ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

সঠিকভাবে ই-মেইল ব্যবহার করবেন যেভাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৪
ছবি : সংগৃহীত

ই-মেইল এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অফিসের রিপোর্ট পাঠানো থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যের খোঁজ নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই ই-মেইল ব্যবহৃত হচ্ছে। ই-মেইল শিষ্টাচার বলতে বোঝায় কিছু ভদ্র আচরণ ও অলিখিত নিয়ম, যা ডিজিটাল মাধ্যমে পেশাদার ও কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অনেকে ভাবেন, নিয়মিত ই-মেইল ব্যবহার করেন বলেই সব জানেন। কিন্তু প্রযুক্তি যেমন দ্রুত বদলায়, ই-মেইল ব্যবহারের নিয়মও তেমনই পরিবর্তিত হয়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ই-মেইল শিষ্টাচার জানা ও মানা জরুরি।

কেন ই-মেইল শিষ্টাচার গুরুত্বপূর্ণ

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় আপনার ই-মেইলই আপনার যোগাযোগ দক্ষতার একমাত্র প্রমাণ। সঠিক ‘ই-মেইল আচরণ’ অন্যের মনে আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করে, পেশাগত দক্ষতা প্রকাশ করে এবং প্রেরক ও প্রাপক উভয়ের মানসিক চাপ কমায়।

ই-মেইলের ক্ষেত্রে শুধু সামাজিক বা পেশাগত দিক নয়, প্রযুক্তিগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি দ্রুত বদলানোর কারণে ভালো ও খারাপ ব্যবহারের সংজ্ঞাও পাল্টায়।

নিচে ই-মেইল ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলো।

পেশাদার ই-মেইলের নিয়ম

নিজের নাম ব্যবহার করে ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করুন : অপ্রাসঙ্গিক বা হাস্যকর নামের পুরোনো ই-মেইল ঠিকানা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। চাকরির আবেদন, ব্যাংকিং, চিকিৎসাসেবা সব ক্ষেত্রেই একটি সহজ ও পরিপাটি ই-মেইল ঠিকানা দরকার। নিজের নাম ও প্রয়োজনে কয়েকটি সংখ্যা ব্যবহার করাই ভালো।

ব্যক্তিগত ও অফিসের ই-মেইল আলাদা রাখুন : পেশাগত যোগাযোগের জন্য আলাদা অফিস ই-মেইল ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে এবং ভুল করে ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর ঝুঁকি কমায়।

সংক্ষিপ্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ সিগনেচার ব্যবহার করুন : ই-মেইলের শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয় এমন সিগনেচারে পূর্ণ নাম, পদবি, ফোন নম্বর বা ওয়েবসাইট দেওয়া যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় উক্তি, রঙিন ফন্ট বা ঝলমলে ছবি ব্যবহার না করাই ভালো।

সরাসরি মূল কথায় আসুন : ই-মেইল সাধারণত তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম। তাই অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ভূমিকা এড়িয়ে সংক্ষেপে উদ্দেশ্য লিখুন। প্রথম অনুচ্ছেদেই জানিয়ে দিন আপনি কী চাইছেন।

পরিষ্কার ও নির্ভুল সাবজেক্ট লাইন লিখুন : অনেকে ই-মেইল খোলার আগে শুধু বিষয়শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত নেন। তাই সাবজেক্ট স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হওয়া জরুরি। বানান ভুল থাকলে তা আপনার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে ই-মেইলে যুক্ত করবেন না : যাদের তথ্য জানা প্রয়োজন, শুধু তাদেরই যুক্ত করুন। অকারণে অনেককে যুক্ত করলে ইনবক্স ভরে যায় এবং বিরক্তি তৈরি হয়।

সম্বোধনে লিঙ্গ অনুমান করবেন না : কারও নাম বা লিঙ্গ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তার নাম ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে তিনি কীভাবে সম্বোধন পছন্দ করেন।

রিপ্লাই অল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন : প্রত্যেক উত্তর সবার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই রিপ্লাই অল ব্যবহারের আগে ভেবে নিন। প্রয়োজন হলে কেবল মূল প্রেরককে উত্তর দিন।

বিসিসি ও সিসি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন : বিসিসি ব্যবহার করলে অন্য প্রাপকরা একে অন্যের ই-মেইল দেখতে পান না। এটি গোপনীয়তার জন্য ভালো। সিসি ব্যবহার করলে সবাই সবার ঠিকানা দেখতে পারে, যা দলীয় আলোচনায় উপযোগী।

বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষা করুন : অধিকাংশ ই-মেইল প্ল্যাটফর্মে বানান ও ব্যাকরণ যাচাইয়ের সুবিধা থাকে। পাঠানোর আগে একবার পড়ে নিলে সংযুক্তি দিতে ভুলে যাওয়া বা নামের বানান ভুলের মতো সমস্যা এড়ানো যায়।

