাবশেষের ঠিক মাঝখান দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।  লাখ লাখ উল্কা পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২৮২টি উল্কার শুটিং স্টারের একটি গুচ্ছ খুঁজে পেয়েছেন নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. প্যাট্রিক শোবার এবং তার দল। গুচ্ছটি মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি বিশালাকার পাথুরে গ্রহাণু সূর্যের খুব কাছে চলে যাওয়ায় সূর্যের তাপে সেটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে এবং কিছু অংশ ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। এই ভেঙে যাওয়া টুকরাগুলো এখন মহাকাশে ছড়িয়ে আছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘রক-কমেট’ বা পাথুরে ধূমকেতু বলছেন। যদিও এই মুহূর্তে এটি পৃথিবীর জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনছে না, তবে বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ড. শোবার জানিয়েছেন, এই ধরনের অদৃশ্য গ্রহাণুগুলো পৃথিবীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। এই গ্রহাণুটি সূর্যের এত কাছে ছিল যে, একে আগে দেখা যায়নি।  ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে নাসা একটি বিশেষ টেলিস্কোপ (এনইও সার্ভেয়র) উৎক্ষেপণ করবে, যা দিয়ে এই ধরনের বিপজ্জনক ও অন্ধকার গ্রহাণুগুলো শনাক্ত করা সহজ হবে। পৃথিবীর বাসিন্দাদের জন্য এই ঘটনার প্রভাব মূলত ইতিবাচক এবং দৃশ্যত সুন্দর। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধ্বংসাবশেষের ভেতর দিয়ে পৃথিবী যাওয়ার সময় প্রতিবছর ১৬ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত আকাশে নতুন এক উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘এম২০২৬-এ১’। উল্কাগুলো আকারে বালুকণার মতো ছোট। এগুলো যখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৪ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে। ফলে একে শুটিং স্টার বা তারা খসা হিসেবে দেখে পৃথিবীতে বসবাসকারীরা। এগুলো ভূপৃষ্ঠে আঘাত করার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফলে পৃথিবীর বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। 
সূর্যের উত্তাপে চূর্ণবিচূর্ণ গ্রহাণু, পৃথিবী থেকে উল্কাবৃষ্টিরূপে দেখা যাবে
৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে মেটা, নজর এআইয়ের দিকে
৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে মেটা, নজর এআইয়ের দিকে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিশাল অংকের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনক। পাশাপাশি নিজেদের ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। সিএনএন জানাচ্ছে, এর ফলে চাকরি হারাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮ হাজার কর্মী। মেটার প্রধান জনবল কর্মকর্তা জেনেল গেল জানিয়েছেন, আগামী ২০ মে থেকে শুরু হবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে এবং এআই খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৮ হাজার কর্মীর ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে থালি থাকা আরও ৬ হাজার পদে নিয়োগও বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে মেটা এআই অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টারের পেছনে ৭ হাজার ২২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা ২০২৬ সালে ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ চলতি বছর নাটকীয়ভাবে কাজের ধরন বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘যেসব প্রকল্প সম্পন্ন করতে আগে বিশাল দলের প্রয়োজন হতো, এখন এআইয়ের কল্যাণে একজন দক্ষ মানুষই তা করে ফেলছে।’ মূলত ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে মেটা ইদানীং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাব’, ‘মল্টবুক’ ও ‘মানুসের’ মতো বিভিন্ন এআই স্টার্টআপ কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন খরচ করছে। এদিকে ছাঁটাইয়ের আওতায় থাকা কর্মীদের ১৬ সপ্তাহের মূল বেতন এবং প্রতি বছর কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত আরও দুই সপ্তাহের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মেটা।
এআই কি আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে
এআই কি আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট - যেমন চ্যাটজিপিটি, গুগল জেমিনি এবং ক্লউদ (ChatGPT, Google Gemini, Claude) এখন অনেক মানসিক খাটনির কাজ সহজ করে দিচ্ছে। কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই সুবিধার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে একটি বড় ঝুঁকি- মানসিক দক্ষতা কমে যাওয়া। