ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ চলমান। এরইমধ্যে খবর এলো মার্কিন নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফেলানের ব্যর্থতা ও পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার (২২ এপ্রিল) এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে জন ফেলানের প্রায়ই বাগবিতণ্ডা হয়। জাহাজ নির্মাণ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণ দেখিয়ে নৌবাহিনী সচিবকে পদচ্যুত করা হয়েছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ফেলান বিদায় নিচ্ছেন। এই আকস্মিক ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরান যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির মাঝে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর আগে, হেগসেথ ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন এবং ফেলানকে জানান, তাকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা তাকে বরখাস্ত করা হবে।
একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, নৌবাহিনীতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ একমত হয়েছেন।
পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, যুদ্ধ সচিব (হেগসেট) এবং উপযুদ্ধ সচিবের পক্ষ থেকে আমরা নৌবাহিনী এবং দেশের সেবায় জন ফেলানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা তার ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি কামনা করি। আন্ডারসেক্রেটারি হুং কাও ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আশ্চর্জনক বিষয় হলো, ফেলানের বিরুদ্ধে কার্যক্রমের যে ধীরগতির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে এক প্রকার ধোঁয়াশা দেখা লক্ষ্য করা গেছে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি জাহাজ চলাচল বন্ধে তার নেতৃত্বে নৌবাহিনী বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ৩১টি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
সিএনএনের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফেলান ও হেগসেথের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। হেগসেথের ধারণা ছিল ফেলান জাহাজ নির্মাণ সংস্কারে খুব ধীরগতিতে কাজ করছেন। এ ছাড়া ফেলান সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন যা হেগসেথ পছন্দ করতেন না। উপপ্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফেইনবার্গও জাহাজ নির্মাণের প্রধান দায়িত্বগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন, যা সাধারণত ফেলানের অধীনে থাকার কথা।
বুধবার হোয়াইট হাউসে জাহাজ নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্প ও হেগসেথের বৈঠকের সময় বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। জাহাজ নির্মাণের ধীরগতিতে ট্রাম্প নিজেও বিরক্ত ছিলেন। ট্রাম্প মনে করেন, ফেলানকে পরিবর্তন করা দরকার। তিনি এ বিষয়ে হেগসেথকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরপরই হেগসেথ ফেলানকে পদত্যাগ বা বরখাস্তের বার্তা পাঠান।
তবে ফেলান প্রথমে ধারণাও করতে পারেননি। যদিও ট্রাম্প এই বার্তার বিষয়ে জানেন। তিনি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ফোন করে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি হোয়াইট হাউসে গিয়েও পরিচিত কর্মকর্তাদের কাছে খোঁজ নেন। শেষে ফেলান ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ট্রাম্প তাকে অল্প সময়ের জন্য দেখা দেন। এ সশয় ট্রাম্প তাকে (ফেলান) নিশ্চিত করেন যে, তিনি আর চাকরিতে নেই।
সিনএনএন বলছে, ফেলান একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা নেই। তিনি এবং তার স্ত্রী ২০২৫ সালে নৌবাহিনী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে ট্রাম্পের প্রচারণায় লাখ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের অধীনে মনোনীত সামরিক সচিবদের মধ্যে এ ঘটনা প্রথম। তবে হেগসেথ পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন।
২০০৬ সালে ফেলান দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ফেলানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, তিনি বিয়ার স্টার্নসের সিইও জিমি কেইনের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন এবং বিমানে ওঠার আগে জানতেন না সেটি এপস্টেইনের বিমান।