পূর্ণ বাক্যে লিখুন : মেসেজের মতো সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার না করে পূর্ণ বাক্যে লিখুন। এটি পাঠযোগ্যতা বাড়ায় এবং পেশাদারিত্ব প্রকাশ করে।

অযথা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে চলুন : অত্যন্ত কঠোর আনুষ্ঠানিক সম্বোধন এখন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে সংস্কৃতি ভিন্ন হতে পারে, সে অনুযায়ী আচরণ করা উচিত।

রিড রিসিপ্ট পাঠানো বা চাওয়া এড়িয়ে চলুন : রিড রিসিপ্ট অনেক সময় বিরক্তিকর। জরুরি হলে ২৪ ঘণ্টা পর ভদ্রভাবে অনুস্মারক পাঠানো যেতে পারে।

ভয়েস ডিকটেশন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন : মোবাইল থেকে ভয়েস টাইপ করলে ভুল শব্দ চলে আসতে পারে। পাঠানোর আগে অবশ্যই পড়ে নিন।

অপ্রয়োজনীয় ধন্যবাদ ই-মেইল পাঠাবেন না : যদি অতিরিক্ত তথ্য না থাকে, শুধু ধন্যবাদ বা ওকে লিখে আলাদা ই-মেইল পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

ইমোজি ও বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহারে সংযমী হোন : অফিসের সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে ইমোজি ব্যবহার গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার অপেশাদার মনে হতে পারে।

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিন : ই-মেইলের উত্তর দিতে দেরি করা ভালো অভ্যাস নয়। সম্ভব হলে দ্রুত সংক্ষিপ্ত উত্তর দিন। প্রয়োজনে জানিয়ে দিন পরে বিস্তারিত জানাবেন।

অফিসের বাইরে থাকলে অটো রিপ্লাই দিন : ছুটিতে বা অফিসের বাইরে থাকলে স্বয়ংক্রিয় বার্তা চালু রাখুন, যাতে প্রেরক জানেন কখন উত্তর পাবেন।

ডিভাইসের নাম উল্লেখের প্রয়োজন নেই : মোবাইল থেকে পাঠানো হয়েছে এমন স্বাক্ষর রাখার দরকার নেই। ভুল এড়াতে সময় নিয়ে সঠিকভাবে লিখুন।

আউটবক্স পরীক্ষা করুন : কখনও কখনও ই-মেইল কিউতে আটকে থাকতে পারে। নিয়মিত আউটবক্স পরীক্ষা করা ভালো অভ্যাস।

সামনাসামনি বলতে না পারলে ইমেইলেও লিখবেন না : ই-মেইল স্থায়ী রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে। তাই অপমানজনক ভাষা, অভিযোগ বা অশোভন বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলুন।

বর্তমানে বাংলাদেশে করপোরেট, শিক্ষা ও ফ্রিল্যান্স খাতে ই-মেইলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ই-মেইল গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ই-মেইল শিষ্টাচার মানলে পেশাগত সুযোগ বাড়ে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমে।

ই-মেইল একটি শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে আমাদের ব্যবহারের ওপর। সঠিক ভাষা, সংক্ষিপ্ত বার্তা, প্রাসঙ্গিক প্রাপক এবং প্রযুক্তিগত সচেতনতা মিলেই গড়ে ওঠে ভালো ই-মেইল শিষ্টাচার। ছোট ছোট নিয়ম মেনে চললে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

