ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

কাটা মসলায় গরুর মাংস রেসিপি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১০ মে ২০২৬, ১৩:৪৮
ছবি : এআই

কাটা মসলায় গরুর মাংস বাঙালির খুবই পছন্দের একটি রান্না। এতে মসলা বেটে নয়, কুচি বা কাটা অবস্থায় ব্যবহার করা হয় বলে স্বাদ ও ঘ্রাণ হয় একেবারে আলাদা। গরম ভাত, রুটি বা পরোটার সঙ্গে এই মাংস খেতে দারুণ লাগে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

চলুন সহজ রেসিপি জেনে নিই যেন চটপট আজই বানিয়ে নিতে পারেন বাসায়।

যা যা লাগবে

  • গরুর মাংস ১ কেজি
  • পেঁয়াজ কুঁচি ৪টি বড়
  • আদা কুচি ২ টেবিল চামচ
  • রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ
  • কাঁচা মরিচ ফালি ৬ থেকে ৮টি
  • শুকনা মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
  • হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ
  • ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
  • জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ
  • গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
  • তেজপাতা ২টি
  • দারুচিনি ২ টুকরা
  • এলাচ ৪টি
  • লবঙ্গ ৪টি
  • টমেটো কুঁচি ১টি
  • সরিষার তেল বা সয়াবিন তেল আধা কাপ
  • লবণ স্বাদমতো
  • ধনিয়া পাতা কুঁচি সামান্য

বানাবেন যেভাবে

প্রথমে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর লবণ, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া দিয়ে মেখে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিন।

একটি হাঁড়িতে তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফোড়ন দিন।

এরপর পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এখন আদা কুচি ও রসুন কুচি দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন।

মসলার সুন্দর ঘ্রাণ বের হলে মাংস দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ভালোভাবে কষাতে থাকুন।

এরপর ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, গোলমরিচ গুঁড়া ও টমেটো কুচি দিয়ে আবার কষান।

মাংস থেকে পানি বের হলে ঢেকে দিন এবং অল্প আঁচে রান্না করুন। প্রয়োজনে সামান্য গরম পানি দিতে পারেন।

মাংস নরম হয়ে এলে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভুনা করুন।

তেল উপরে উঠে এলে ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে নামিয়ে ফেলুন।

পরামর্শ: গরম ভাত, রুটি, পরোটা বা নানের সাথে পরিবেশন করুন।

টিপস

কাটা আদা ও রসুন ব্যবহার করলে আলাদা ঘ্রাণ পাওয়া যায়
মাংস ধীরে কষালে স্বাদ অনেক বেশি ভালো হয়
চাইলে শেষে সামান্য ঘি যোগ করতে পারেন

