ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তার বড় একটা ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। এ সংকট থেমে থাকেনি মধ্যপ্রাচ্যে, প্রভাব পড়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়ও।
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটনায় জ্বালানি ও সার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণে দাম হুঁ হুঁ করে বাড়ছে। একদিকে যেমন বাড়ছে গো-খাদ্যের দাম, অন্যদিকে খরাজনিত আবহাওয়ায় ধুঁকছে দেশটির কৃষকরা।
জ্বালানি ও সার আমদানির খরচ প্রতিনিয়ত যেভাবে বাড়ছে তাতে কৃষকের পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও কঠিন। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ান ফার্মার্স ফেডারেশনের কর্মকর্তা স্কট ইয়াং উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘টানা ১৮ মাসের খরায় আমার জমি এখন চাষের মতো অবস্থায় নেই। গবাদিপশুর খাদ্য জোগাতে আমাকে বিকল্প কিছুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আগের চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল। জমির মাটির আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র দেখাচ্ছে, এবার মাটির আর্দ্রতা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।’
খরার কারণে অনেক কৃষক বহু দিন লাভের মুখ দেখেনি। এর ওপর জ্বালানির ঊর্ধ্বগতির দৌড়ে হাঁপিয়ে উঠছে এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে স্কট ইয়ং আরও জানান, ‘আমরা আগে ডিজেলের বাজেট ধরতাম ১ দশমিক ৭০ থেকে ১ দশমিক ৮০ ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২০ ডলারে।’
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনার খরচও সমানতালে বাড়ছে বলে জানান ভিক্টোরিয়া ডেইরি ফার্মার্সের সভাপতি মার্ক বিলিং। তিনি বলেন, ‘প্রথম সমস্যা হলো জ্বালানি পাওয়া, দ্বিতীয় সমস্যা এর দাম- দুই সংকটই এখন প্রায় দ্বিগুণ। কনটেইনার ও জাহাজে আমাদের পণ্য তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, পণ্য পরিবহনের খরচ, বিমা খরচ—সবকিছুর কারণেই খরচ বাড়ছে। তাই, বিশ্ববাজারে আমাদের পণ্যকে প্রতিযোগিতামূলক একটা জায়গায় রাখা এখন চ্যালেঞ্জ।’
অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি এবং বেশির ভাগ সার আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্ববাজারে যে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশটির কৃষিতে।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

