
এক কাপ কফি অনেকের দিনের শুরুটা সহজ করে দেয়। এর স্বাদ যেমন আরাম দেয়, তেমনি এতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত চাঙা করে এবং মনোযোগ বাড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি কখন খাচ্ছেন এটাই আসল বিষয়।
গবেষণা অনুযায়ী, কফি খাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে এর প্রভাব শুরু হয় এবং ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি কাজ করে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ‘সেরা সময়’ নেই। বরং যখন আপনার বেশি এনার্জি দরকার, সেই সময়ের আগে কফি খাওয়াই বেশি কার্যকর।
অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি খেতে পছন্দ করেন। তবে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে, খুব সকালে কফি খেলে কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। বরং যারা নিয়মিত কফি খান, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না। তাই আপনি যদি প্রতিদিন সকালে কফি খেতে অভ্যস্ত হন, তাহলে তা সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না।
তবে যদি আপনি ভালোভাবে ঘুমিয়ে থাকেন, তাহলে দিনের বেলায় কফি একটু পরে খেলে বেশি উপকার পেতে পারেন। আবার যদি রাতে ঘুম ভালো না হয়, তাহলে সকালে কফি খাওয়া আপনাকে দ্রুত সচল হতে সাহায্য করতে পারে।
ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও কফির সময় গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ মেগান ওর্মসবির মতে, ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে কফি খেলে এটি শরীরে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে। এতে সহনশীলতা বাড়ে এবং পারফরম্যান্স উন্নত হতে পারে।
তবে কফি যতই উপকারী হোক, অতিরিক্ত খেলে সমস্যা হতে পারে। ক্যাফেইন দীর্ঘ সময় শরীরে থাকে, তাই দেরিতে কফি খেলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবার বেশি কফি খেলে উদ্বেগ, অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস বাড়তে পারে। সাধারণভাবে দিনে ২–৩ কাপ কফি (প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন) নিরাপদ ধরা হয়, তবে এটি সবার জন্য এক রকম নাও হতে পারে।
এছাড়া নিয়মিত বেশি কফি খেলে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়, ফলে আগের মতো এনার্জি পাওয়া যায় না। তাই মাঝে মাঝে কফির পরিমাণ কমানো ভালো।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শুধু কফির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভালো ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান; এই অভ্যাসগুলোই সারাদিন এনার্জি ধরে রাখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কফি আপনাকে এনার্জি দিতে পারে, তবে সঠিক সময়ে খেলে এর উপকার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। সাধারণভাবে, যখন আপনার এনার্জি দরকার তার ১৫ থেকে ৬০ মিনিট আগে কফি খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: ইটিং ওয়েল




