মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল শুধু রোমাঞ্চেই ভরা ছিল না, ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে টি–টোয়েন্টি ইতিহাসের নানা রেকর্ডের তালিকায়ও। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে এই ম্যাচে গড়ে উঠেছে একাধিক বিরল পরিসংখ্যান, আর ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল গড়েছেন অনন্য এক কীর্তি।
প্রথমে ব্যাট করে ভারতের ৭ উইকেটে করা ২৫৩ রান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে করা সর্বোচ্চ রান। এর আগে নকআউটে একমাত্র ২০০–এর বেশি রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১২ সালের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে হয়েছে ৪৯৯ রান, যা টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ-সমষ্টিগত স্কোর। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ৫১৭ রান। বিশ্বকাপ ইতিহাসেও এটি অন্যতম বড় রানবন্যা।
ছক্কার হিসাবেও এই ম্যাচ ছিল অবিশ্বাস্য। পুরো ম্যাচে মোট ৩৪টি ছক্কা হয়েছে—ভারতের ১৯টি ও ইংল্যান্ডের ১৫টি। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এটি সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ভারতের ১৯ ছক্কাও বিশ্বকাপের ম্যাচে যৌথ সর্বোচ্চ।
এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ভারতের মোট ছক্কার সংখ্যা ৮৮, যা কোনো টি–টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় একটি দলের সর্বোচ্চ।
ব্যক্তিগত দিক থেকেও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান এসেছে ম্যাচটিতে। ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল মাত্র ১৯ বলে ফিফটি করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে দ্রুততম অর্ধশতকের যৌথ রেকর্ড গড়েছেন। পরে তিনি করেন ৪৮ বলে ১০৫ রান, যা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
আর এই সেঞ্চুরির মাধ্যমেই বেথেল গড়েছেন অনন্য এক ইতিহাস—তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ফার্স্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’, টেস্ট এবং টি–টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছেন প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই, যা আগে কোনো ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
তবে তার শতরান দলকে জেতাতে পারেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে পরাজিত দলের হয়ে সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটি মাত্র তৃতীয়।
বোলিং দিকেও এসেছে কিছু অদ্ভুত পরিসংখ্যান। ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদ টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০–এর বেশি ছক্কা হজম করা প্রথম বোলার হয়েছেন। আর এই ম্যাচে জোফরা আর্চার একাই দিয়েছেন ৭টি ছক্কা, যা বিশ্বকাপ ম্যাচে কোনো বোলারের যৌথ সর্বোচ্চ।
ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে ৬৪ রান, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম ব্যয়বহুল স্পেল।
সব মিলিয়ে এই সেমিফাইনাল শুধু নাটকীয় লড়াই নয়, টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেও জায়গা করে নেওয়ার মতো এক পরিসংখ্যানময় ম্যাচ হয়ে থাকল।




