যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন আবারও পাকিস্তানের নেতৃত্বে একটি কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এর আগে মার্কিন সরকার অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীকে ব্যবহার করে ব্যর্থ হয়েছে। এমন একটি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, ইরান সরকার এ দাবি অস্বীকার করেছে। কিন্তু, এরপর কেন এমন উদ্ভট দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা।
ব্রিটেনের এ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ট্রাম্প এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছেন যে, ইরানের সঙ্গে তার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। অথচ এর আগে ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা করা হবে।
এরপরও কেন হঠাৎ করে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট? এর উত্তর হচ্ছে—তিনি কিছু সময়ের জন্য হলেও তেল ও জ্বালানি বাজারের লাগাম টেনে ধরতে চান। তিনি এমন সময়ে ইরানের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন, যখন সোমবার মার্কিন জ্বালানি বাজার খুলতে কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল। তিনি এমনটা না বললে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতো।
এখন বিশ্লেষকরা দাবি করছেন—ট্রাম্প এ দাবি করেছেন মূলত তেল ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের আশায়। কারণ, তার ভালো আলোচনার দাবি—তেল ও জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে তাকে কিছুটা সময় দিবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করছে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন একজনের সঙ্গে কথা বলছি, যাকে আমি সবচেয়ে সম্মানিত বলে মনে করি। তিনি সর্বোচ্চ নেতা নন, আমরা তার কাছ থেকে এখনও কিছু শুনিনি।’
সেই ব্যক্তির নাম বলতে বলা হলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, তা বললে তিনি হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বলতে পারব না। আমি চাই না তাকে হত্যা করা হোক।’
আলোচনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে তার বর্ণনাও একইভাবে নড়বড়ে ছিল। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, কিন্তু হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমার এবং আয়াতুল্লাহর হাতে। শাসনব্যবস্থারও এক ধরনের পরিবর্তন হবে, খুবই গুরুতর পরিবর্তন। ট্রাম্প জানান, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কথিত এ মধ্যস্থতাকারী হলেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। তিনি পূর্বে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গালিবফ সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত ট্রাম্পকে বিদ্রূপ ও উপহাস করে আসছেন। তিনি ইতোমধ্যেই এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি দাবি করে গালিবফ বলেন, ইরান সরকারের কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলেনি। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। আর্থিক ও জ্বালানি তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে তা থেকে বাঁচতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এখন বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান,মিসর ও তুরস্কের পক্ষ থেকেও যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, কিছু মিত্র দেশের কাছ থেকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের ইঙ্গিত পেয়েছে ইরান। কিন্তু, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা চলার কথা অস্বীকার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা দাবি করছেন—ভালো আলোচনার কথা বলে ট্রাম্প সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করতে চাইছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র এখনও মেরিন ও প্যারাট্রুপারদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অবস্থানে পাঠাচ্ছে, যাতে করে আগামী দিনগুলোতে ইরানের দ্বীপ বা উপকূলরেখায় হামলা করা যায়। এছাড়া ইরানি দ্বীপ বা উপকূলরেখা দখল করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে না পারলে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