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক নাটালিয়া কোসমিনা লক্ষ্য করেন, অনেক শিক্ষার্থীর লেখা কভার লেটার প্রায় একই রকম। এতে বোঝা যায়, তারা এআই ব্যবহার করছে। একই সময় তিনি দেখেন, শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় পড়া বিষয়গুলোও সহজে ভুলে যাচ্ছেন। এআই নির্ভরতা কেন চিন্তার বিষয়? গবেষকদের মতে, আমরা যখন চিন্তার কাজগুলো এআইয়ের ওপর ছেড়ে দিই, তখন একে বলা হয় ‘কগনিটিভ অফলোডিং’। এতে আমাদের নিজের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও ভাষার দক্ষতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আগে ইন্টারনেট আসার পর মানুষ তথ্য কম মনে রাখত। এটিকে বলা হয় ‘গুগল ইফেক্ট’। আর এখন এআই ব্যবহারের ফলে এই প্রবণতা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কমে যেতে পারে এক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের তিন দলে ভাগ করা হয়। এক দল চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে, এক দল শুধু সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে, আরেক দল কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। ফলাফল অনুযায়ী - যারা নিজেরা লিখেছে, তাদের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি কার্যকলাপ দেখা গেছে। অন্যদিকে, সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের কার্যকলাপ মাঝামাঝি আর যারা এআই ব্যবহার করেছে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ প্রায় ৫৫% পর্যন্ত কম ছিল।  গবেষকরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারে সৃজনশীলতা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের মস্তিষ্কের অংশ কম সক্রিয় থাকে। স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব গবেষণায় আরও যায়, এআই ব্যবহারকারীরা নিজের লেখা ঠিকভাবে মনে রাখতে পারেনি। তাই অনেকেই নিজের কাজের ওপর মালিকানাবোধ হারিয়েছে। আর সহজেই এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই না করে মেনে নেওয়ার প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এটিকে বলা হয়েছে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’। অর্থাৎ নিজে চিন্তা না করে এআই-এর ওপর নির্ভর করা। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকেরা কয়েক মাস এআই ব্যবহার করার পর নিজেরা রোগ শনাক্ত করার দক্ষতায়ও কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। এছাড়া গবেষকরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি লেখায় সৃজনশীলতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞ ভিভিয়েন মিং-এর মতে, যদি মানুষ নিয়মিত এআই-এর ওপর নির্ভর করে, তাহলে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কমে যেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কম মানসিক সক্রিয়তা ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। যেমন, জিপিএস বেশি ব্যবহার করলে মানুষের দিকনির্দেশনা মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে - এমন তথ্যও গবেষণায় পাওয়া গেছে। তাহলে কি এআই খারাপ? না, এআই সম্পূর্ণ খারাপ নয়। বরং এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক টুল, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আগে নিজে চিন্তা করুন, তারপর এআই ব্যবহার করুন এআই-এর উত্তর সরাসরি গ্রহণ না করে যাচাই করুন শেখার সময় পুরোপুরি এআই-এর ওপর নির্ভর করবেন না এআই-কে এমনভাবে ব্যবহার করুন, যাতে এটি আপনার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি কৌশল হলো ‘নেমেসিস প্রম্পট’ - যেখানে এআই-কে বলা হয় আপনার যুক্তির ভুল খুঁজে বের করতে। এতে চিন্তাশক্তি বাড়ে।  এআই আমাদের কাজ সহজ করছে, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের চিন্তা, স্মৃতি ও সৃজনশীলতার ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে হলে আমাদের নিয়মিত নিজেদের চিন্তাশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করুন; কিন্তু নিজের মস্তিষ্ককে অব্যবহৃত রেখে নয়। সূত্র : বিবিসি 
গত এক বছরে পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার
গত এক বছরে পৃথিবী নিয়ে বিজ্ঞানীদের ৯ চমকপ্রদ আবিষ্কার
আমরা ভাবি পৃথিবী সম্পর্কে সবই যেন জানা হয়ে গেছে আমাদের। কিন্তু বাস্তবে এখনও নতুন নতুন আবিষ্কার আমাদের অবাক করেই চলেছে। সূর্য থেকে তৃতীয় এই গ্রহটি এখনও রহস্যে ভরা। প্রতি বছর ঋতু বদলের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তন যেমন আমাদের নতুন করে মুগ্ধ করে, তেমনি বিজ্ঞানীরাও প্রতিনিয়ত পৃথিবী সম্পর্কে নতুন তথ্য জানছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব তথ্য আমাদের আগের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে। পৃথিবী দিবসের সময় এসব আবিষ্কার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, এগুলো শুধু বিস্ময় জাগায় না, বরং আমাদের গ্রহকে রক্ষা করার প্রেরণাও দেয়। নিচে গত এক বছরে পাওয়া এমন ৯টি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরা হলো। পৃথিবীর আরেকটি ‘চাঁদ’ আছে সম্পূর্ণ চাঁদ না হলেও পৃথিবীর একটি ‘কোয়াসি-মুন’ বা অস্থায়ী উপগ্রহ পাওয়া গেছে, যার নাম পিএন ৭ (PN7)। এটি আসলে একটি গ্রহাণু, যা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তবে পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে আমাদের সঙ্গে আছে এবং আরও কিছু সময় থাকবে। সমুদ্রের গভীরে নতুন প্রাণজগৎ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৬ মাইল গভীরে ‘হেডাল জোন’ নামে পরিচিত এলাকায় একটি নতুন বাস্তুতন্ত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। এখানে সূর্যালোক ছাড়াই নানা প্রাণী টিকে আছে। তারা শক্তির উৎস হিসেবে মিথেন ব্যবহার করে, যা জীবনের সীমা সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সোনা বের হচ্ছে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবীর গভীর কেন্দ্র থেকে সোনা ও অন্যান্য ধাতু ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসছে। আগ্নেয়গিরির লাভার মাধ্যমে এই ধাতুগুলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে। আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে