ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

লন্ডনে শেখ হাসিনার মিত্রদের দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

কালবেলা ডেস্ক

  ২৪ মে ২০২৫, ০৯:৫৬
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) লন্ডনে বাংলাদেশের সাবেক শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ করেছে। শুক্রবারের বিনিময় হার অনুযায়ী, ১ ব্রিটিশ পাউন্ড সর্বোচ্চ ১৬৫ টাকা হিসাবে এ সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

যুক্তরাজ্যের আদালতের আদেশে আহমেদ শায়ান রহমান এবং তার চাচাতো ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রহমান এখন এসব সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না। এই সম্পত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে লন্ডনের অভিজাত গ্রোসভেনর স্কয়ারে অবস্থিত অ্যাপার্টমেন্ট। তারা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

দ্য গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ হাসিনার মিত্রদের যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ রয়েছে, যার অংশ হিসেবে নয়টি সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।

এগুলো ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, আইল অব ম্যান ও জার্সির মতো অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে কেনা হয়েছিল এবং প্রতি সম্পত্তির মূল্য ১২ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত।

শায়ান ও শাহরিয়ার রহমান হলেন ধনকুবের সালমান এফ রহমানের ছেলে ও ভাইপো। সালমান ছিলেন শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা। গত বছর ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের সময় দেশত্যাগের চেষ্টাকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে।

এনসিএ জানিয়েছে, ঘটনাটি চলমান বেসামরিক তদন্তের অংশ, এবং তারা আরও সম্পত্তি জব্দের বিষয়ে কাজ করছে।

জব্দ সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে লন্ডনের গ্রেশাম গার্ডেনসে অবস্থিত একটি বাড়ি। সেখানে শেখ হাসিনার বোন ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানা বসবাস করেছেন বলে জানিয়েছে ফিনান্সিয়াল টাইমস। এই সম্পত্তির দাম ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড।

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তদন্তে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের নীতিনির্ধারক ডানকান হেমস বলেন, আমরা যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা অবিলম্বে সন্দেহভাজন সব সম্পত্তি জব্দ করে।

দ্য গার্ডিয়ান রহমান পরিবারের আইনজীবী ও সালমান রহমান প্রতিষ্ঠিত পারিবারিক কর্পোরেট সাম্রাজ্য বেক্সিমকোর প্রতিনিধিদের কাছে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে।

আহমেদ শায়ান রহমানের একজন মুখপাত্র এর আগে ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আমাদের মক্কেল তার বিরুদ্ধে আনা যেকোনো অভিযোগে জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করছেন। যুক্তরাজ্যে যেকোনো তদন্তে তিনি অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, যেখানে শত শত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হচ্ছে—এটি সবারই জানা। আমরা আশা করি যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে।

পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
যেসব নদীর ওপর ভারতের অধিকার আছে, সেসব নদী থেকে পাকিস্তান পানি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা তিনটি নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হয়।  এই অবস্থায় বন্ধু পাকিস্তানকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেছে চীন। চীনের সহায়তায় খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে নদীর ওপর বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান। ৭০০ ফুট উঁচু এই বাঁধ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম হতে যাচ্ছে। ভারত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।  খাইবার-পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে পাথুরে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে সোয়াত নদী। এর উপরেই মোহমন্দ বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলছে ইসলামাবাদ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এই বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে ১২০ কোটি ডলার খরচ করবে পাকিস্তান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, মোহমন্দ বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ ছাড়া পেশোয়ারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারবে তারা। এই পানি চাষের কাজেও ব্যবহার করা হবে। পাকিস্তানের কৃষি পুরোপুরি নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাঁধটি খাইবার-পাখতুনখোয়ার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী ইসলামাবাদ। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন নেহরু।  চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে পশ্চিম দিকের সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার পানি ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। পানির নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান।  
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
চিরশত্রু দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভাটা পড়েনি উত্তেজনায়। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে সংশয়।  সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাবে না পাকিস্তান। মোদির এই ঘোষণা কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি—১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও দিল্লি এর পরই সিন্ধু পানি চুক্তি আংশিক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও পরে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের এই ঘোষণা পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইসলামাবাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে পানি বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে দেশটি একাধিকবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা বারবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের কারণে সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, যা অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বিদ্যমান। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জারি কার্যত অচলসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পানি ইস্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া নতুন এই সঙ্কট পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পানিনীতি কেবল পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল নয়, এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের অংশও। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি সত্যিই পাকিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—পাকিস্তান কি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে, না পরমাণু হুমকিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে?   
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের কবলে ভারতীয় বিমান
ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় দিল্লি থেকে শ্রীনগরগামী ফ্লাইট ৬ই২১৪২ এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বিমানের সামনের অংশবিশেষ করে ‘নাক’ (নোজ)—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে ২২৫ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। ঝড় শুরু হলে মাঝ আকাশে বিমানে প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী, বিশেষ করে শিশুরা, ভয় পেয়ে চিৎকার ও কান্নায় ভেঙে পড়েন।  সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে বিমানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শ্রীনগরে জরুরি অবতরণ করে। ঝড়ের মধ্যে পাইলট তৎক্ষণাৎ ‘ইমার্জেন্সি’ সংকেত পাঠান শ্রীনগর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে।  সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বজ্রপাতের আলোর ঝলকানিতে বিমানের ভেতর আতঙ্কিত যাত্রীদের মুখ।  ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্লাইটটি মাঝপথে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়লেও পাইলট ও কেবিন ক্রু নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের যত্ন নেওয়া হয় এবং তাদের আরাম নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিমানটির ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পরই পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন সন্ধ্যার পর দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়। ঘণ্টায় ৭৯ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়, সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। এতে দিল্লির বিভিন্ন অংশে গাছ উপড়ে পড়ে, জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। সেইসঙ্গে এদিন রাজধানীতে রেকর্ড গরম পড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ‘হিট ইনডেক্স’ বা অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছায় ৫০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক দুর্যোগের পেছনে ছিল হরিয়ানা অঞ্চলে সক্রিয় একটি সাইক্লোনিক সার্কুলেশন, যা পূর্ব-পশ্চিম অক্ষাংশ ধরে পাঞ্জাব থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতাই এই ঝড়কে আরও শক্তি জুগিয়েছে। ঝড়ের কারণে দিল্লির বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং শহরের মেট্রোর ইয়েলো লাইনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি, নোয়ডা শহরে বাতাসের দাপটে কিছু বিল্ডিংয়ের জানালা ও হোর্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। 
দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের কবলে ভারতীয় বিমান
উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেল যুদ্ধজাহাজ
