যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই স্থগিত রাখা হয়েছে। এ খবরে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দামে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দুই দেশের আলোচনায় অগ্রগতি না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এক প্রকার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গতকাল রোববার ২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৩৫ ডলার। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। তেলের এই বাড়তি দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে তেলের দাম বাড়লেও এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিনিয়োগকারীরা আপাতত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ দিনের শুরুতে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার কসপি’তে দেখা গেছে, সেখানে সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা থমকে যাওয়া বাজারের জন্য নেতিবাচক, তবে এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বিকল্প অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি বিশ্ব বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
এদিকে গত শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আকস্মিক তেহরানে ফিরে আসেন। অবশ্য পরদিন রোববার রাতে আবারও ইসলামাবাদ সফর করেন তিনি। তবে এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তাদের প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর স্থগিত রেখেছে।
এর আগে আব্বাস আরাঘচি ওমানে সফর করেছেন। পাকিস্তান সফর শেষে এবার রাশিয়া পৌঁছেছেন তিনি। সেখান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে আরাঘচির।