যেসব কারণে আপনার চার্জিং কেবল বারবার নষ্ট হয়
চার্জিং কেবল এমন একটি জিনিস, যা আমরা সাধারণত গুরুত্ব দিই না, যতক্ষণ না এটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফোন চার্জ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসেই কেবল দ্রুত নষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষক মাইকেল পেচ্ট, যিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের একটি ল্যাব পরিচালনা করেন, সেখানে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখা হয় কেন এগুলো নষ্ট হয়। তার মতে, কেবল নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভুল ব্যবহার। বিশেষ করে যেখানে কেবলটি প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই অংশে বেশি চাপ পড়া। কেবল কোথায় বেশি নষ্ট হয় চার্জিং কেবলের ভেতরে ছোট ছোট ধাতব তার থাকে, যেগুলো ইনসুলেশন দিয়ে ঢাকা। এই তারগুলো প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। সাধারণত এ সংযোগস্থলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। একই জায়গায় বারবার বাঁকানো হলে ধাতব তার দুর্বল হয়ে যায়। যেমন একটি পেপার ক্লিপ বারবার বাঁকালে একসময় ভেঙে যায়, ঠিক তেমনই কেবলের ভেতরের তারও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেসব অভ্যাস নষ্ট করে আপনার কেবল  অনেকেই কেবল খুলতে গিয়ে সরাসরি তার ধরে টান দেন, যা বড় একটি ভুল। এতে সংযোগস্থলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করার সময় যদি কেবলটি টানটান থাকে বা প্লাগের অংশে বাঁক তৈরি হয়, তাহলে দ্রুত ক্ষতি হয়। বিশেষ করে বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় অনেকেই এভাবে কেবল বাঁকিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া গাড়িতে ফোন চার্জে রেখে কাপ হোল্ডারে রাখলে ফোনের ওজন কেবলের ওপর পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ছোট কেবল ব্যবহার করলেও সমস্যা হয়। যদি কেবলটি বারবার টেনে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে সেটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কেবল মোড়ানোর বিষয়টা আসলে কী অনেকে মনে করেন, কেবল কীভাবে মোড়ানো হচ্ছে সেটিই নষ্ট হওয়ার মূল কারণ। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ চার্জিং কেবল কীভাবে মোড়ানো হচ্ছে, তা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। যতক্ষণ না সেটি খুব বেশি শক্ত করে বা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো হচ্ছে। ভালো কেবল বেছে নেওয়া কি জরুরি সব কেবল একরকম নয়। কম দামের বা নিম্নমানের কেবল দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তুলনামূলকভাবে মজবুত ও ভালো মানের কেবল দীর্ঘদিন টিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেইডেড বা কাপড় মোড়ানো কেবল তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই হয়। এগুলো তারকে ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দীর্ঘদিন কেবল ব্যবহারের কিছু টিপস কেবল খুলতে হলে সবসময় প্লাগ ধরে টানুন, তার নয় কেবল টানটান করে ব্যবহার করবেন না প্লাগের অংশে বেশি বাঁক তৈরি হতে দেবেন না অতিরিক্ত ছোট কেবল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন ভালো মানের কেবল ব্যবহার করুন চার্জিং কেবল হয়তো ছোট একটি জিনিস, কিন্তু এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটু যত্ন নিলেই এটি দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। সূত্র : বিবিসি
যেসব কারণে আপনার চার্জিং কেবল বারবার নষ্ট হয়
সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, জানুন কী ভুল করছেন
সংক্ষেপে বললে, না- সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কেন একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ? একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করলে আপনি সহজেই সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে একটি সাধারণ পদ্ধতি হলো ‘ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং’। এতে হ্যাকাররা কোনো একটি সাইট থেকে ফাঁস হওয়া লগইন তথ্য নিয়ে অন্য সাইটগুলোতেও চেষ্টা করে। যদি সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড থাকে, তাহলে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেই অন্যগুলোও ঝুঁকিতে পড়ে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকেই পাসওয়ার্ডে সামান্য পরিবর্তন করেন। কিন্তু এই ধরনের মিল থাকা পাসওয়ার্ডও খুব সহজে ভেঙে ফেলা যায়। স্বয়ংক্রিয় বট খুব অল্প সময়েই এসব পাসওয়ার্ড অনুমান করতে পারে। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, এমনকি পরিচয়ও চুরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। যদি অনেক পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হয়? অনেকেই একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন কারণ অনেক পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন। এটা স্বাভাবিক। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ‘পাসওয়ার্ড ম্যানেজার’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এই ধরনের অ্যাপ আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেয়। আপনাকে শুধু একটি শক্তিশালী মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়। ব্রাউজারেও পাসওয়ার্ড সেভ করার সুবিধা থাকে, তবে এগুলো সাধারণত আলাদা পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মতো নিরাপদ নয়। কত ঘন ঘন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত? আগে নিয়মিত পাসওয়ার্ড বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হতো। এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পাসওয়ার্ড শক্তিশালী ও আলাদা হয়, তাহলে বারবার পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে। মনে রাখবেন- কোনো ওয়েবসাইটে ডাটা ফাঁস হলে, আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ধরা পড়লে, আপনি কারো সঙ্গে পাসওয়ার্ড শেয়ার করলেবা অজানা লগইন চেষ্টা বা অস্বাভাবিক নোটিফিকেশন পেলে দেরী না করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। ভালো পাসওয়ার্ড কেমন হওয়া উচিত? একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সাধারণত: অন্তত ১৬ অক্ষরের হয় বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন থাকে একেবারে এলোমেলো হয় যা এড়িয়ে চলা উচিত সহজ শব্দ বা নাম জন্মতারিখ ইমেইল বা ইউজারনেম ধারাবাহিক সংখ্যা বা অক্ষর কিবোর্ড প্যাটার্ন (যেমন qwerty) আরও কীভাবে নিরাপত্তা বাড়াবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ডই নয়, আরও কিছু অভ্যাস জরুরি। যেখানে সম্ভব মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) চালু করুন আর সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখুন। এ ছাড়া ফিশিং ইমেইল বা ভুয়া লিংক চিনতে শিখুন।  নির্ভরযোগ্য সাইবার নিরাপত্তা আপডেট অনুসরণ করতে ভুলবেন না। সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা সহজ মনে হলেও এতে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে। এতে আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সূত্র : কিপার সিকিউরিটি
সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, জানুন কী ভুল করছেন
ছবি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি জেনে নিন মুহূর্তেই
সোশ্যাল মিডিয়ায় বা মেসেজে পাওয়া অনেক ছবিই এখন দেখে বোঝা কঠিন হয়ে যায়। ছবিটি কি সত্যিই ক্যামেরায় তোলা, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি তা নিয়ে তৈরি হয় সন্দেহ। আগে মানুষ এই ছবিগুলো নিজের মতো করে যাচাই করার চেষ্টা করত, যেমন অস্বাভাবিক মুখ, অতিরিক্ত হাত-পা বা বিকৃত অংশ খোঁজা। কিন্তু আধুনিক এআই এতটাই উন্নত হয়েছে যে এসব পদ্ধতি অনেক সময় আর কাজ করে না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে আছে গুগল জেমিনি (Google Gemini)। Google। গুগলের এই ফিচার ব্যবহার করে আপনি সহজেই জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি কি না। কীভাবে কাজ করে এই ফিচার গুগল তাদের নিজস্ব SynthID প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এ ফিচারে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করা হয়, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। জেমিনি অ্যাপ সেই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করতে পারে এবং জানাতে পারে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না। সহজভাবে বললে, আপনি কোনো ছবি পেলে সেটি জেমিনিতে আপলোড করবেন। এরপর জিজ্ঞেস করবেন ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না। এরপর জেমিনি ছবিটি বিশ্লেষণ করে আপনাকে উত্তর দিয়ে দেবে। কেন এই ফিচার গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে এআই দিয়ে তৈরি ছবি এতটাই বাস্তবসম্মত যে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুগলের এই উদ্যোগ ব্যবহারকারীদের সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে সাহায্য করবে এবং অনলাইনে সচেতনতা বাড়াবে। তবে এই ফিচারের একটি বড় সীমাবদ্ধতা আছে। জেমিনি শুধু সেই ছবিগুলো শনাক্ত করতে পারবে, যেগুলো গুগলের নিজস্ব এআই টুল দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। অন্য কোনো কোম্পানির এআই দিয়ে তৈরি ছবি হলে এটি সবসময় সঠিকভাবে শনাক্ত করতে নাও পারে। এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই সত্য আর কৃত্রিম জিনিস আলাদা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গুগলের জেমিনির নতুন ফিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে, ব্যবহারকারীদেরও সচেতন থাকা জরুরি। সন্দেহজনক ছবি দেখলে যাচাই করা এবং একাধিক উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সূত্র : অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ
ছবি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি জেনে নিন মুহূর্তেই
ফোনের স্ক্রিন বন্ধ রেখেও যেভাবে ইউটিউবে গান শুনবেন
অনলাইনে গান শোনার জন্য ইউটিউবে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। পছন্দের গান খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ। তবে একটি সাধারণ সমস্যা হলো, স্ক্রিন বন্ধ করলেই গান বন্ধ হয়ে যায়। ভালো খবর হলো, কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করে আপনি স্ক্রিন লক অবস্থাতেও ইউটিউব মিউজিক চালিয়ে রাখতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুটিতেই, কোনো প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই। সাধারণত ইউটিউব প্রিমিয়াম ব্যবহার করলে এই সুবিধা পাওয়া যায়। তবে নিচের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে ফ্রিতেই এ সুবিধা নিতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েডে স্ক্রিন বন্ধ রেখে ইউটিউব শোনার উপায় অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো ব্রেভ ব্রাউজার (Brave Browser) ব্যবহার করা। এই ব্রাউজারটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় এবং এতে বিল্ট-ইন ব্যাকগ্রাউন্ড প্লেব্যাক অপশন থাকে। প্রথমে ব্রাউজারটি ইনস্টল করে youtube.com-এ ঢুকুন এবং আপনার পছন্দের ভিডিও বা গান চালান। এরপর সেটিংসে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড প্লেব্যাক অপশন চালু করুন। তারপর স্ক্রিন লক করলেও গান চলতে থাকবে, এমনকি নোটিফিকেশন বার থেকেই প্লে বা পজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আরেকটি উপায় হলো গুগল ক্রোম বা মোজিলা ফায়ারফক্স ব্যবহার করা। ইউটিউব ভিডিও চালু করার পর স্ক্রিন লক করলে প্রথমে গান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে নোটিফিকেশন প্যানেল বা মিডিয়া কন্ট্রোল থেকে আবার চালু করলে বেশির ভাগ ডিভাইসে এটি কাজ করে। আইফোনে স্ক্রিন বন্ধ রেখে ইউটিউব শোনার উপায় আইফোন ব্যবহারকারীরা সাফারি ব্রাউজারের মাধ্যমে সহজেই এই সুবিধা নিতে পারেন। প্রথমে youtube.com-এ গিয়ে পছন্দের গান চালু করুন। এরপর অ্যাড্রেস বারের ‘AA’ অপশনে ট্যাপ করে ডেস্কটপ ভার্সন চালু করুন। ভিডিও চালু হওয়ার পর স্ক্রিন লক করুন। তারপর কন্ট্রোল সেন্টার খুলে মিডিয়া প্লেয়ার থেকে প্লে বাটনে চাপ দিন। দেখবেন, স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও গান চালু থাকবে। বিকল্প উপায় আপনি চাইলে YouTube Music-এর ফ্রি ভার্সন বা অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং অ্যাপও ব্যবহার করতে পারেন। যদিও ফ্রি ভার্সনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্রিন বন্ধ রেখেও গান শোনার সুবিধা পাওয়া যায়। স্ক্রিন চালু রেখে গান শোনা ব্যাটারির ওপর চাপ ফেলে। তাই এই সহজ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি ব্যাটারি সাশ্রয় করতে পারেন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গান উপভোগ করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন দুই ক্ষেত্রেই সামান্য সেটিংস পরিবর্তনেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ফোনের স্ক্রিন বন্ধ রেখেও যেভাবে ইউটিউবে গান শুনবেন
হোয়াটসঅ্যাপে অডিও মেসেজ ট্রান্সক্রিপ্ট চালু করবেন যেভাবে
বর্তমান সময়ে মেসেজিং অ্যাপগুলোর মধ্যে নতুন নতুন ফিচার যোগ হওয়া যেন নিত্যদিনের ব্যাপার। ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়াতে প্রতিনিয়ত আপডেট নিয়ে আসছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। এবার তারা এনেছে এমন একটি ফিচার, যা অনেকের দৈনন্দিন ব্যবহারকে আরও সহজ করে তুলবে। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন ফোনে আসা ভয়েস মেসেজ শোনা সম্ভব হয় না—হয়তো আশপাশে প্রচণ্ড শব্দ, অথবা আপনি এমন জায়গায় আছেন যেখানে অডিও শোনা সুবিধাজনক নয়। এই সমস্যার সমাধানেই হোয়াটসঅ্যাপ চালু করেছে অডিও মেসেজ ট্রান্সক্রিপ্ট (Voice Message Transcript) নামের নতুন সুবিধা। এর মাধ্যমে এখন আর ভয়েস মেসেজ শোনার প্রয়োজন নেই। চাইলেই সেটিকে লেখায় রূপান্তর করে পড়ে নেওয়া যাবে। কী এই অডিও মেসেজ ট্রান্সক্রিপ্ট ফিচার? এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যে কোনো ভয়েস মেসেজকে টেক্সটে রূপান্তর করতে পারবেন। ফলে অডিও না শুনেই সহজে বার্তার বিষয়বস্তু জানা সম্ভব হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে—এই ট্রান্সক্রিপশন সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর নিজের ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ কোনো অডিও বা টেক্সট সার্ভারে পাঠানো হয় না, যা গোপনীয়তা রক্ষার দিক থেকে বড় সুবিধা। কীভাবে চালু করবেন ফিচারটি হোয়াটসঅ্যাপ খুলে Settings-এ যান Chats অপশনে প্রবেশ করুন Voice message transcripts-এ ট্যাপ করুন ফিচারটি On/Off করুন Choose language থেকে পছন্দের ভাষা নির্বাচন করুন পরে ভাষা পরিবর্তন করতে চাইলে: Settings > Chats > Transcript language-এ গিয়ে পরিবর্তন করা যাবে কীভাবে ভয়েস মেসেজকে লেখায় রূপান্তর করবেন আগে নিশ্চিত করুন ফিচারটি চালু আছে যে কোনো ভয়েস মেসেজে ট্যাপ করে ধরে রাখুন Transcribe অপশন নির্বাচন করুন এরপর মেসেজের নিচেই টেক্সট দেখা যাবে। বড় হলে সেটি প্রসারিত করে পড়া যাবে। কোন কোন ভাষায় কাজ করে অ্যান্ড্রয়েডে: ইংরেজি, পর্তুগিজ, স্প্যানিশ ও রুশ। হয়তো ধীরে ধীরে আরও ভাষা যুক্ত হবে।  