অপারেশন শুরুর আগেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে উত্তর কোরিয় নেতা কিমের স্বপ্নের বিশাল যুদ্ধজাহাজ। বৃহস্পতিবার সেদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন একটি নৌ ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট কিম। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, বুধবার পূর্বাঞ্চলের চংজিন বন্দরে ৫ হাজার টনের একটি নতুন ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘গুরুতর একটি দুর্ঘটনা’ ঘটে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দেশটির নেতা কিম জং উন।  প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির নিচের অংশের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে, যার ফলে পুরো যুদ্ধজাহাজটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। কিম এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণভাবে অসাবধানতার ফল’ এবং ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সরাসরি জাহাজের কমান্ডিং ইউনিটের অনভিজ্ঞতা এবং অপারেশনাল ত্রুটিকেই দায়ী করেছেন। কিম জানিয়েছেন, এই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল’-এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি আগামী পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ সভায় নির্ধারণ করা হবে।  এ ঘটনার ফলে কোনও হতাহত বা আহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে কিমের ক্ষদ্ধ প্রতিক্রিয়া সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। কিম বলেছেন, এমন ঘটনা এক মুহূর্তের মধ্যে আমাদের জাতির মর্যাদা এবং গর্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।  প্রসঙ্গত, গত মাসেই উত্তর কোরিয়া আরেকটি ৫,০০০ টনের ডেস্ট্রয়ার ‘চো হিওন’-এর উদ্বোধন করেছিল। সে সময় কিম জং উন তার মেয়ে কিম জু এই-এর সঙ্গে প্রকাশ্যে হাজির হয়েছিলেন, যাকে অনেকেই তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।  উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, নতুন যুদ্ধজাহাজটি দেশের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ দিয়ে সজ্জিত এবং এটি আগামী বছরের শুরু থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। কিন্তু একই ধরণের আরেকটি যুদ্ধজাহাজে উদ্বোধনের দিনেই এমন বিপর্যয় দেশটির নৌ প্রস্তুতি নিয়ে তুলেছে প্রশ্ন।   
উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেল যুদ্ধজাহাজ
উত্তেজনার মধ্যে চীন-আফগান-পাক বৈঠকে উঠে এল সাতটি বিষয়
ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে চীন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্যও। বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ও আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভি আমির খান মুত্তাকি অংশ নেন। চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্যমতে, বৈঠকে তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে রাজনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংযুক্তি, এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে সাতটি মূল ফলাফল তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে: পারস্পরিক আস্থা ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক জোরদার চীন-আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংলাপ চালিয়ে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূত বিনিময়ের পরিকল্পনা বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে আফগানিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও বাণিজ্যিক সহায়তা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ওয়াং ই বলেন, চীন চায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নিজেদের বাস্তবতার আলোকে উন্নয়নের পথ বেছে নিক এবং তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সক্ষম হোক।  
উত্তেজনার মধ্যে চীন-আফগান-পাক বৈঠকে উঠে এল সাতটি বিষয়
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
পাকিস্তানকে বিশাল বাঁধ নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন
যেসব নদীর ওপর ভারতের অধিকার আছে, সেসব নদী থেকে পাকিস্তান পানি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে আসা তিনটি নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানের কৃষি ক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হয়।  এই অবস্থায় বন্ধু পাকিস্তানকে বাঁচাতে তৎপরতা শুরু করেছে চীন। চীনের সহায়তায় খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে নদীর ওপর বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান। ৭০০ ফুট উঁচু এই বাঁধ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম হতে যাচ্ছে। ভারত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।  খাইবার-পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে পাথুরে উপত্যকার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে সোয়াত নদী। এর উপরেই মোহমন্দ বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলছে ইসলামাবাদ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। এই বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে ১২০ কোটি ডলার খরচ করবে পাকিস্তান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, মোহমন্দ বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ ছাড়া পেশোয়ারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩০ কোটি গ্যালন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারবে তারা। এই পানি চাষের কাজেও ব্যবহার করা হবে। পাকিস্তানের কৃষি পুরোপুরি নদীর পানির উপর নির্ভরশীল। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাঁধটি খাইবার-পাখতুনখোয়ার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী ইসলামাবাদ। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন নেহরু।  চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে পশ্চিম দিকের সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার পানি ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। পানির নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান।  
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
পানি দেবেন না মোদি, কী করবে পাকিস্তান?
