ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ইরানের জবাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস

  ১১ মে ২০২৬, ০৫:১১
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছিল ইরান। কিন্তু সেই আশা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল। ইরানের জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি এটা পছন্দ করছি না, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার করে বেড়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রশ্নকে সামনে রাখা হয়েছে। তবে ইরানের জবাবে শুধু যুদ্ধবিরতির কথা ছিল না, ছিল কয়েকটি বড় শর্তও।

ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শেষ করার দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন। ওয়াশিংটন আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে চেয়েছিল, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছিল। কিন্তু ইরান পাল্টা জবাবে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি এবং ক্ষতিপূরণকে একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে আনতে চাওয়ায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ কম ঘনত্বে নামিয়ে আনা এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।

চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের জবাব তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি।

ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে জবাব দিয়েছে ইরান। সেই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (১১ মে) আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দতশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১০ মে) রাত ১১টার দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান মূল্য দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ১ ডলার। গত শুক্রবারও এর দাম ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৯ ডলার বা ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে এর বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫১ ডলার। এর আগের সেশনে এই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে। রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে-কে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জবাবে যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই থামানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আলোচনায় এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কবে বা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল, আগে যুদ্ধ বন্ধ করা, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। ইরানের জবাবের আগেই অবশ্য রয়টার্স জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কাতারএনার্জি পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল খারাইতিয়াত নিরাপদে প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম কাতারি এলএনজি জাহাজ বলে জানিয়েছে শিপিং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলার। সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবেই জাহাজটির চলাচল অনুমোদন করেছে ইরান। গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে যে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে এই জাহাজের যাত্রা ইসলামাবাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। এ ছাড়া ব্রাজিলগামী পানামা-পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার তুলনামূলক শান্তির পর রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার তাদের জলসীমায় আবুধাবি থেকে আসা একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
তেলে টইটম্বুর ইরানের খার্গ দ্বীপ, রাখার জায়গা নেই
ইরানের অপরিশোধিত তেল ‘অর্থনীতির মেরুদণ্ড’ খার্গ দ্বীপের উপকূলে পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটিতে তেল মজুত করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের মধ্যে ইরানের তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ছে। দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই তেল নিঃসরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অরবিটাল ইওএস অনুমান করেছে, বৃহস্পতিবার নাগাদ এই তেল ৫২ বর্গকিলোমিটারের (২০ বর্গমাইল) বেশি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এই তেল দক্ষিণ দিকে সৌদি আরবের জলসীমার দিকে ভেসে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছড়িয়ে পড়া এই তেলের পরিমাণ ৩ হাজার ব্যারেলের বেশি। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল ট্রানজিট পয়েন্ট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত চলমান নৌ অবরোধের ফলে ইরানের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক পথগুলো পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ট্যাংকারগুলো আটকা পড়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই জটের কারণে মজুত কেন্দ্র এবং অফশোর টার্মিনালগুলোতে তেল নিঃসরণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে থাকতে পারে।
তেলে টইটম্বুর ইরানের খার্গ দ্বীপ, রাখার জায়গা নেই
এবার হরমুজের তলদেশে ইন্টারনেট ক্যাবল আটকানোর হুমকি ইরানের
কৌশলগত হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া সমুদ্র তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবল থেকে রাজস্ব আয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। এই জলপথটি শুধু জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই নয়, বরং একটি ডিজিটাল চাপ প্রয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরেছে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম। বার্তা সংস্থা তাসনিম ‘হরমুজ প্রণালির ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে রাজস্ব আয়ের তিনটি বাস্তব পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে প্রকাশ করেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রণালিটির মধ্য দিয়ে যাওয়া ডুবো ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক লেনদেন হয়। কিন্তু সংস্থাটি বলেছে, প্রণালিটি সম্পর্কে তাদের তথাকথিত গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পরিকাঠামোর অর্থনৈতিক ও সার্বভৌম সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এর মধ্যে একটি হলো বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রাথমিক লাইসেন্সিং ও বার্ষিক নবায়ন ফি আদায় করা; দ্বিতীয়টি টেক জায়ান্ট মেটা, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ইরানি আইনের