টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আর কয়েক ঘণ্টা পরই মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। যেখানে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে ক্রিকেট ভক্তরা তুলনা করছেন বিখ্যাত স্পেস ওপেরা ‘স্টার ওয়ারসের’ ভয়ানক ডেথ স্টারের সঙ্গে; এতটাই বিস্ফোরক তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। তবে সেই শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের মধ্যেই একটি সম্ভাব্য দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে প্রতিপক্ষ: অফস্পিন।
এই বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে বামহাতি ব্যাটারের সংখ্যা বেশি—টপ আটে পাঁচজন। আর অফস্পিনারদের বল সাধারণত বামহাতিদের থেকে দূরে ঘোরে। ক্রিকেটের ভাষায় এটিই পরিচিত ‘ম্যাচ-আপ’ কৌশল হিসেবে, যা নিউজিল্যান্ড ফাইনালে কাজে লাগাতে পারে।
পরিসংখ্যানও কিছুটা সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপে অফস্পিনের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট হারিয়েছে ভারত—মোট ১৫টি। অফস্পিনের বিরুদ্ধে ভারতের ব্যাটারদের গড় মাত্র ১৫.৮৭, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম কম। স্ট্রাইক রেটও তুলনামূলক কম, প্রায় ১২০।
বিশেষ করে ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা অফস্পিনের বিপক্ষে বেশ ভুগেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে তিনি তিন ম্যাচে শূন্য রান করেন, যার দুটিতেই আউট হন অফস্পিনে।
একই অবস্থা দেখা গেছে ইশান কিশান ও তিলক ভর্মার ক্ষেত্রেও। অফস্পিনের বিপক্ষে কিশান পাঁচবার আউট হয়েছেন, আর তিলক ভর্মার স্ট্রাইক রেটও একশর নিচে নেমে গেছে। এমনকি সাধারণত স্পিনের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বিশ্বকাপে অফস্পিনের বিপক্ষে খুব দ্রুত রান তুলতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন অফস্পিনাররা—বিশেষ করে কোল ম্যাককনচি বা অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাককনচি এক ওভারেই দুই বামহাতি ব্যাটারকে আউট করে ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন।
তবে এটাও সত্য, এই পরিসংখ্যান খুব ছোট নমুনার ওপর ভিত্তি করে। ভারতের ব্যাটাররা অন্য বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইতোমধ্যেই ফাইনালে উঠে এসেছে।
তবু ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে কখনো কখনো একটি ছোট কৌশলই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আর নিউজিল্যান্ডের জন্য সেই কৌশল হতে পারে—অফস্পিন।




