ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ ভরাডুবির পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সব আলোচনা-সমালোচনার মাঝেও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের আস্থা হারাননি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে তাকে রেখে দেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে সাত রানে হেরে ইংল্যান্ডের যাত্রা থেমে যায়। এরপর ম্যাককালাম আপাতত নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডে ফিরছেন। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসিবির সঙ্গে তার আরও আলোচনা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারার পর ম্যাককালামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই সফরে মাঠের বাইরে বিতর্ক ও খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়েও সমালোচনা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও দলের মানসিকতায় পরিবর্তনের কারণে বোর্ড মনে করছে, তিনিই এখনো ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সঠিক মানুষ।
ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড আট ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে জিতেছে। এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরেও ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছিল দলটি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার মাধ্যমে দলটির লড়াকু মানসিকতাও স্পষ্ট হয়েছে।
অ্যাশেজের পর ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন ম্যাককালাম। জানা গেছে, অনুশীলনের সময় বাড়ানো, রাত ১২টার কারফিউ চালু করা—এ ধরনের নিয়ম চালুর মাধ্যমে শৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে। দলের ভেতরের পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ম্যাককালামের সঙ্গে ইসিবির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য সেই বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজও রয়েছে। বোর্ডের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের জন্য বর্তমান নেতৃত্বকেই সমর্থন দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর হবে।
ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কির থাকার সম্ভাবনাও বেশি। তিনিই চার বছর আগে টেস্ট দলের কোচ হিসেবে ম্যাককালামকে নিয়োগ দেন এবং ২০২৪ সালে সাদা বলের দলের দায়িত্বও তার হাতে তুলে দেন।
দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রাও ম্যাককালামের পাশে দাঁড়িয়েছেন। টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস, সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট প্রকাশ্যেই তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন এবং তাকে কোচ হিসেবে রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ইসিবির ভেতরে এখন স্পষ্ট ধারণা—শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে ব্রেন্ডন ম্যাককালামই ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।




