চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। শুধু তাই নয়, শান্তি ফেরাতে পাল্টা ১০ দফা শর্ত চাপিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালি পারাপারে টোল আরোপ, হিজবুল্লাহর ওপর ইসলায়েলি হামলা বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যে ১০ দফা শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে প্রধান হলো যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। এ ছাড়া তারা বলেছে, লেবানন ও গাজাতে যে রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে, সেটাও বন্ধ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যাতে সেই যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হয়।
ইরান আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর যেন তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকে, সেই স্বীকৃতিও দিতে হবে। এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য জাহাজগুলোকে টোল দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে। প্রস্তাবে তা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এছাড়াও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে ইরান। পাশাপাশি তেহরানের দাবি, যুদ্ধের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে এই ১০টি শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের ওপর নতুন হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময়সীমার আগে এই প্রস্তাবে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
সংবেদনশীল আলোচনা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্রস্তাবে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং তেহরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তার কার্যত অবরোধ তুলে নেবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান প্রণালিটি অতিক্রমকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর প্রায় ২০ লাখ ডলার শুল্ক আরোপ করবে। এই অর্থ জলপথের অপর পাশে অবস্থিত ওমানের সঙ্গে ভাগ করে নেবে তেহরান।
এর আগে গত রোববার রাতে অকথ্য ভাষায় ইরানকে গালিগালাজ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘… প্রণালিটা খুলে দে, পাগল … কোথাকার, নইলে তোদের নরকে ঠাঁই হবে। আল্লাহকে ডাক!’
ওই পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ধ্বংস করা হবে সমস্ত সেতুও। স্যোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হলে হামলা চালানো হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সময়সীমার পরই যুদ্ধবিরতির জন্য উঠেপড়ে লাগে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা খারিজ করে দেয় ইরান। এবার ট্রাম্প কি তেহরানের এহেন শর্তগুলো মানবেন? সেটা এখন দেখার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের এই শর্ত উড়িয়ে দেশটিতে আরও বড় অভিযান চালাতে পারেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় একরাতে ইরান ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা টোল নিলে বিষয়টি কেমন হবে? তাদের টোল নিতে দেব না, এর বদলে আমিই নেব। আমরা কেন টোল নেব না? আমরা বিজয়ী। আমরা (যুদ্ধে) জিতেছি।
তবে হরমুজ থেকে যদি যুক্তরাষ্ট্র টোল আদায় করতে চায় তাহলে দেশটির সেনাবাহিনীকে সেখানকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

