হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-ইতাইবি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেছেন, কাতার দুটি জাহাজ নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। আমরা স্বাভাবিক প্রবাহ দেখছি না, আবার তা সীমিতও নয়, তাই এখানে একটি বড় অনিশ্চয়তার প্রশ্ন রয়েছে।
তার দাবি, অনিশ্চয়তার কারণে অদূর ভবিষ্যতে স্বাভাবিক সামুদ্রিক চলাচল পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, জাহাজগুলোকে তাদের পথ সমন্বয় করার জন্য ইরানের অনুরোধও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সমন্বয়ের কথা বলি, তখন এর অর্থ কী? এর অর্থ কি টোল দেওয়া? এর অর্থ কি অনুমতি নেওয়া? এগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য অবশ্যই সতর্ক সংকেত।’
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া ঘোষণা দেয় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি খোলা থাকবে। এক্স পোস্টে আরাঘচি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।
তবে এই চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট বা পথ আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এই নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

