সোশ্যাল মিডিয়ায় বা মেসেজে পাওয়া অনেক ছবিই এখন দেখে বোঝা কঠিন হয়ে যায়। ছবিটি কি সত্যিই ক্যামেরায় তোলা, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি তা নিয়ে তৈরি হয় সন্দেহ। আগে মানুষ এই ছবিগুলো নিজের মতো করে যাচাই করার চেষ্টা করত, যেমন অস্বাভাবিক মুখ, অতিরিক্ত হাত-পা বা বিকৃত অংশ খোঁজা। কিন্তু আধুনিক এআই এতটাই উন্নত হয়েছে যে এসব পদ্ধতি অনেক সময় আর কাজ করে না।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে আছে গুগল জেমিনি (Google Gemini)। Google। গুগলের এই ফিচার ব্যবহার করে আপনি সহজেই জানতে পারবেন কোনো ছবি এআই দিয়ে তৈরি কি না।
গুগল তাদের নিজস্ব SynthID প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এ ফিচারে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করা হয়, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। জেমিনি অ্যাপ সেই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করতে পারে এবং জানাতে পারে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না।
সহজভাবে বললে, আপনি কোনো ছবি পেলে সেটি জেমিনিতে আপলোড করবেন। এরপর জিজ্ঞেস করবেন ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি কি না। এরপর জেমিনি ছবিটি বিশ্লেষণ করে আপনাকে উত্তর দিয়ে দেবে।
বর্তমানে এআই দিয়ে তৈরি ছবি এতটাই বাস্তবসম্মত যে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুগলের এই উদ্যোগ ব্যবহারকারীদের সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে সাহায্য করবে এবং অনলাইনে সচেতনতা বাড়াবে।
তবে এই ফিচারের একটি বড় সীমাবদ্ধতা আছে। জেমিনি শুধু সেই ছবিগুলো শনাক্ত করতে পারবে, যেগুলো গুগলের নিজস্ব এআই টুল দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। অন্য কোনো কোম্পানির এআই দিয়ে তৈরি ছবি হলে এটি সবসময় সঠিকভাবে শনাক্ত করতে নাও পারে।
এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই সত্য আর কৃত্রিম জিনিস আলাদা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গুগলের জেমিনির নতুন ফিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে, ব্যবহারকারীদেরও সচেতন থাকা জরুরি। সন্দেহজনক ছবি দেখলে যাচাই করা এবং একাধিক উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
সূত্র : অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ




