ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৮
ছবি: সংগৃহীত

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আগামী ১ মে থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎপাদন নীতি, বর্তমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এটি আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য। বিশেষ করে নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাহিদা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইউএই সরকার।

এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন আরব উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। তবে আমিরাতের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বাড়তেই থাকবে।

আমিরাত জানিয়েছে, একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন নমনীয়, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সরবরাহ ব্যবস্থা। সে লক্ষ্যেই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে বিনিয়োগ জোরদার করেছে। আর এতে স্থিতিশীলতা, সাশ্রয় ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওপেকের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আবুধাবি ১৯৬৭ সালে সংগঠনটিতে যোগ দেয়, যা ১৯৭১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত রাষ্ট্র গঠনের আগের ঘটনা। এরপর থেকে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে দেশটি। দেশটি বেরিয়ে যাওয়ার পর তেল রপ্তানিকারক এই জোটে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১১-তে।

তবে নতুন সিদ্ধান্তকে আমিরাত ‘নীতিগত পরিবর্তন’ হিসেবে দেখছে। দেশটির মতে, এতে বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানো সহজ হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাও সম্ভব হবে।

দেশটি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে কম খরচে উৎপাদিত এবং তুলনামূলকভাবে কম-কার্বন নির্গমনকারী তেলের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতেও এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।

ওপেক ছাড়ার পরও বাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে আমিরাত। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতার প্রতি আমিরাতের প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করে না; বরং পরিবর্তিত বাস্তবতায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ায়।

ওপেক ও ওপেক প্লাস জোটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমিরাত বলেছে, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তারা এই সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং বৈশ্বিক স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে এখন সময় এসেছে জাতীয় অগ্রাধিকার, বিনিয়োগকারী, গ্রাহক ও অংশীদারদের স্বার্থকে সামনে রেখে নতুন পথে এগোনোর।

আমিরাত আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও তাদের জ্বালানি নীতি বাজারের ভারসাম্য, বৈশ্বিক সরবরাহ-চাহিদা এবং দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরে ভূমিকা রাখবে দেশটি।

উল্লেখ্য ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি জটিলতার মুখে পড়েছে। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যখন উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তখন তারা উল্টো উচ্চ তেলের দাম নির্ধারণ করে সুবিধা নিচ্ছে।

আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের ধারাবাহিক হামলার মুখে নিজেদের যথেষ্ট সুরক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অন্যান্য আরব দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আরব আমিরাত।

সোমবার গালফ ইনফ্লুয়েন্সার্স ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো লজিস্টিক সহায়তা দিলেও রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান ছিল ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল।

তিনি বলেন, আরব লীগের এমন দুর্বল অবস্থান প্রত্যাশিত হলেও জিসিসির কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আশা করেননি, যা আমাকে বিস্মিত করেছে।

এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, এটি মূলত ওপেকের শেষ হওয়ার শুরু।

তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ায় ওপেক তাদের উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১৫ শতাংশ হারাবে। এছাড়া দেশটি ছিল এই জোটের অন্যতম অনুগত সদস্য।

ওপেকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাত বছরে ২৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। অন্যদিকে, ওপেকের অঘোষিত নেতা সৌদি আরব উৎপাদন করে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল।

সল কাভোনিক বলেন, ওপেক জোটকে টিকিয়ে রাখতে এখন সৌদি আরবকে বেশ বেগ পেতে হবে। জোটের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের মূল দায়ভার এখন এককভাবে তাদের ওপরই বর্তাবে।

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পথ ধরে অন্য সদস্যরাও এই জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং তেলের বাজারে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৯৬০ সালে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলা এই পাঁচটি দেশের হাত ধরে ওপেক গঠিত হয়েছিল। সদস্য দেশগুলোর জন্য স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে তেল উৎপাদন সমন্বয় করাই ছিল এই জোটের মূল লক্ষ্য।