আইফোনে (iOS 16 থেকে): ইংরেজি, আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান, জাপানি, কোরিয়ান, পর্তুগিজ, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি iOS 17 বা পরবর্তী ভার্সনে: দানি, ডাচ, ফিনিশ, হিব্রু, মালয়, নরওয়েজিয়ান, সুইডিশ, থাইসহ আরও ভাষা যুক্ত হয়েছে। মনে রাখবেন, আইফোনে এই ফিচার ব্যবহার করতে Siri চালু থাকতে হবে।  কখন ট্রান্সক্রিপশন নাও দেখা যেতে পারে  নির্বাচিত ভাষা ভয়েস মেসেজের ভাষার সাথে না মিললে  ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি শব্দ থাকলে  ভাষাটি সাপোর্টেড না হলে  কখনও কখনও স্বয়ংক্রিয় ভুল হতে পারে ভয়েস মেসেজ শোনার ঝামেলা কমাতে হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন ফিচার নিঃসন্দেহে একটি বড় সুবিধা। বিশেষ করে ব্যস্ততা বা শব্দপূর্ণ পরিবেশে এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কার্যকর হবে। প্রযুক্তির এই ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় ব্যবহার অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তোলে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
হোয়াটসঅ্যাপে অডিও মেসেজ ট্রান্সক্রিপ্ট চালু করবেন যেভাবে
যেসব কারণে আপনার চার্জিং কেবল বারবার নষ্ট হয়
যেসব কারণে আপনার চার্জিং কেবল বারবার নষ্ট হয়
চার্জিং কেবল এমন একটি জিনিস, যা আমরা সাধারণত গুরুত্ব দিই না, যতক্ষণ না এটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফোন চার্জ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসেই কেবল দ্রুত নষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষক মাইকেল পেচ্ট, যিনি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের একটি ল্যাব পরিচালনা করেন, সেখানে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখা হয় কেন এগুলো নষ্ট হয়। তার মতে, কেবল নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভুল ব্যবহার। বিশেষ করে যেখানে কেবলটি প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই অংশে বেশি চাপ পড়া। কেবল কোথায় বেশি নষ্ট হয় চার্জিং কেবলের ভেতরে ছোট ছোট ধাতব তার থাকে, যেগুলো ইনসুলেশন দিয়ে ঢাকা। এই তারগুলো প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। সাধারণত এ সংযোগস্থলেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। একই জায়গায় বারবার বাঁকানো হলে ধাতব তার দুর্বল হয়ে যায়। যেমন একটি পেপার ক্লিপ বারবার বাঁকালে একসময় ভেঙে যায়, ঠিক তেমনই কেবলের ভেতরের তারও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেসব অভ্যাস নষ্ট করে আপনার কেবল  অনেকেই কেবল খুলতে গিয়ে সরাসরি তার ধরে টান দেন, যা বড় একটি ভুল। এতে সংযোগস্থলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করার সময় যদি কেবলটি টানটান থাকে বা প্লাগের অংশে বাঁক তৈরি হয়, তাহলে দ্রুত ক্ষতি হয়। বিশেষ করে বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় অনেকেই এভাবে কেবল বাঁকিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া গাড়িতে ফোন চার্জে রেখে কাপ হোল্ডারে রাখলে ফোনের ওজন কেবলের ওপর পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ছোট কেবল ব্যবহার করলেও সমস্যা হয়। যদি কেবলটি বারবার টেনে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে সেটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কেবল মোড়ানোর বিষয়টা আসলে কী অনেকে মনে করেন, কেবল কীভাবে মোড়ানো হচ্ছে সেটিই নষ্ট হওয়ার মূল কারণ। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ চার্জিং কেবল কীভাবে মোড়ানো হচ্ছে, তা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। যতক্ষণ না সেটি খুব বেশি শক্ত করে বা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো হচ্ছে। ভালো কেবল বেছে নেওয়া কি জরুরি সব কেবল একরকম নয়। কম দামের বা নিম্নমানের কেবল দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তুলনামূলকভাবে মজবুত ও ভালো মানের কেবল দীর্ঘদিন টিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেইডেড বা কাপড় মোড়ানো কেবল তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই হয়। এগুলো তারকে ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দীর্ঘদিন কেবল ব্যবহারের কিছু টিপস কেবল খুলতে হলে সবসময় প্লাগ ধরে টানুন, তার নয় কেবল টানটান করে ব্যবহার করবেন না প্লাগের অংশে বেশি বাঁক তৈরি হতে দেবেন না অতিরিক্ত ছোট কেবল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন ভালো মানের কেবল ব্যবহার করুন চার্জিং কেবল হয়তো ছোট একটি জিনিস, কিন্তু এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটু যত্ন নিলেই এটি দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। সূত্র : বিবিসি
সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, জানুন কী ভুল করছেন
সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, জানুন কী ভুল করছেন
সংক্ষেপে বললে, না- সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কেন একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ? একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করলে আপনি সহজেই সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে একটি সাধারণ পদ্ধতি হলো ‘ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং’। এতে হ্যাকাররা কোনো একটি সাইট থেকে ফাঁস হওয়া লগইন তথ্য নিয়ে অন্য সাইটগুলোতেও চেষ্টা করে। যদি সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড থাকে, তাহলে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেই অন্যগুলোও ঝুঁকিতে পড়ে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকেই পাসওয়ার্ডে সামান্য পরিবর্তন করেন। কিন্তু এই ধরনের মিল থাকা পাসওয়ার্ডও খুব সহজে ভেঙে ফেলা যায়। স্বয়ংক্রিয় বট খুব অল্প সময়েই এসব পাসওয়ার্ড অনুমান করতে পারে। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, এমনকি পরিচয়ও চুরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। যদি অনেক পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন হয়? অনেকেই একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন কারণ অনেক পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন। এটা স্বাভাবিক। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ‘পাসওয়ার্ড ম্যানেজার’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এই ধরনের অ্যাপ আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেয়। আপনাকে শুধু একটি শক্তিশালী মাস্টার পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়। ব্রাউজারেও পাসওয়ার্ড সেভ করার সুবিধা থাকে, তবে এগুলো সাধারণত আলাদা পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মতো নিরাপদ নয়। কত ঘন ঘন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত? আগে নিয়মিত পাসওয়ার্ড বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হতো। এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পাসওয়ার্ড শক্তিশালী ও আলাদা হয়, তাহলে বারবার পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে। মনে রাখবেন- কোনো ওয়েবসাইটে ডাটা ফাঁস হলে, আপনার ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ধরা পড়লে, আপনি কারো সঙ্গে পাসওয়ার্ড শেয়ার করলেবা অজানা লগইন চেষ্টা বা অস্বাভাবিক নোটিফিকেশন পেলে দেরী না করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। ভালো পাসওয়ার্ড কেমন হওয়া উচিত? একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সাধারণত: অন্তত ১৬ অক্ষরের হয় বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন থাকে একেবারে এলোমেলো হয় যা এড়িয়ে চলা উচিত সহজ শব্দ বা নাম জন্মতারিখ ইমেইল বা ইউজারনেম ধারাবাহিক সংখ্যা বা অক্ষর কিবোর্ড প্যাটার্ন (যেমন qwerty) আরও কীভাবে নিরাপত্তা বাড়াবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ডই নয়, আরও কিছু অভ্যাস জরুরি। যেখানে সম্ভব মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) চালু করুন আর সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখুন। এ ছাড়া ফিশিং ইমেইল বা ভুয়া লিংক চিনতে শিখুন।  নির্ভরযোগ্য সাইবার নিরাপত্তা আপডেট অনুসরণ করতে ভুলবেন না। সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা সহজ মনে হলেও এতে বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে। এতে আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সূত্র : কিপার সিকিউরিটি
ছবি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি জেনে নিন মুহূর্তেই
ছবি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি জেনে নিন মুহূর্তেই
