মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই আলোচনাকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ‘চূড়ান্ত সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও রয়েছেন, যিনি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) জিও নিউজ জানিয়েছে ইসলামাবাদে পৌঁছালে ইরানি প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানিয়ে ইসহাক দার গঠনমূলক আলোচনার আশা প্রকাশ করেন। তিনি একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ‘চূড়ান্ত সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ থেকেই উভয়পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসলামাবাদে এই আলোচনায় বসছেন।
উল্লেখ্য, ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে এই আলোচনার পথ সুগম হয়। এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইরান অভিমুখে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। হরমুজ প্রণালী ও লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বহাল থাকায় এখনো উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আলোচনার শুরুতে স্পিকার বাঘের গালিবফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাসহ আগের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় আলোচনা সামনে এগোবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিবাচক ফলাফলের আশা ব্যক্ত করলেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো প্রকার ‘চাতুরীর’ আশ্রয় নেয়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান এখনো তাদের বিদেশে থাকা দশ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদের এই আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