বিগত বছরগুলোতে এই জোটের সদস্য সংখ্যা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ সদস্য ছাড়াও বর্তমানে এই জোটে আলজেরিয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, লিবিয়া, নাইজেরিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে জবাব দিয়েছে ইরান। সেই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (১১ মে) আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দতশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১০ মে) রাত ১১টার দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান মূল্য দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ১ ডলার। গত শুক্রবারও এর দাম ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৯ ডলার বা ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে এর বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫১ ডলার। এর আগের সেশনে এই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে। রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে-কে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
ইরানের জবাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছিল ইরান। কিন্তু সেই আশা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল। ইরানের জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি এটা পছন্দ করছি না, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার করে বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রশ্নকে সামনে রাখা হয়েছে। তবে ইরানের জবাবে শুধু যুদ্ধবিরতির কথা ছিল না, ছিল কয়েকটি বড় শর্তও। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শেষ করার দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন। ওয়াশিংটন আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে চেয়েছিল, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছিল। কিন্তু ইরান পাল্টা জবাবে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি এবং ক্ষতিপূরণকে একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে আনতে চাওয়ায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ কম ঘনত্বে নামিয়ে আনা এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের জবাব তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি।
ইরানের জবাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জবাবে যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই থামানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আলোচনায় এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কবে বা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল, আগে যুদ্ধ বন্ধ করা, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। ইরানের জবাবের আগেই অবশ্য রয়টার্স জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কাতারএনার্জি পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল খারাইতিয়াত নিরাপদে প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম কাতারি এলএনজি জাহাজ বলে জানিয়েছে শিপিং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলার। সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবেই জাহাজটির চলাচল অনুমোদন করেছে ইরান। গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে যে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে এই জাহাজের যাত্রা ইসলামাবাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। এ ছাড়া ব্রাজিলগামী পানামা-পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার তুলনামূলক শান্তির পর রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার তাদের জলসীমায় আবুধাবি থেকে আসা একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
তেলে টইটম্বুর ইরানের খার্গ দ্বীপ, রাখার জায়গা নেই
ইরানের অপরিশোধিত তেল ‘অর্থনীতির মেরুদণ্ড’ খার্গ দ্বীপের উপকূলে পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটিতে তেল মজুত করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের মধ্যে ইরানের তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের উপকূলে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ছে। দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই তেল নিঃসরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অরবিটাল ইওএস অনুমান করেছে, বৃহস্পতিবার নাগাদ এই তেল ৫২ বর্গকিলোমিটারের (২০ বর্গমাইল) বেশি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এই তেল দক্ষিণ দিকে সৌদি আরবের জলসীমার দিকে ভেসে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছড়িয়ে পড়া এই তেলের পরিমাণ ৩ হাজার ব্যারেলের বেশি। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল ট্রানজিট পয়েন্ট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত চলমান নৌ অবরোধের ফলে ইরানের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক পথগুলো পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ট্যাংকারগুলো আটকা পড়েছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই জটের কারণে মজুত কেন্দ্র এবং অফশোর টার্মিনালগুলোতে তেল নিঃসরণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে থাকতে পারে।
তেলে টইটম্বুর ইরানের খার্গ দ্বীপ, রাখার জায়গা নেই
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে আবারও বাড়ল তেলের দাম
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে জবাব দিয়েছে ইরান। সেই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার (১১ মে) আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দতশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১০ মে) রাত ১১টার দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান মূল্য দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ১ ডলার। গত শুক্রবারও এর দাম ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৯ ডলার বা ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে এর বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫১ ডলার। এর আগের সেশনে এই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে। রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে-কে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।
ইরানের জবাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প
ইরানের জবাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছিল ইরান। কিন্তু সেই আশা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল। ইরানের জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি এটা পছন্দ করছি না, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার করে বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রশ্নকে সামনে রাখা হয়েছে। তবে ইরানের জবাবে শুধু যুদ্ধবিরতির কথা ছিল না, ছিল কয়েকটি বড় শর্তও। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শেষ করার দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন। ওয়াশিংটন আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে চেয়েছিল, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছিল। কিন্তু ইরান পাল্টা জবাবে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি এবং ক্ষতিপূরণকে একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে আনতে চাওয়ায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ কম ঘনত্বে নামিয়ে আনা এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের জবাব তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেই জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জবাবে যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই থামানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আলোচনায় এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কবে বা কীভাবে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল, আগে যুদ্ধ বন্ধ করা, এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। ইরানের জবাবের আগেই অবশ্য রয়টার্স জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কাতারএনার্জি পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ আল খারাইতিয়াত নিরাপদে প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি হরমুজ দিয়ে যাওয়া প্রথম কাতারি এলএনজি জাহাজ বলে জানিয়েছে শিপিং অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলার। সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবেই জাহাজটির চলাচল অনুমোদন করেছে ইরান। গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে যে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে এই জাহাজের যাত্রা ইসলামাবাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে। এ ছাড়া ব্রাজিলগামী পানামা-পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ারও হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার তুলনামূলক শান্তির পর রোববার কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতার তাদের জলসীমায় আবুধাবি থেকে আসা একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতও বলেছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।