আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সর্বোচ্চ পদকজয়ী সৈনিককে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রেপ্তর বেন রবার্টস-স্মিথকে সিডনি বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ হিসেবে পাঁচটি হত্যার অভিযোগে তাকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আদালাতে তোলা হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এক মানহানির মামলার রায়ে আদালত জানায়, স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের সাবেক করপোরাল ও ভিক্টোরিয়া ক্রসপ্রাপ্ত এই সৈনিক আফগানিস্তানে কয়েকজন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছিলেন। তবে গত বছর তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও হেরে যান।
মামলাটি ছিল ঐতিহাসিক। কারণ প্রথমবার কোনো অস্ট্রেলীয় আদালত দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখেছে।
৪৭ বছর বয়সি এই ব্যক্তি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো খুবই গুরুতর ও বিদ্বেষপূর্ণ, আর এগুলো এখনও ফৌজদারি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
২০২০ সালের ব্রেরেটন (আফগানিস্তান ইনকুইরি) রিপোর্টে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার এলিট বাহিনীর সদস্যরা আফগানিস্তানে বেআইনিভাবে ৩৯ জনকে হত্যা করেছে—এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। এতে ১৯ জন বর্তমান ও সাবেক সেনার বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করা হয়। এ ঘটনার তদন্তে ‘অফিস অব দ্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেটর’ নামে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তারা এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে অভিযুক্ত করেছে।
মঙ্গলবার সিডনিতে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে নিরস্ত্র বন্দিদের হত্যার অভিযোগে এক সাবেক সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে গুলি করেছেন, অথবা তার নির্দেশে অধস্তন সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এত দূরের একটি দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার তদন্ত করা খুব কঠিন। কারণ তারা ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না, প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগও সীমিত। তবে পুলিশ বলেছে, এসব অভিযোগ পুরো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। কেবল অল্প কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে। অধিকাংশ সেনাই দেশের জন্য গর্বের।
অভিযুক্ত রবার্টস-স্মিথ বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব হত্যার অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো (হত্যা) যুদ্ধের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।




