
মিরপুরের ঘাসে ঢাকা উইকেটে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা সহজ ছিল না বাংলাদেশের। পাকিস্তানের পেসাররা নতুন বলে মুভমেন্ট পেয়েছেন, বাউন্সও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবু প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে ফিরেছে বেশ ভালো অবস্থায়। দুই ওপেনারকে হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের ব্যাটে লাঞ্চে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ১০১ রান।
লাঞ্চের সময় শান্ত অপরাজিত ৩৯ রানে, মুমিনুল ৩১ রানে। দুজনের জুটিটাই প্রথম সেশনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। শুরুতে দুই উইকেট হারানোর পর তারা শুধু ইনিংস মেরামত করেননি, সুযোগ পেলেই রানও তুলেছেন। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৫৬ রান।
দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত ছিল পরিষ্কার। টসে জিতে আগে ফিল্ডিং নেন শান মাসুদ। উইকেটে ঘাস, নতুন বলে সুইং ও সিমের সম্ভাবনা, এসব ভেবেই হয়তো আগে বল করার সিদ্ধান্ত। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস শুরু থেকেই বাংলাদেশ ওপেনারদের পরীক্ষা নিয়েছেন।
বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। শাহিনের লেগ স্টাম্পে থাকা বলে সুন্দর ফ্লিক করেন তিনি। তবে সেই আত্মবিশ্বাস বড় ইনিংসে রূপ নিতে পারেনি। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে শাহিনের আউটসুইংয়ে খোঁচা দিয়ে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ধরা পড়েন জয়। ১৯ বলে ৮ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর সাদমান ইসলামও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। হাসান আলী আক্রমণে এসে প্রথম বলেই তাকে ফিরিয়ে দেন। শর্ট অব লেংথ থেকে সামান্য বাইরে যাওয়া বলে এজ দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন সাদমান। ৩০ বলে ১৩ রান করে ফিরলে বাংলাদেশ পড়ে যায় ৩৬ রানে ২ উইকেটে।
৩৬/২ থেকে বাংলাদেশের ইনিংসের ভার নেন শান্ত ও মুমিনুল। দুজনের ব্যাটিংয়ে ছিল আলাদা ধরনের স্থিরতা। শান্ত শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিলেন। হাসান আলীকে পুল করে চার, শাহিনকে ড্রাইভ করে চার, পরে সালমান আগার ছোট বলে ছক্কা, তার ইনিংসে আক্রমণ ও নিয়ন্ত্রণ দুটিই ছিল।
মুমিনুল শুরুতে সময় নিয়েছেন, তবে সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন তার পরিচিত কভার ড্রাইভে। শাহিনের বলে ২২তম ওভারে যে চারটি মারেন, সেটি ছিল প্রথম সেশনের অন্যতম সুন্দর শট। পাকিস্তানের পেসারদের লাইন সামলে ধীরে ধীরে নিজেকে স্থির করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
প্রথম ঘণ্টায় পাকিস্তানের পেসাররা যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। আব্বাস বারবার অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাটসম্যানদের খোঁচা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছেন। একাধিকবার বল ব্যাটের কানার খুব কাছ দিয়ে গেছে। শাহিনও আউটসুইং ও শর্ট বল মিলিয়ে চাপ তৈরি করেছেন। হাসান আলী প্রথম ওভারেই উইকেট এনে পাকিস্তানকে এগিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে দ্বিতীয় ঘণ্টায় বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালোভাবে ফিরে আসে। শান্ত-মুমিনুল জুটি উইকেট আর পড়তে দেননি। পাকিস্তান পরে সালমান আগা ও নোমান আলীকেও আক্রমণে আনেন; কিন্তু লাঞ্চের আগে আর সাফল্য পায়নি। নোমান আলীর শেষ ওভারের পরই আম্পায়াররা লাঞ্চ ডাকেন।
প্রথম সেশন শেষে স্কোরবোর্ড বলছে, বাংলাদেশ এখনো ম্যাচে আছে। সবুজ উইকেটে টসে হেরে ব্যাটিং, দুই ওপেনারের বিদায়, তবু ১০১/২, এই অবস্থাকে মন্দ বলা যায় না। তবে কাজ এখনো অনেক বাকি। শান্ত ও মুমিনুলের জুটি দ্বিতীয় সেশনে আরও বড় না হলে প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানের যে লক্ষ্য অধিনায়ক আগেই বলেছিলেন, সেটি দূরের পথই থেকে যাবে।




