ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতে সাত সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ যেন হাতছাড়া হয়ে গেছে। নাটাই হারিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মুখ খুললেই যেন বেফাঁস কথা বলছেন, যা রীতিমতো হাস্যরসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে আবারও আক্রমণ শুরুর হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইরানও নাছোড়বান্দা। নিজেদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার করতে নারাজ দেশটির নেতৃবৃন্দ।
বিশ্লেষকেরা দুই দেশের এই দ্বিমুখী অবস্থান ঘিরে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাত শুরু শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে কোনো চুক্তির থেকে যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর সংঘাত শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। কারণ, ইসলামাবাদ সংলাপ কার্যত কোনো ফল বয়ে আনেনি। উল্টো মোটামুটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ১১ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের লঙ্ঘনের সরাসরি ফলস্বরূপই হরমুজ প্রণালিতে ইরান আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তেহরান থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি বিশ্লেষক অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্তের ভিত্তিতে বিশ্বের অন্যতম সংর্কীণ প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা ছিল। খোদ মার্কিন নৌ অবরোধই যুদ্ধবিরতির শর্তের লঙ্ঘন।
যুদ্ধবিরতি অবস্থায় যখন এই সংঘাত ইতিবাচক মোড় নেওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্বে স্বস্তির দেখা দিচ্ছিল, তখনই উপসাগরীয় অঞ্চলে রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রণতরিটির সঙ্গে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে দুটি শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস মাহান এবং ইউএসএস উইনস্টন এস. চার্চিল। একই সঙ্গে সৈন্য সংখ্যা ও লজিস্টিক সরঞ্জামও মোতায়েন বৃদ্ধি করেছে। এটাকেও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তেহরান।
এই বিশ্লেষকের মতে, কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরান প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। প্রণালিতে পেতে রাখা মাইনের কারণে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহারের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর পরই ট্রাম্প তড়িঘড়ি করে গণমাধ্যমে মিথ্যা বিবৃতি দেন। এতেই চটে যায় ইরান। ফলে পুনরায় হরমুজ প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক মোট জ্বালানি ২০ শতাংশ পরিবাহিত। দিনে গড়ে এই প্রণালি ব্যবহার করে ১০০ থেকে ১৩৮টি জাহাজ।
কূটনীতির সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্টভাষী খোশচেশম বলেন, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতি সত্যিই অনেক বেশি কঠিন। প্রতি ঘণ্টায় ট্রাম্প তার অবস্থান ও কথাবার্তা পরিবর্তন করছেন। তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলছে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি ও একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে আসাকে খোশচেশম প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। এই বিশ্লেষকের মতে, তিনি এমন কেউ নন যার সঙ্গে আলোচনা করা যায়। তিনি জাতিসংঘ বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি কোনো ধরনের সম্মান দেখান না। যে কোনো ধরনের আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই আমার কাছে বেশি মনে হয়।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