এই সহজ রেসিপি মেনে চললে ঘরেই তৈরি করতে পারবেন মজাদার কাটা মসলার গরুর মাংস।

২ সপ্তাহ টানা গ্রিন টি খেলে শরীরে আসবে যেসব পরিবর্তন
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে গ্রিন টি এখন বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। অনেকেই দিনের শুরু করেন এক কাপ গ্রিন টি দিয়ে। ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীর সতেজ রাখা পর্যন্ত নানা কারণে এটি খাদ্যতালিকায় রাখেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে এটি বিপাকক্রিয়া, মনোযোগ ও লিভারের স্বাস্থ্যে উপকার করতে পারে। হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণ নেওয়া গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. সেথি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান, টানা ১৪ দিন প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করলে শরীরে কিছু সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে ডা. সেথির মতে, গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন ও ইজিসিজি নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তিনি জানান, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে কাজ করে, যা বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাড়তে পারে মেটাবলিজম গ্রিন টি শরীরের ফ্যাট মেটাবলিজম ও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। তার ভাষায়, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া কিছুটা সক্রিয় হতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে পারে অনেকেই কফির বিকল্প হিসেবে গ্রিন টি পান করেন। কারণ এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। এ ছাড়া গ্রিন টিতে রয়েছে এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মনোযোগ বাড়াতে এবং শান্তভাবে শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। ডা. সেথি বলেন, গ্রিন টি মস্তিষ্কে হালকা উদ্দীপনা তৈরি করে। এতে থাকা অল্প ক্যাফেইন ও এল-থিয়ানিন একসঙ্গে কাজ করে মনোযোগ বাড়াতে পারে, তবে কফির মতো অতিরিক্ত অস্থিরতা তৈরি করে না। কতটুকু গ্রিন টি পান করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করাই যথেষ্ট। তবে অতিরিক্ত ঘন বা কনসেন্ট্রেটেড গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। ডা. সেথির সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত ঘন গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট কিছু ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মনে রাখবেন, গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হতে পারে, তবে এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে গ্রিন টি যুক্ত হলে এর উপকার বেশি পাওয়া যেতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
২ সপ্তাহ টানা গ্রিন টি খেলে শরীরে আসবে যেসব পরিবর্তন
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য শুধু ধাঁধা সমাধান বা পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে এবং বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পূর্ণ শস্য, ফল, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা ফাইবার শুধু হজমশক্তিই ভালো রাখে না, এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও সক্রিয় রাখে। আর এই অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার সম্পর্কই এখন গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফাইবার কীভাবে কাজ করে ফাইবার এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। ফলে এটি অন্ত্রে দীর্ঘ সময় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণ পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খান, তাদের ওজন ও পেটের চর্বি তুলনামূলক কম থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক গবেষকরা বলছেন, ফাইবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি ঘটে অন্ত্রে। আমাদের অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া ফাইবার ভেঙে কিছু উপকারী উপাদান তৈরি করে, যেগুলোকে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বলা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিউটিরেট। এই উপাদান অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর উপাদানকে রক্তে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্কও সুরক্ষিত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার যত বেশি খাওয়া হবে, অন্ত্রে তত বেশি বিউটিরেট তৈরি হবে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও তত ভালো থাকতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে ২০২২ সালের এক গবেষণায় ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা বেশি ফাইবার খেতেন তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম ছিল। অন্যদিকে যারা কম ফাইবার খেতেন, তাদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। আরেকটি গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি ছিল, তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। সম্প্রতি যমজদের ওপর করা একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রিবায়োটিক ফাইবার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আলঝেইমারের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি দেখতে পেয়েছেন, আলঝেইমার রোগীদের অন্ত্রে বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কম থাকে। একই সঙ্গে তাদের শরীরে প্রদাহজনিত উপাদানের মাত্রা বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। কীভাবে বাড়াবেন ফাইবার গ্রহণ ফাইবার বাড়ানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন: সাদা চাল বা পাউরুটির বদলে লাল চাল ও আটার রুটি খাওয়া বেশি বেশি ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় খাবার খাওয়া প্রতিদিন ফল ও সবজি রাখা বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার নাস্তা হিসেবে খাওয়া পূর্ণ শস্যের সিরিয়াল বা ওটস দিয়ে দিনের শুরু করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কতটুকু ফাইবার প্রয়োজন গবেষকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু বিশ্বের অনেক মানুষই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ফাইবার খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো গেলে তা শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতাও দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখতে সাহায্য করবে। সূত্র: বিবিসি
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
ঘরেই তৈরি করুন মজাদার আলু পরোটা
গরম গরম পরোটা খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। মাখন বা ঘি মাখানো নরম, স্তরযুক্ত পরোটার সঙ্গে ডাল, দই কিংবা ঝাল আচার হলে যেন জমে যায় পুরো খাবার। সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার, এমনকি বিকেলের নাস্তাতেও পরোটা হতে পারে দারুণ পছন্দ। সাধারণ পরোটার পাশাপাশি আলু পরোটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। মশলাদার আলুর পুর ভরা এই পরোটা ঘরেই খুব সহজে তৈরি করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক সুস্বাদু আলু পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি। আলু পরোটা তৈরি করতে যা যা লাগবে খামিরের জন্য আটা ২ কাপ লবণ ১ চা চামচ তেল বা ঘি ২ টেবিল চামচ হালকা গরম পানি ১ কাপ আলুর পুরের জন্য মাঝারি আলু ৪টি লবণ স্বাদমতো কুচি করা পেঁয়াজ ১টি আদা কুচি ১ ইঞ্চি পরিমাণ ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ কাঁচামরিচ কুচি ১টি জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ পাপরিকা বা মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ সামান্য কায়েন মরিচ বা শুকনা মরিচ গুঁড়া ঘি বা তেল প্রয়োজনমতো (ভাজার জন্য) যেভাবে তৈরি করবেন খামির তৈরি একটি বড় বাটিতে আটা ও লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর তেল বা ঘি দিয়ে হাতে মিশিয়ে ঝুরঝুরে করুন। ধীরে ধীরে গরম পানি দিয়ে নরম খামির তৈরি করুন। ৫ থেকে ১০ মিনিট ভালোভাবে মথে নিন যাতে খামির মসৃণ হয়। এরপর ঢেকে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। আলুর পুর তৈরি আলু সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর হালকা করে চটকে নিন যাতে সামান্য দানাদার ভাব থাকে। এর সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ ও সব মসলা মিশিয়ে নিন। স্বাদমতো লবণ দিন। পরোটা তৈরি খামির থেকে সমান আকারের বল তৈরি করুন। একটি বল বেলে মাঝখানে আলুর পুর দিন। এরপর চারপাশ মুড়ে মুখ বন্ধ করে আবার হালকা হাতে বেলে গোল পরোটার আকার দিন। ভাজা গরম তাওয়ায় পরোটা দিন। এক পাশ হালকা সোনালি হলে ঘি বা তেল মাখিয়ে উল্টে দিন। দুই পাশ ভালোভাবে সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। সব পরোটা একইভাবে তৈরি করুন। পরিবেশন: গরম গরম আলু পরোটা দই, আচার কিংবা ডালের সঙ্গে পরিবেশন করুন। চাইলে উপরে একটু মাখনও দিতে পারেন। কিছু দরকারি টিপস খামির বেশি শক্ত করবেন না, তাহলে পরোটা নরম হবে না। পুর খুব বেশি ভরলে বেলার সময় ফেটে যেতে পারে। ধীরে ধীরে বেলুন, এতে পুর সমানভাবে ছড়িয়ে যাবে। ফ্রিজে রেখে পরে গরম করেও খেতে পারবেন। ঘরে সহজ উপকরণেই তৈরি এই আলু পরোটা পরিবারের সকালের নাশতা বা ছুটির দিনের বিশেষ খাবার হিসেবে হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।
ঘরেই তৈরি করুন মজাদার আলু পরোটা
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংসের রেসিপি
