ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে রাশিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬
পুতিনের সঙ্গে আব্বাস আরাঘচির সাক্ষাৎ। পুরেনো ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সফর শেষে এবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ায় গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সোমবার (২৭ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা আরাঘচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ইররান বরাতে জানিয়েছে, আরাঘচির এই সফরের একটি বিশেষ দিক ছিল তার বিমানের কলসাইন (সাংকেতিক নাম)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে বিমানটির কলসাইন রাখা হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’।

আরাঘচির এই সফরের মধ্যে ভিয়েনায় নিযুক্ত রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর জোর খাটিয়ে বা সামরিক হুমকির মাধ্যমে কোনো সুফল আসবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ উলিয়ানভ এক বার্তায় বলেন, আমেরিকা সবসময় শক্তির দাপট দেখিয়ে এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে চায়। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে এই পুরোনো চাল একদমই অকার্যকর।

তিনি বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে ওয়াশিংটনকে তাদের অবস্থান থেকে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ বা ‘আলটিমেটাম’ দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

রোববার ওমান সফর শেষ করে পাকিস্তানে পুনরায় সফর করেন আরাঘচি। ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি রাশিয়ায় সফর করলেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থন তেহরানকে আরও শক্তিশালী করছে বলে ধারণা করছেন কূটনীতিকরা।

হান্টা ভাইরাস নিয়ে গবেষকদের নতুন বার্তা
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হুনডিউস প্রমোদতরির যাত্রীরা হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।   বর্তমানে এই ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এই ধরনটির নাম দিয়েছেন ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’। তিনজনের মৃত্যু ছাড়াও এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টা ভাইরাস শনাক্তের তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।  সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে ভাইরাস ছড়ালেও অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির লালায়ও এই ভাইরাস থাকে। ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। পরিবারের সদস্যদের চেয়ে যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে প্রমোদতরির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখতে গিয়ে দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমে জাহাজে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়ে। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ আরোহী ছিলেন। পথে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪ এপ্রিল বেশ কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ সেই যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।   তবে এই ভাইরাস নিয়ে কোভিড মহামারির মতো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।     ডব্লিউএইচওর এক সংবাদ সম্মেলনে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেন, হান্টা ভাইরাসে সংক্রমিত জাহাজ এমভি হুন্ডিয়াসের সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের উচিৎ আরও বেশি সুরক্ষামূলক পোশাক-আশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা।   হান্টা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে, তারা সংক্রমিত হয়েছে কি হয়নি তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে এই ভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এটি না কোভিড, না ইনফ্লুয়েঞ্জা, এর ছড়ানোর ধরন একেবারেই আলাদা।  হান্টাভাইরাসের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, এখনকার পরিস্থিতি ছয় বছর আগেকার পরিস্থিতির মতো নয়। সংক্রমণের ধরন পরিষ্কার করে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। এটি এমন একটি প্রাদুর্ভাব, যা কেবল একটি জাহাজে দেখা যাচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় এই ভাইরাস অনেক কম ছড়ায়। জাহাজের মতো ছোট জায়গায় কাছাকাছি থাকার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে, ভাইরাসের শক্তি বাড়ার কারণে নয়। আক্রান্তদের আলাদা করা বা কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে এই সংক্রমণ সহজেই থামিয়ে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা।  অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার গতি মহামারি হওয়ার মতো নয়।
হান্টা ভাইরাস নিয়ে গবেষকদের নতুন বার্তা
ইঁদুরের বর্জ্য থেকে বিশ্বে নতুন ভাইরাস, শনাক্তে দৌড়ঝাঁপ
পারস্য উপসাগর কিংবা আটলান্টিক—ক্রুজ শিপ থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে এখন পুরো বিশ্ব। ‘এমভি হুনডিউস’ নামের একটি পর্যটকবাহী জাহাজ থেকে এই ভাইরাসের সূত্রপাত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এখন আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরীতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম সন্দেহভাজন রোগী ছিলেন ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক। জাহাজে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার জ্বর, মাথাব্যথা ও পেটব্যাথা দেখা দেয়। পরে গত ১১ এপ্রিল তিনি মারা যান। জাহাজটির অপারেটর ওশানওয়াইড এক্সপিডিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ নাগরিকসহ ২৩টি দেশের মোট ১৪৬ জন যাত্রী এখন জাহাজে রয়েছেন। তাদের ‘কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ মধ্যে রাখা হয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে অন্তত ৩০ যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুতর রোগীকে আকাশপথে ইউরোপে পাঠানো হয়। বাকি যাত্রীরা এই সপ্তাহের শেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তারা নিজ দেশে ফিরবেন। জাহাজের যাত্রী ও চিকিৎসক স্টিফেন কর্নফেল্ড সিএনএনকে জানান, জাহাজের মূল ডাক্তারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখন রোগীদের দেখভাল করার দায়িত্বও তার। তিনি বলেন, যাত্রীরা তিন-চার সপ্তাহ ধরে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সব যাত্রী সুস্থ থাকবেন বলে তিনি আশাবাদী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, আক্রান্ত ডাচ দম্পতি জাহাজে ওঠার আগে দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চলে পাখি দেখার সময় ইঁদুরের বর্জ্য থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন। হান্টা ভাইরাসের এই ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ অত্যন্ত বিরল। এটি মানুষ থেকে মানুষের শরীরে খুব সহজে ছড়াতে পারে। বর্তমানে ওই দম্পতির ভ্রমণ করা স্থানগুলোতে ইঁদুর ধরে পরীক্ষা চালাচ্ছে আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ। অন্য কোথাও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে। বিভিন্ন দেশে কতজন আক্রান্ত ও শনাক্ত নেদারল্যান্ডস: আকাশপথে আসা ৩ জন চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া বিমানের এক আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা এক এয়ারলাইন ক্রুসহ ৩ জনকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা: একজন ব্রিটিশ নাগরিক আইসিইউতে আছেন। তবে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সুইজারল্যান্ড: জুরিখে একজন যাত্রীর হান্টা ভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য: সেন্ট হেলেনায় নামা ২ জন ব্রিটিশ নাগরিক বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। আরও ৫ জনের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র: ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেশ কিছু যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবাই সুস্থ আছেন। সিঙ্গাপুর: ৬০ বছর বয়সী দুজন পুরুষ আইসোলেশনে আছেন এবং পরীক্ষা চলছে। কানাডা: তিনজন আইসোলেশনে আছেন। তাদের মধ্যে একজন জাহাজে না থাকলেও আক্রান্তদের সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন। ফ্রান্স: আটজন ফরাসি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা বিমানে একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলে। তাদের পরীক্ষা চলছে।
ইঁদুরের বর্জ্য থেকে বিশ্বে নতুন ভাইরাস, শনাক্তে দৌড়ঝাঁপ
বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে আগের দিনের বড় পতনের পর স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার (৫ মে) বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও মুদ্রাস্ফীতির ভয় বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারছে না। আলজাাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫৪৩ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। সোমবার এই দাম প্রায় ২ শতাংশেরও বেশি কমে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও  দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার পর্যযবেক্ষক সংস্থা টেস্টিলাইভের বিশেষজ্ঞ ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, মূলত বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সোমবার বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, স্বর্ণের দাম এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তবে বিনিয়োগকারীদের এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেলের দাম।  বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের শক্তি ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বাড়ছে। সাধারণত যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, তখন মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনেন। কিন্তু বর্তমানে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে সুদের সুবিধা পাওয়া যায় এমন খাতের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। ফলে স্বর্ণের দাম যতটা বাড়ার কথা ছিল, তেলের দাম ও সুদের হারের আশঙ্কায় তা বাড়ছে না। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন সুদের হারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। কারণ এই প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
চলতি বছরের বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় সিঙ্গাপুর প্রথমস্থান দখল করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। সম্প্রতি হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স এমন একটি পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় দেখা যায়, ২০২৬ সালে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ১৯২টি দেশে প্রবেশ করতে পারেন। তুলনামূলকভাবে, তালিকার নিচের দেশগুলোর নাগরিকরা ৫০টিরও কম দেশে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই ব্যবধান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। এশিয়া ও ইউরোপের শীর্ষ পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তিনটি দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং  সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই তিন দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তবে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমিরাতের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন না—যা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকা (পাশে সেই দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই কয়টি দেশে যেতে পারবেন তার সংখ্যা ) সিঙ্গাপুর (১৯২) জাপান (১৮৭) দক্ষিণ কোরিয়া (১৮৭) সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮৭) নরওয়ে (১৮৫) সুইজারল্যান্ড (১৮৫) ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় (১৮৩) মালয়েশিয়া (১৮৩) যুক্তরাজ্য (১৮৩) অস্ট্রেলিয়া (১৮২) কানাডা (১৮২) নিউজিল্যান্ড (১৮২) লিশটেনস্টাইন (১৮০) আইসল্যান্ড (১৭৯) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৭৯) মোনাকো (১৭৬) চিলি (১৭৪) হংকং (১৭৪) অ্যান্ডোরা (১৬৯) আর্জেন্টিনা (১৬৮) ব্রাজিল (১৬৮) বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপ, এখনও শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে এগিয়ে। যেমন নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড উভয়েরই ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার ১৮৫টি দেশে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি একক পাসপোর্ট ব্যবস্থা থাকলেও, সদস্যভেদে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন। যেমন—সুইডেনের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে যেতে পারেন, আর বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার ক্ষেত্রে তা ১৭৭টি। গড় হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট শক্তি ১৮৩টি ভিসামুক্ত গন্তব্য, যা মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সমান এবং কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট তালিকার নিচের দিকে গেলে পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্বল পাসপোর্টধারীরা ৫০টিরও কম দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও উচ্চ অভিবাসনের প্রবণতা। এসব কারণে অনেক দেশের ওপর ভিসা সীমাবদ্ধতা বাড়ে। যেমন—নাইজেরিয়া (৪৪), সোমালিয়া (৩২) এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪৩) তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেন, পাসপোর্টের শক্তিমত্তা শুধু ভ্রমণের সুবিধাই নয়। এটি বৈশ্বিক বৈষম্যেরও একটি স্পষ্ট চিত্র। একজন মানুষ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে তিনি বিশ্বের কতটা অংশে সহজে যেতে পারবেন। সাধারণভাবে দেখা যায়, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পাসপোর্ট তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এমনকি মালয়েশিয়া বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উন্নত উদাহরণ থাকলেও, বড় গন্তব্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসামুক্ত প্রবেশে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়লে এই বৈষম্য কিছুটা কমতে পারে। সূত্র: হেনলি এ্যান্ড পার্টনারস
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
আটলান্টিকের প্রমোদতরীতে হান্টা ভাইরাসের হানা, ৩ পর্যটকের মৃত্যু
আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হুনডিউস’ নামক একটি প্রমোদতরীতে রহস্যময় হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে আরও পাঁচজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপ কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরীটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রমোদতরীটির একজন ৭০ বছর বয়সী যাত্রী প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে।  নিহত ব্যক্তির ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রীও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মৃত এই দম্পতি নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। এছাড়া জাহাজে থাকা আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।  বর্তমানে একজন ব্রিটিশ নাগরিক জোহানেসবার্গে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া কেপ ভার্দের একটি হাসপাতালে আরও দুই যাত্রীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভাইরাসের সঠিক ধরন শনাক্ত করতে আক্রান্তদের জিনগত বিশ্লেষণ এবং গবেষণাগারে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।  কী এই হান্টা ভাইরাস? বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টা ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক রোগ, যা সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুর বা রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীর মলমূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিরল ক্ষেত্রে এটি মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের জটিলতা তৈরি হয়, যা দ্রুত চিকিৎসার অভাবে প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রী ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। প্রমোদতরীটির বাকি যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
আটলান্টিকের প্রমোদতরীতে হান্টা ভাইরাসের হানা, ৩ পর্যটকের মৃত্যু
হান্টা ভাইরাস নিয়ে গবেষকদের নতুন বার্তা
হান্টা ভাইরাস নিয়ে গবেষকদের নতুন বার্তা
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হুনডিউস প্রমোদতরির যাত্রীরা হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।   বর্তমানে এই ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এই ধরনটির নাম দিয়েছেন ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’। তিনজনের মৃত্যু ছাড়াও এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টা ভাইরাস শনাক্তের তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।  সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে ভাইরাস ছড়ালেও অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির লালায়ও এই ভাইরাস থাকে। ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। পরিবারের সদস্যদের চেয়ে যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে প্রমোদতরির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখতে গিয়ে দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমে জাহাজে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়ে। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ আরোহী ছিলেন। পথে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪ এপ্রিল বেশ কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ সেই যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।   তবে এই ভাইরাস নিয়ে কোভিড মহামারির মতো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।     ডব্লিউএইচওর এক সংবাদ সম্মেলনে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেন, হান্টা ভাইরাসে সংক্রমিত জাহাজ এমভি হুন্ডিয়াসের সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের উচিৎ আরও বেশি সুরক্ষামূলক পোশাক-আশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা।   হান্টা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে, তারা সংক্রমিত হয়েছে কি হয়নি তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে এই ভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এটি না কোভিড, না ইনফ্লুয়েঞ্জা, এর ছড়ানোর ধরন একেবারেই আলাদা।  হান্টাভাইরাসের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, এখনকার পরিস্থিতি ছয় বছর আগেকার পরিস্থিতির মতো নয়। সংক্রমণের ধরন পরিষ্কার করে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। এটি এমন একটি প্রাদুর্ভাব, যা কেবল একটি জাহাজে দেখা যাচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় এই ভাইরাস অনেক কম ছড়ায়। জাহাজের মতো ছোট জায়গায় কাছাকাছি থাকার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে, ভাইরাসের শক্তি বাড়ার কারণে নয়। আক্রান্তদের আলাদা করা বা কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে এই সংক্রমণ সহজেই থামিয়ে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা।  অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার গতি মহামারি হওয়ার মতো নয়।
ইঁদুরের বর্জ্য থেকে বিশ্বে নতুন ভাইরাস, শনাক্তে দৌড়ঝাঁপ
ইঁদুরের বর্জ্য থেকে বিশ্বে নতুন ভাইরাস, শনাক্তে দৌড়ঝাঁপ
পারস্য উপসাগর কিংবা আটলান্টিক—ক্রুজ শিপ থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে এখন পুরো বিশ্ব। ‘এমভি হুনডিউস’ নামের একটি পর্যটকবাহী জাহাজ থেকে এই ভাইরাসের সূত্রপাত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এখন আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরীতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম সন্দেহভাজন রোগী ছিলেন ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক। জাহাজে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার জ্বর, মাথাব্যথা ও পেটব্যাথা দেখা দেয়। পরে গত ১১ এপ্রিল তিনি মারা যান। জাহাজটির অপারেটর ওশানওয়াইড এক্সপিডিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ নাগরিকসহ ২৩টি দেশের মোট ১৪৬ জন যাত্রী এখন জাহাজে রয়েছেন। তাদের ‘কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ মধ্যে রাখা হয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে অন্তত ৩০ যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুতর রোগীকে আকাশপথে ইউরোপে পাঠানো হয়। বাকি যাত্রীরা এই সপ্তাহের শেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তারা নিজ দেশে ফিরবেন। জাহাজের যাত্রী ও চিকিৎসক স্টিফেন কর্নফেল্ড সিএনএনকে জানান, জাহাজের মূল ডাক্তারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখন রোগীদের দেখভাল করার দায়িত্বও তার। তিনি বলেন, যাত্রীরা তিন-চার সপ্তাহ ধরে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সব যাত্রী সুস্থ থাকবেন বলে তিনি আশাবাদী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, আক্রান্ত ডাচ দম্পতি জাহাজে ওঠার আগে দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চলে পাখি দেখার সময় ইঁদুরের বর্জ্য থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন। হান্টা ভাইরাসের এই ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ অত্যন্ত বিরল। এটি মানুষ থেকে মানুষের শরীরে খুব সহজে ছড়াতে পারে। বর্তমানে ওই দম্পতির ভ্রমণ করা স্থানগুলোতে ইঁদুর ধরে পরীক্ষা চালাচ্ছে আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ। অন্য কোথাও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে। বিভিন্ন দেশে কতজন আক্রান্ত ও শনাক্ত নেদারল্যান্ডস: আকাশপথে আসা ৩ জন চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া বিমানের এক আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা এক এয়ারলাইন ক্রুসহ ৩ জনকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা: একজন ব্রিটিশ নাগরিক আইসিইউতে আছেন। তবে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সুইজারল্যান্ড: জুরিখে একজন যাত্রীর হান্টা ভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য: সেন্ট হেলেনায় নামা ২ জন ব্রিটিশ নাগরিক বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। আরও ৫ জনের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র: ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেশ কিছু যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবাই সুস্থ আছেন। সিঙ্গাপুর: ৬০ বছর বয়সী দুজন পুরুষ আইসোলেশনে আছেন এবং পরীক্ষা চলছে। কানাডা: তিনজন আইসোলেশনে আছেন। তাদের মধ্যে একজন জাহাজে না থাকলেও আক্রান্তদের সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন। ফ্রান্স: আটজন ফরাসি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা বিমানে একজন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলে। তাদের পরীক্ষা চলছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে আগের দিনের বড় পতনের পর