সোশ্যাল মিডিয়ায় বা মেসেজে পাওয়া অনেক ছবিই এখন দেখে বোঝা কঠিন হয়ে যায়। ছবিটি কি সত্যিই ক্যামেরায় তোলা, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি তা নিয়ে তৈরি হয় সন্দেহ। আগে মানুষ এই ছবিগুলো নিজের মতো করে যাচাই করার চেষ্টা করত, যেমন অস্বাভাবিক মুখ, অতিরিক্ত হাত-পা বা বিকৃত অংশ খোঁজা। কিন্তু আধুনিক এআই এতটাই উন্নত হয়েছে যে এসব পদ্ধতি অনেক সময় আর কাজ করে না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে আছে গুগল জেমিনি (Google Gemini)। Google। গুগলের এই ফিচার ব্যবহার করে আপনি সহজেই জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি কি না। কীভাবে কাজ করে এই ফিচার গুগল তাদের নিজস্ব SynthID প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এ ফিচারে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করা হয়, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। জেমিনি অ্যাপ সেই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করতে পারে এবং জানাতে পারে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না। সহজভাবে বললে, আপনি কোনো ছবি পেলে সেটি জেমিনিতে আপলোড করবেন। এরপর জিজ্ঞেস করবেন ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না। এরপর জেমিনি ছবিটি বিশ্লেষণ করে আপনাকে উত্তর দিয়ে দেবে। কেন এই ফিচার গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে এআই দিয়ে তৈরি ছবি এতটাই বাস্তবসম্মত যে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুগলের এই উদ্যোগ ব্যবহারকারীদের সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে সাহায্য করবে এবং অনলাইনে সচেতনতা বাড়াবে। তবে এই ফিচারের একটি বড় সীমাবদ্ধতা আছে। জেমিনি শুধু সেই ছবিগুলো শনাক্ত করতে পারবে, যেগুলো গুগলের নিজস্ব এআই টুল দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। অন্য কোনো কোম্পানির এআই দিয়ে তৈরি ছবি হলে এটি সবসময় সঠিকভাবে শনাক্ত করতে নাও পারে। এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই সত্য আর কৃত্রিম জিনিস আলাদা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গুগলের জেমিনির নতুন ফিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে, ব্যবহারকারীদেরও সচেতন থাকা জরুরি। সন্দেহজনক ছবি দেখলে যাচাই করা এবং একাধিক উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সূত্র : অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ
ফোনের স্ক্রিন বন্ধ রেখেও যেভাবে ইউটিউবে গান শুনবেন
ফোনের স্ক্রিন বন্ধ রেখেও যেভাবে ইউটিউবে গান শুনবেন
অনলাইনে গান শোনার জন্য ইউটিউবে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। পছন্দের গান খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ। তবে একটি সাধারণ সমস্যা হলো, স্ক্রিন বন্ধ করলেই গান বন্ধ হয়ে যায়। ভালো খবর হলো, কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করে আপনি স্ক্রিন লক অবস্থাতেও ইউটিউব মিউজিক চালিয়ে রাখতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুটিতেই, কোনো প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই। সাধারণত ইউটিউব প্রিমিয়াম ব্যবহার করলে এই সুবিধা পাওয়া যায়। তবে নিচের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে ফ্রিতেই এ সুবিধা নিতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েডে স্ক্রিন বন্ধ রেখে ইউটিউব শোনার উপায় অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো ব্রেভ ব্রাউজার (Brave Browser) ব্যবহার করা। এই ব্রাউজারটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় এবং এতে বিল্ট-ইন ব্যাকগ্রাউন্ড প্লেব্যাক অপশন থাকে। প্রথমে ব্রাউজারটি ইনস্টল করে youtube.com-এ ঢুকুন এবং আপনার পছন্দের ভিডিও বা গান চালান। এরপর সেটিংসে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড প্লেব্যাক অপশন চালু করুন। তারপর স্ক্রিন লক করলেও গান চলতে থাকবে, এমনকি নোটিফিকেশন বার থেকেই প্লে বা পজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আরেকটি উপায় হলো গুগল ক্রোম বা মোজিলা ফায়ারফক্স ব্যবহার করা। ইউটিউব ভিডিও চালু করার পর স্ক্রিন লক করলে প্রথমে গান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে নোটিফিকেশন প্যানেল বা মিডিয়া কন্ট্রোল থেকে আবার চালু করলে বেশির ভাগ ডিভাইসে এটি কাজ করে। আইফোনে স্ক্রিন বন্ধ রেখে ইউটিউব শোনার উপায় আইফোন ব্যবহারকারীরা সাফারি ব্রাউজারের মাধ্যমে সহজেই এই সুবিধা নিতে পারেন। প্রথমে youtube.com-এ গিয়ে পছন্দের গান চালু করুন। এরপর অ্যাড্রেস বারের ‘AA’ অপশনে ট্যাপ করে ডেস্কটপ ভার্সন চালু করুন। ভিডিও চালু হওয়ার পর স্ক্রিন লক করুন। তারপর কন্ট্রোল সেন্টার খুলে মিডিয়া প্লেয়ার থেকে প্লে বাটনে চাপ দিন। দেখবেন, স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও গান চালু থাকবে। বিকল্প উপায় আপনি চাইলে YouTube Music-এর ফ্রি ভার্সন বা অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং অ্যাপও ব্যবহার করতে পারেন। যদিও ফ্রি ভার্সনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্রিন বন্ধ রেখেও গান শোনার সুবিধা পাওয়া যায়। স্ক্রিন চালু রেখে গান শোনা ব্যাটারির ওপর চাপ ফেলে। তাই এই সহজ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি ব্যাটারি সাশ্রয় করতে পারেন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গান উপভোগ করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন দুই ক্ষেত্রেই সামান্য সেটিংস পরিবর্তনেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।