ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ট্রাম্পের মারাত্মক উসকানি যেভাবে মোকাবিলা করলেন দ. আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

কালবেলা ডেস্ক

  ২২ মে ২০২৫, ২১:৫৩
ওভাল অফিসে সিরিল রামাফোসা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউসের বৈঠকগুলো যেন ধীরে ধীরে কূটনৈতিক সম্মেলনের চেয়ে ‘রাজনৈতিক মঞ্চায়নে’ পরিণত হচ্ছে। এমনই এক নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তবে ট্রাম্পের একের পর এক উসকানিমূলক প্রশ্ন ও কার্যকলাপকে ঠান্ডা মাথায় কৌশলীভাবে সামলে দেন তিনি।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলো নিভিয়ে বড় পর্দায় ভিডিও চালানো থেকে শুরু করে পুরনো সংবাদ কাটিং হাজির করা পর্যন্ত—সবকিছুতেই ছিল সুস্পষ্ট নাটকীয়তা ও পূর্বপরিকল্পনা। বৈঠকের মাঝপথেই সাংবাদিকের প্রশ্নে উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকায় তথাকথিত ‘হোয়াইট জেনোসাইড’ বা শ্বেতাঙ্গ নিধনের প্রসঙ্গ।

প্রথমেই প্রেসিডেন্ট রামাফোসা শান্তভাবে জানান, ট্রাম্পকে এই বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা পেতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের বক্তব্য শুনতে হবে। তবে ট্রাম্প এতে সন্তুষ্ট না হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশ দেন, ‘লাইট নিভাও, টিভি চালাও।’ এরপর শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের উপর নির্যাতন নিয়ে একের পর এক ভিডিও ও সংবাদ দেখানোর পালা।

ভিডিওতে একটি পুরনো বর্ণবাদবিরোধী গান ‘শুট দ্য বুর’ দেখানো হয়, যা ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ বিদ্বেষের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তথাকথিত গণকবর কোথায়—প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘সাউথ আফ্রিকা।’ যদিও এসব অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নেই বললেই চলে। তবে এই রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার সামনে কৌশলী প্রতিরোধ গড়েন রামাফোসা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা সংযত থেকেছেন। তিনি কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানই নন, বরং প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ আলোচনায় রামাফোসা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত ও স্থির হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলফপ্রেমী ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে রামাফোসা বৈঠকে নিয়ে আসেন দুই দক্ষিণ আফ্রিকান গলফ তারকা—এর্নি এলস ও রেটিফ গুসেন। এদের উপস্থিতি হোয়াইট হাউজের পরিবেশ বদলে দেয়। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষিমন্ত্রী, যিনি নিজেই বিরোধীদলীয় নেতা, উপস্থিত থাকায় আলোচনার ভারসাম্য রামাফোসার দিকে ঝুঁকে পড়ে।

এই তিনজনকে ঘিরে রামাফোসা যেন নিজের চারপাশে একটি কূটনৈতিক ‘গোল্ডেন ডোম’ তৈরি করেন, যা ট্রাম্পের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণকেও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

রামাফোসার বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ও চূড়ান্ত জবাব : বৈঠকের এক পর্যায়ে রামাফোসা গলফারদের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পকে বলেন, ‘আপনি যদি বিশ্বাস করেন দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের গণহত্যা চলছে, তাহলে তারা (এই গলফার ও কৃষিমন্ত্রী) আজ এখানে থাকতেন না। আমি আপনাকে হলফ করে বলছি, গণহত্যার বিষয়ে আপনি যা শুনেছেন তা সত্য নয়।’

এই এক ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাম্প যতই শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিষয়টি সামনে আনতে চেয়েছেন, রামাফোসা ততটাই সংযত থেকেছেন। কোনো উস্কানির জবাবে তিনি উত্তেজিত হননি, বরং যুক্তি ও উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পুরো আয়োজন কেবল আন্তর্জাতিক কূটনীতির অংশ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই লক্ষ্য করে তৈরি। ট্রাম্পের প্রচারিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ মিশনের অন্যতম কৌশল হলো বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দেশের জনগণের ক্ষোভ জাগিয়ে তোলা।

কিন্তু এখন যেহেতু সিরিল রামাফোসার মতো বিশ্বনেতারা এই কৌশল বুঝতে শিখেছেন, তাই ট্রাম্পের হয়তো আগের মতো ‘চমকে দেওয়া’ কূটনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা আর সহজ হবে না।

দ. আফ্রিকার খনিতে আটকা ২৮৯ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে একটি সোনার খনিতে দুর্ঘটনার পর অন্তত ২৮৯ শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েছেন।  শুক্রবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় রাতে ক্লুফ সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিবানইয়ে স্টিলওয়াটার। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোহানেসবার্গের প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত খনিটির সাত নম্বর শ্যাফটে শ্রমিকরা আটকা পড়েন। তবে সবাই একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হচ্ছে। আটকে পড়াদের জন্য খাবার পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। খনির দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। তবে শ্যাফটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শুক্রবারের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে সিবানইয়ে স্টিলওয়াটার। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং গভীরতম স্বর্ণখনির জন্য পরিচিত। চলতি বছরের শুরুর দিকে অবৈধ একটি খনি থেকে ৭৮টি মরদেহ উদ্ধার হয়, যা দেশটির খনি খাতে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে। উল্লেখ্য, ক্লুফ খনিটি সিবানইয়ে স্টিলওয়াটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনি, যেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির মোট সোনা উত্তোলনের প্রায় ১৪ শতাংশ আসে। দুর্ঘটনাস্থল সাত নম্বর শ্যাফটে প্রায় দুই মাইল গভীরে খনন কাজ চলছে। একই সময়ে খনিটির অন্য দুটি শ্যাফটে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু আছে।
দ. আফ্রিকার খনিতে আটকা ২৮৯ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান
দ. আফ্রিকার খনিতে আটকা ২৮৯ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান
দ. আফ্রিকার খনিতে আটকা ২৮৯ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে একটি সোনার খনিতে দুর্ঘটনার পর অন্তত ২৮৯ শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েছেন।  শুক্রবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় রাতে ক্লুফ সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিবানইয়ে স্টিলওয়াটার। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোহানেসবার্গের প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত খনিটির সাত নম্বর শ্যাফটে শ্রমিকরা আটকা পড়েন। তবে সবাই একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হচ্ছে। আটকে পড়াদের জন্য খাবার পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। খনির দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। তবে শ্যাফটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শুক্রবারের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে সিবানইয়ে স্টিলওয়াটার। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং গভীরতম স্বর্ণখনির জন্য পরিচিত। চলতি বছরের শুরুর দিকে অবৈধ একটি খনি থেকে ৭৮টি মরদেহ উদ্ধার হয়, যা দেশটির খনি খাতে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে। উল্লেখ্য, ক্লুফ খনিটি সিবানইয়ে স্টিলওয়াটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনি, যেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির মোট সোনা উত্তোলনের প্রায় ১৪ শতাংশ আসে। দুর্ঘটনাস্থল সাত নম্বর শ্যাফটে প্রায় দুই মাইল গভীরে খনন কাজ চলছে। একই সময়ে খনিটির অন্য দুটি শ্যাফটে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু আছে।