পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে ইবাদতের জন্য ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাস্তায় জুমার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। গত রমজান মাস থেকেই আল-আকসা মসজিদ ঘিরে দখলদার বাহিনীর কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা। তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কুঠারাঘাত।
মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া ও রাস্তায় নামাজ আদায়ের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাতে দেখা যায়, মুসল্লিদের এখনও আল-আকসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের সেখানে প্রবেশাধিকার কড়াকড়ি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী বাসিন্দাদের পুরাতন শহরে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। ফলে মুসল্লিরা নাবলুস স্ট্রিটের নিকটবর্তী একটি বাস স্টেশনসহ আশপাশের রাস্তা ও এলাকায় জুমার নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও কঠোর পদক্ষেপ কার্যত হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে ইসলামের অন্যতম পবিত্র এই স্থানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
এ নিয়ে টানা পঞ্চম শুক্রবার আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম শহর দখলের পর থেকে এটিই অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ‘নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি’ ও ‘জরুরি অবস্থার’ কথা উল্লেখ করে টানা ৩৫ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার কথা বলেছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় নেতারা এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন, মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইবাদতকারীদের লক্ষ্য করে চালানো উসকানিমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিন সাদ ও সাঈদ মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর দামেস্ক গেট এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী এক ফিলিস্তিনি যুবককে গ্রেপ্তার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাকে মারধর করে ইসরায়েলি বাহিনী। আল-আকসার পরিস্থিতি নিয়ে খুতবা দেওয়ায় মুসরারা এলাকা থেকে আরেক বয়স্ক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
এ সব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি নেতারা। তারা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ স্থানটির ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদার জন্য হুমকি। একই সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর কুঠারাঘাত।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

