যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইরান নতুন শর্ত দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, ইরান ও হিজবুল্লাহ একইসঙ্গে এ যুদ্ধে রয়েছে। এ কারণে তারা অভিন্ন ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করছে। যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরান, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা করা যাবে না।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—তাদের দেওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তের মধ্যে লেবাননে হামলা বন্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে চলমান আঞ্চলিক লড়াই বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
ইরান বিশ্বাস করে, একটি সামগ্রিক আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করলে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। এই কারণেই লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
মূলত, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পর্যুদস্ত করতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ইরান ও লেবানন থেকে একযোগে রকেট-মিসাইল হামলার সমন্বয় করছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার দাবি করেছেন যে তারা এই ফ্রন্টগুলোকে এক হিসেবে দেখেন না। তাদের মতে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লেবাননই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবানন কার্যত একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। হিজবুল্লাহ সীমান্তজুড়ে ব্যাপক রকেট হামলা চালাচ্ছে। এসব রকেটের কিছু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারলেও, কিছু রকেট ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতি ঘটাচ্ছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা এখন ওই অঞ্চলের 'অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন' নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে হিজবুল্লাহর পক্ষে ইসরায়েলি জনপদে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের যত গভীরে প্রবেশ করছে, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার তীব্রতাও তত বাড়ছে।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

