যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন জয় করতে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অভিনব কৌশল হাতে নিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে দনবাস অঞ্চলের একটি এলাকার নাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামানুসারে ‘ডনিল্যান্ড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকায় ওই অংশটি ‘বিতর্কিত’ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব আনার পর বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের একটি পক্ষের মধ্যে হাসিঠাট্টা হতে দেখা যায়। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই প্রস্তাবকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
তাদের ধারণা হলো, নিজের নামে নামকরণের প্রতি ট্রাম্পের ভালো লাগা রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনে তার সমর্থন বাড়াতে এই পদক্ষেপ সাহায্য করবে। ইতোমধ্যে একজন ইউক্রেনীয় আলোচক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এই অঞ্চলের জন্য সম্ভাব্য পতাকা এবং জাতীয় সংগীতও তৈরি করে ফেলেছেন।
প্রস্তাবিত ‘ডনিল্যান্ড’ এলাকাটি প্রায় ৫২০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ইউক্রেন যুদ্ধের এই এলাকা অন্যতম কৌশলপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এলাকাটিতে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের বাস থাকলেও যুদ্ধের ভয়াবহতায় সেই সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে।
দনবাস অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। রাশিয়া চায় এলাকাটিকে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে, যেখানে রুশ বাহিনী টহল দেবে। তবে ইউক্রেন এই এলাকা ছাড়তে নারাজ। কারণ এখানে তাদের বিশাল সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দুর্গ রয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার সম্মুখ যুদ্ধ বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়লেও ইউক্রেনের দাবি, রুশ বাহিনী এই যুদ্ধে অভাবনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দখল করা প্রতি এক বর্গকিলোমিটার জায়গার জন্য রাশিয়া গড়ে ২৫৪ জন সৈন্য হারিয়েছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে এই সংখ্যা ৪২৮।
ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া প্রায় ১২ লাখ সৈন্য হতাহত হয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে গত মার্চ মাসেই ছিল ৩৫ হাজার।
এখন পর্যন্ত এই ‘ডনিল্যান্ড’ প্রস্তাব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে উক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই প্রস্তাব না করে দিয়েছেন।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন নিশ্চিত করতে শান্তি আলোচনার সময় এই ধারণাটি সামনে আনা হয়েছিল। তবে ইউক্রেনের কোনো দাপ্তরিক নথিতে এই প্রস্তাবের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনায় কেবল ইউক্রেনের সরকারি আঞ্চলিক নামগুলোই ব্যবহার করা হয়েছে। দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অবশ্যই ইউক্রেনের অংশ হিসেবে থাকবে বলে আলোচনায় জোর দিয়েছেন তিনি।