অধীনে কাজ করতে বাধ্য করা; এবং সর্বশেষ পদক্ষেপটি হলো সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ওপর ইরানি কোম্পানিগুলোকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। এই পদক্ষেপগুলো হরমুজ প্রণালিকে ‘বৈধ সম্পদ সৃষ্টির একটি কৌশলগত কেন্দ্রে’ পরিণত করবে বলে তাসনিমের নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট আরেকটি সংবাদমাধ্যম ফার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের হুমকি দিয়ে ইরানকে হরমুজের একটি ‘লুকানো মহাসড়কের’ শাসক হিসেবে বর্ণনা করেছে। পোস্টে বলা হয়, ৯৯ শতাংশেরও বেশি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ সমুদ্রের তলদেশের ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এগুলোকে গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের মেরুদণ্ড হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফার্স আরও বলেছে, মাত্র কয়েক দিনের জন্য ক্যাবলগুলোতে বিঘ্ন ঘটলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কয়েক কোটি থেকে কয়েক শত কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে। এই যোগাযোগ পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে গেছে। এ ছাড়াও দাবি করা হয়েছে, ক্যাবলগুলো আইনত এমন একটি এলাকার মধ্যে রয়েছে যেখানে ইরান সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করতে পারে এবং ট্রানজিট যাতায়াতের অধিকার সেই কর্তৃত্বকে খর্ব করে না। প্রণালিটি পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত মডেলে ‘সমুদ্রের তলদেশের ক্যাবলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য অনুমতিপত্র ও টোল দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত’ বলে বার্তা সংস্থাটি দাবি জানায়। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ইরানের এই নিয়মকানুন মেনেই কাজ করতে হবে। এ ছাড়াও ক্যাবলগুলোর ব্যবস্থাপনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একচেটিয়াভাবে ইরানি কোম্পানিগুলোকে দেওয়া যেতে পারে, যা হরমুজকে ইরানের অন্যতম ‘ডিজিটাল ক্ষমতার’ চালিকাশক্তিতে পরিণত করবে। এই মন্তব্যগুলো এসেছে গত এপ্রিলে তাসনিমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর। সেই প্রতিবেদনে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সমুদ্রের নিচের ইন্টারনেট ক্যাবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর মানচিত্র দেখানো হয়েছিল, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের ইন্টারনেট সংযোগ রুটও ছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইরানের তুলনায় সমুদ্রের নিচের ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাই অবতরণ কেন্দ্র, ডেটা হাব ও ক্লাউড অবকাঠামো এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।
এবার হরমুজের তলদেশে ইন্টারনেট ক্যাবল আটকানোর হুমকি ইরানের
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে জবাব দিয়েছে ইরান। সেই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (১১ মে) আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দতশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১০ মে) রাত ১১টার দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান মূল্য দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ১ ডলার। গত শুক্রবারও এর দাম ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৯ ডলার বা ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে এর বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫১ ডলার। এর আগের সেশনে এই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে। রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে-কে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জবাবে যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই থামানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আলোচনায় এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কবে বা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল, আগে যুদ্ধ বন্ধ করা, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। ইরানের জবাবের আগেই অবশ্য রয়টার্স জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কাতারএনার্জি পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল খারাইতিয়াত নিরাপদে প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম কাতারি এলএনজি জাহাজ বলে জানিয়েছে শিপিং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলার। সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবেই জাহাজটির চলাচল অনুমোদন করেছে ইরান। গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে যে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে এই জাহাজের যাত্রা ইসলামাবাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। এ ছাড়া ব্রাজিলগামী পানামা-পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার তুলনামূলক শান্তির পর রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার তাদের জলসীমায় আবুধাবি থেকে আসা একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তেলে টইটম্বুর ইরানের খার্গ দ্বীপ, রাখার জায়গা নেই
তেলে টইটম্বুর ইরানের খার্গ দ্বীপ, রাখার জায়গা নেই
ইরানের অপরিশোধিত তেল ‘অর্থনীতির মেরুদণ্ড’ খার্গ দ্বীপের উপকূলে পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটিতে তেল মজুত করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের মধ্যে ইরানের তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ছে। দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই তেল নিঃসরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অরবিটাল ইওএস অনুমান করেছে, বৃহস্পতিবার নাগাদ এই তেল ৫২ বর্গকিলোমিটারের (২০ বর্গমাইল) বেশি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এই তেল দক্ষিণ দিকে সৌদি আরবের জলসীমার দিকে ভেসে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছড়িয়ে পড়া এই তেলের পরিমাণ ৩ হাজার ব্যারেলের বেশি। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল ট্রানজিট পয়েন্ট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত চলমান নৌ অবরোধের ফলে ইরানের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক পথগুলো পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ট্যাংকারগুলো আটকা পড়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই জটের কারণে মজুত কেন্দ্র এবং অফশোর টার্মিনালগুলোতে তেল নিঃসরণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে থাকতে পারে।