পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত ইরানকে সময়সীমা বেঁধে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে ইরান। এমনকি এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যম হরমুজ প্রণালিতে চলা অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে দেশটি।
ইরানের এমন অবস্থানে বেজায় চটেছেন ট্রাম্প। যদিও এর আগে এই সরু জলপথ খুলে দিতে বেধে দেওয়া সময়সীমা বারবার বৃদ্ধি করেছিলেন তিনি। ইরানের এই একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত তাকে সুর নরম করতে হয়েছিল। তবে এবারও তেহরানের অনড় অবস্থান কি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানি চাপ মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
ইরানবিষয়ক একজন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আলজাজিরাকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এখনও মুখরক্ষার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যদি তিনি কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ দেখতে পান। এর সরু নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, ‘ট্রাম্পের একটি সুবিধা হলো, সত্যি বলতে, তার তেমন কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাই তার হারানোরও তেমন কিছু নেই।’
তিনি বলেন, আমি অবশ্যই এমন একটি পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি যেখানে, তিনি যদি মনে করেন যে সময়সীমা বাড়ানোর কোনো কারণ আছে, তবে তিনি তা-ই করবেন। তিনি গত ৩৫ দিনে বেশ কয়েকবার এমনটা করেছেন এবং তা কোনোভাবেই তার বিশ্বাসযোগ্যতার অবস্থানে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আনেনি।
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, তবে প্রশ্ন হলো, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে এমন কোনো সম্ভাব্য চুক্তির পথ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, যা যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
ট্রাম্প ইরানকে মঙ্গলবার পূর্বনির্ধারিত সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছেন। যদি তার কথামতো ইরান এই জলপথটি খুলে না দেয় তাহলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবেন বলে হুমকিও দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করলে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ও তেল, গ্যাস, পানি শোধনাগার এবং বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