স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার (৫ মে) বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও মুদ্রাস্ফীতির ভয় বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারছে না। আলজাাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫৪৩ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। সোমবার এই দাম প্রায় ২ শতাংশেরও বেশি কমে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও  দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার পর্যযবেক্ষক সংস্থা টেস্টিলাইভের বিশেষজ্ঞ ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, মূলত বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সোমবার বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, স্বর্ণের দাম এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তবে বিনিয়োগকারীদের এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেলের দাম।  বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের শক্তি ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বাড়ছে। সাধারণত যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, তখন মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনেন। কিন্তু বর্তমানে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে সুদের সুবিধা পাওয়া যায় এমন খাতের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। ফলে স্বর্ণের দাম যতটা বাড়ার কথা ছিল, তেলের দাম ও সুদের হারের আশঙ্কায় তা বাড়ছে না। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন সুদের হারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। কারণ এই প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে শীর্ষে সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
চলতি বছরের বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় সিঙ্গাপুর প্রথমস্থান দখল করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। সম্প্রতি হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স এমন একটি পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় দেখা যায়, ২০২৬ সালে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ১৯২টি দেশে প্রবেশ করতে পারেন। তুলনামূলকভাবে, তালিকার নিচের দেশগুলোর নাগরিকরা ৫০টিরও কম দেশে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই ব্যবধান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। এশিয়া ও ইউরোপের শীর্ষ পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তিনটি দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং  সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই তিন দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তবে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমিরাতের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন না—যা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকা (পাশে সেই দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই কয়টি দেশে যেতে পারবেন তার সংখ্যা ) সিঙ্গাপুর (১৯২) জাপান (১৮৭) দক্ষিণ কোরিয়া (১৮৭) সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮৭) নরওয়ে (১৮৫) সুইজারল্যান্ড (১৮৫) ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় (১৮৩) মালয়েশিয়া (১৮৩) যুক্তরাজ্য (১৮৩) অস্ট্রেলিয়া (১৮২) কানাডা (১৮২) নিউজিল্যান্ড (১৮২) লিশটেনস্টাইন (১৮০) আইসল্যান্ড (১৭৯) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৭৯) মোনাকো (১৭৬) চিলি (১৭৪) হংকং (১৭৪) অ্যান্ডোরা (১৬৯) আর্জেন্টিনা (১৬৮) ব্রাজিল (১৬৮) বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপের দেশগুলো, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপ, এখনও শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে এগিয়ে। যেমন নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড উভয়েরই ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার ১৮৫টি দেশে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি একক পাসপোর্ট ব্যবস্থা থাকলেও, সদস্যভেদে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন। যেমন—সুইডেনের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে যেতে পারেন, আর বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার ক্ষেত্রে তা ১৭৭টি। গড় হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট শক্তি ১৮৩টি ভিসামুক্ত গন্তব্য, যা মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সমান এবং কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট তালিকার নিচের দিকে গেলে পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্বল পাসপোর্টধারীরা ৫০টিরও কম দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও উচ্চ অভিবাসনের প্রবণতা। এসব কারণে অনেক দেশের ওপর ভিসা সীমাবদ্ধতা বাড়ে। যেমন—নাইজেরিয়া (৪৪), সোমালিয়া (৩২) এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪৩) তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেন, পাসপোর্টের শক্তিমত্তা শুধু ভ্রমণের সুবিধাই নয়। এটি বৈশ্বিক বৈষম্যেরও একটি স্পষ্ট চিত্র। একজন মানুষ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে তিনি বিশ্বের কতটা অংশে সহজে যেতে পারবেন। সাধারণভাবে দেখা যায়, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পাসপোর্ট তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এমনকি মালয়েশিয়া বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উন্নত উদাহরণ থাকলেও, বড় গন্তব্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসামুক্ত প্রবেশে এখনও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়লে এই বৈষম্য কিছুটা কমতে পারে। সূত্র: হেনলি এ্যান্ড পার্টনারস