উষ্ণতা বাড়ছে গবেষণায় দেখা গেছে, আর্কটিক অঞ্চলের জমাট মাটি দ্রুত গলছে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, যা আবার বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়াচ্ছে। এতে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হচ্ছে। বিবার প্রাণী পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবার নদীতে বাঁধ তৈরি করে জলাভূমি তৈরি করে, যা কার্বন ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভূগর্ভে ভূমিকম্প হচ্ছে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীরে, ম্যান্টল স্তরে ভূমিকম্পের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। আগে ধারণা করা হতো এতো গভীরে ভূমিকম্প হয় না। তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্প বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। অ্যাসপেন গাছ বাঁচিয়েছে নেকড়ে  যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্কে দেখা গেছে, নেকড়ে ফিরে আসার পর অ্যাসপেন গাছ আবার বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, নেকড়ে হরিণের সংখ্যা কমিয়েছে, ফলে গাছগুলো বাঁচার সুযোগ পেয়েছে। ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ থেকে জীবনের সৃষ্টি হতে পারে গবেষণায় দেখা গেছে, পানি ভাঙার সময় তৈরি হওয়া ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ বা ‘মাইক্রোলাইটনিং’ জীবনের সূচনায় ভূমিকা রাখতে পারে। এটি নতুন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরিতে সহায়ক। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এগিয়ে গেছে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি কয়লাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হয়েছে। এটি পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। এসব আবিষ্কার প্রমাণ করে, পৃথিবী এখনও আমাদের জন্য নতুন নতুন রহস্য উন্মোচন করছে। একই সঙ্গে এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই গ্রহকে রক্ষা করা কতটা জরুরি। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইকে বিশ্বাস করা কি উচিত
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইকে বিশ্বাস করা কি উচিত
গত এক বছরে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। সহজে ডাক্তার পাওয়া না গেলে বা দ্রুত কোনো প্রশ্নের উত্তর দরকার হলে এই প্রযুক্তি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। সবসময় উপস্থিত থাকা, দ্রুত উত্তর দেওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দেওয়া- এসব কারণে চ্যাটবটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে প্রশ্ন হলো, এই ধরনের এআই চ্যাটবটের পরামর্শ কতটা নির্ভরযোগ্য! এটি কি সাধারণ ইন্টারনেট সার্চের মতোই, নাকি এতে কিছু বাড়তি ঝুঁকিও আছে। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা অ্যাবি নামের একজন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এই বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করে। তিনি প্রায়ই তার স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন এবং মনে করেন, চ্যাটবট অনেক সময় সাধারণ সার্চের তুলনায় বেশি নির্দিষ্ট পরামর্শ দেয়। তার মতে, এটি অনেকটা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার মতো অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তবে সব সময় অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হয়, এমনটা নয়। একবার হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পিঠে আঘাত পান তিনি। তখন চ্যাটবট তাকে জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে জানায়। কিন্তু পরে দেখা যায়, পরিস্থিতি ততটাও গুরুতর ছিল না। এতে বোঝা যায়, কখনও কখনও চ্যাটবট ভুল সিদ্ধান্তও দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রফেসর স্যার ক্রিস হুইটি বলেন, মানুষ এখন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় এর উত্তর যথেষ্ট নির্ভুল নয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে চ্যাটবটকে পরীক্ষা করেন, তখন এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ফল দেয়। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যখন ধাপে ধাপে তথ্য দেয় বা কিছু তথ্য বাদ পড়ে যায়, তখন চ্যাটবটের সঠিক উত্তরের হার অনেক কমে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে সমস্যা বোঝাতে চেষ্টা করে, তখন সঠিক ফল পাওয়ার হার প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এখানে মূল সমস্যা হলো, মানুষ সব তথ্য একসঙ্গে দেয় না বা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। ফলে চ্যাটবটও ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চ্যাটবট ব্যবহার করলে অনেক সময় মনে হয় এটি ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দিচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীরা সেই তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ ওয়েবসাইটে তথ্য খুঁজলে উৎস যাচাই করার সুযোগ বেশি থাকে। এআই চ্যাটবট দ্রুত ও সহজ তথ্য পাওয়ার একটি উপায় হতে পারে, তবে এটিকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য জানার জন্য এটি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু গুরুতর বা জটিল সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতা এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র : বিবিসি