চিরশত্রু দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভাটা পড়েনি উত্তেজনায়। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে সংশয়।  সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো নদীর পানি পাবে না পাকিস্তান। মোদির এই ঘোষণা কার্যত দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি—১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে উৎপন্ন তিনটি নদীর পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়, যা দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও দিল্লি এর পরই সিন্ধু পানি চুক্তি আংশিক স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে ১০ মে পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংঘাতপূর্ণ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও পরে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কিছুটা শান্ত হয় পরিস্থিতি। ভারতের এই ঘোষণা পাকিস্তানে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইসলামাবাদ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে পানি বন্ধের হুমকিকে কেন্দ্র করে দেশটি একাধিকবার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা বারবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের কারণে সঙ্গে সঙ্গে বড় প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, যা অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা বিদ্যমান। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছে—যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ, ভিসা জারি কার্যত অচলসহ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পানি ইস্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া নতুন এই সঙ্কট পরিস্থিতিকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পানিনীতি কেবল পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল নয়, এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের অংশও। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি সত্যিই পাকিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—পাকিস্তান কি কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজবে, না পরমাণু হুমকিকে আবার সামনে নিয়ে আসবে?   
দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের কবলে ভারতীয় বিমান
দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝড়ের কবলে ভারতীয় বিমান
ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় দিল্লি থেকে শ্রীনগরগামী ফ্লাইট ৬ই২১৪২ এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বিমানের সামনের অংশবিশেষ করে ‘নাক’ (নোজ)—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে ২২৫ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। ঝড় শুরু হলে মাঝ আকাশে বিমানে প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী, বিশেষ করে শিশুরা, ভয় পেয়ে চিৎকার ও কান্নায় ভেঙে পড়েন।  সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে বিমানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমানটি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শ্রীনগরে জরুরি অবতরণ করে। ঝড়ের মধ্যে পাইলট তৎক্ষণাৎ ‘ইমার্জেন্সি’ সংকেত পাঠান শ্রীনগর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে।  সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বজ্রপাতের আলোর ঝলকানিতে বিমানের ভেতর আতঙ্কিত যাত্রীদের মুখ।  ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্লাইটটি মাঝপথে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়লেও পাইলট ও কেবিন ক্রু নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের যত্ন নেওয়া হয় এবং তাদের আরাম নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিমানটির ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পরই পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হবে। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন সন্ধ্যার পর দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়। ঘণ্টায় ৭৯ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়, সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। এতে দিল্লির বিভিন্ন অংশে গাছ উপড়ে পড়ে, জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। সেইসঙ্গে এদিন রাজধানীতে রেকর্ড গরম পড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ‘হিট ইনডেক্স’ বা অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছায় ৫০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক দুর্যোগের পেছনে ছিল হরিয়ানা অঞ্চলে সক্রিয় একটি সাইক্লোনিক সার্কুলেশন, যা পূর্ব-পশ্চিম অক্ষাংশ ধরে পাঞ্জাব থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্রতাই এই ঝড়কে আরও শক্তি জুগিয়েছে। ঝড়ের কারণে দিল্লির বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং শহরের মেট্রোর ইয়েলো লাইনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি, নোয়ডা শহরে বাতাসের দাপটে কিছু বিল্ডিংয়ের জানালা ও হোর্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। 
উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেল যুদ্ধজাহাজ
উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেল যুদ্ধজাহাজ
অপারেশন শুরুর আগেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে উত্তর কোরিয় নেতা কিমের স্বপ্নের বিশাল যুদ্ধজাহাজ। বৃহস্পতিবার সেদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন একটি নৌ ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট কিম। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, বুধবার পূর্বাঞ্চলের চংজিন বন্দরে ৫ হাজার টনের একটি নতুন ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘গুরুতর একটি দুর্ঘটনা’ ঘটে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দেশটির নেতা কিম জং উন।  প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির নিচের অংশের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে, যার ফলে পুরো যুদ্ধজাহাজটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। কিম এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণভাবে অসাবধানতার ফল’ এবং ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সরাসরি জাহাজের কমান্ডিং ইউনিটের অনভিজ্ঞতা এবং অপারেশনাল ত্রুটিকেই দায়ী করেছেন। কিম জানিয়েছেন, এই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল’-এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি আগামী পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ সভায় নির্ধারণ করা হবে।  এ ঘটনার ফলে কোনও হতাহত বা আহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে কিমের ক্ষদ্ধ প্রতিক্রিয়া সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। কিম বলেছেন, এমন ঘটনা এক মুহূর্তের মধ্যে আমাদের জাতির মর্যাদা এবং গর্বকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।  প্রসঙ্গত, গত মাসেই উত্তর কোরিয়া আরেকটি ৫,০০০ টনের ডেস্ট্রয়ার ‘চো হিওন’-এর উদ্বোধন করেছিল। সে সময় কিম জং উন তার মেয়ে কিম জু এই-এর সঙ্গে প্রকাশ্যে হাজির হয়েছিলেন, যাকে অনেকেই তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।  উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, নতুন যুদ্ধজাহাজটি দেশের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ দিয়ে সজ্জিত এবং এটি আগামী বছরের শুরু থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। কিন্তু একই ধরণের আরেকটি যুদ্ধজাহাজে উদ্বোধনের দিনেই এমন বিপর্যয় দেশটির নৌ প্রস্তুতি নিয়ে তুলেছে প্রশ্ন।