মেজবানি গরুর মাংস চট্টগ্রামের খুবই জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ মসলা আর ধীরে ধীরে রান্নার কারণে এই মাংসের স্বাদ হয় আলাদা ও গভীর। সাধারণত বড় আয়োজন, দাওয়াত বা উৎসবে এই খাবার রান্না করা হয়। গরম ভাতের সাথে ঝাল ঝাল মেজবানি মাংস খেতে সত্যিই অসাধারণ লাগে। যা যা লাগবে  গরুর মাংস ২ কেজি হাড়সহ মাংস হলে স্বাদ বেশি ভালো হয় পেঁয়াজ কুঁচি ৫ থেকে ৬টি বড় আদা বাটা ২ টেবিল চামচ রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ শুকনা মরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া ২ টেবিল চামচ জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ তেজপাতা ২টি দারুচিনি ৩ টুকরা এলাচ ৫টি লবঙ্গ ৫ থেকে ৬টি জয়ফল জয়ত্রী গুঁড়া সামান্য সরিষার তেল বা সয়াবিন তেল ১ কাপ লবণ স্বাদমতো কাঁচা মরিচ ৮ থেকে ১০টি যেভাবে বানাবেন প্রথমে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর আদা বাটা, রসুন বাটা, লবণ, মরিচ গুঁড়া, হলুদ, ধনিয়া ও জিরা গুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে মেখে অন্তত ১ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। একটি বড় হাঁড়িতে তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে ধীরে ধীরে বাদামি করে ভেজে নিন। এখন মেরিনেট করা মাংস হাঁড়িতে দিয়ে মাঝারি আঁচে দীর্ঘ সময় ধরে কষাতে থাকুন। মাংস থেকে পানি বের হবে, সেই পানিতেই রান্না করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যাতে নিচে লেগে না যায়। প্রয়োজন হলে অল্প গরম পানি দিতে পারেন। মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হলে গোলমরিচ গুঁড়া, জয়ফল জয়ত্রী গুঁড়া ও কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। ধীরে ধীরে মাংস নরম হয়ে এলে এবং তেল উপরে উঠে এলে গরম মসলা গুঁড়া ছড়িয়ে দিন। আরও ১০ মিনিট অল্প আঁচে দমে রেখে নামিয়ে ফেলুন। গরম সাদা ভাতের সাথে মেজবানি গরুর মাংস পরিবেশন করলে সবচেয়ে ভালো লাগে। সাথে সালাদ বা লেবু রাখতে পারেন। টিপস মেজবানি মাংসের আসল স্বাদ আসে ঝাল ও মসলার ভারসাম্য থেকে ধীরে আঁচে রান্না করলে মাংস নরম ও সুস্বাদু হয় হাড়সহ মাংস ব্যবহার করলে ঝোলের স্বাদ আরও বেড়ে যায় এই সহজ রেসিপি মেনে চললে ঘরেই তৈরি করতে পারবেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত মেজবানি গরুর মাংস।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংসের রেসিপি
ঘরেই তৈরি করুন পিংক টি
দৈনন্দিন এক কাপ গরম চা যেন অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়। আর এ চায়ের বিভিন্ন ধরনের মধ্যেই বেশ পরিচিত একটি চা হলো ‘পিংক টি’ বা কাশ্মিরি চা। হালকা গোলাপি রঙ, দারুচিনি ও এলাচের সুগন্ধ আর উপরে বাদাম-পেস্তার ছিটা এই চাকে করে তোলে বিশেষ।  ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় জনপ্রিয় এই পানীয়। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, বাসায় বানাতে গেলে চায়ের আসল গোলাপি রঙ আসে না। আসলে কিছু ছোট কৌশল জানা থাকলে খুব সহজেই সুন্দর পিংক রঙ আনা সম্ভব। কাশ্মিরে এই চা সাধারণত লবণ দিয়ে তৈরি করা হয়, যাকে বলা হয় লবণ চা। তবে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেকে এতে চিনি যোগ করে খান। ঠান্ডা অঞ্চলে এতে ক্রিম, মাখন ও বেশি পরিমাণ শুকনা ফলও ব্যবহার করা হয়। তবে আবহাওয়া ও পছন্দ অনুযায়ী উপকরণ কমবেশি করা যায়। চায়ের রঙ কেন গোলাপি হয়? কাশ্মিরি চায়ের পাতায় থাকা ক্লোরোফিল দীর্ঘ সময় ফুটানোর ফলে বিশেষ রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গাঢ় লালচে রঙ তৈরি করে। পরে বরফ ঠান্ডা পানি যোগ করলে সেই রঙ আরও গাঢ় হয় এবং দুধ মেশানোর পর গোলাপি রঙ ফুটে ওঠে। এ জন্য সামান্য বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়। তবে খুব বেশি দিলে স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাশ্মিরি চা তৈরি করতে যা যা লাগবে পানি ২ কাপ কাশ্মিরি চা পাতা ৩ টেবিল চামচ ছোট এলাচ ৯টি, হালকা ভাঙা দারুচিনি ৩ ইঞ্চি লবণ ১/৪ থেকে ১/২ চা চামচ বেকিং সোডা ১/৪ চা চামচ বরফ ঠান্ডা পানি ১ কাপ দুধ ২ থেকে ৩ কাপ চিনি ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ, ইচ্ছেমতো পেস্তা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ বাদাম গুঁড়া ১ টেবিল চামচ ক্রিম আধা কাপ, ইচ্ছেমতো চাইলে অতিরিক্ত সুগন্ধের জন্য ব্যবহার করতে পারেন লবঙ্গ ৪টি স্টার অ্যানিস ১টি জুঁই ফুল ৪টি যেভাবে তৈরি করবেন প্রথমে একটি প্রশস্ত পাত্রে পানি নিন। এতে কাশ্মিরি চা পাতা, এলাচ, দারুচিনি ও লবণ দিন। মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন। এক মিনিট ফুটে উঠলে এতে সামান্য বেকিং সোডা যোগ করুন। এরপর চা ধীরে ধীরে ফুটতে দিন। কিছুক্ষণ পর পানির রঙ বদলাতে শুরু করবে। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট ফুটানোর পর পানি অর্ধেক হয়ে এলে গাঢ় লালচে রঙ দেখা যাবে। এবার ফুটন্ত চায়ের মধ্যে বরফ ঠান্ডা পানি ঢেলে এক মিনিট ভালোভাবে নেড়ে নিন। এতে রঙ আরও গাঢ় হবে। এই পর্যায়ে তৈরি হবে কাশ্মিরি কাহওয়া। চাইলে এটি ছেঁকে ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণও করা যায়। চা পরিবেশনের সময় একটি পাত্রে প্রয়োজনমতো কাহওয়া নিয়ে তাতে দুধ মেশান। আপনার পছন্দ অনুযায়ী দুধ কম বা বেশি দিতে পারেন। মিষ্টি খেতে চাইলে চিনি যোগ করুন। এরপর আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। সবশেষে কাপেতে ঢেলে উপরে বাদাম ও পেস্তা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস গোলাপি রঙ আনতে ধৈর্য দরকার। অনেক সময় ৩০ মিনিটে রঙ আসে, আবার ৪৫ মিনিটও লাগতে পারে। পানি শুকিয়ে গেলেও যদি গাঢ় লাল রঙ না আসে, তাহলে আরও একটু পানি যোগ করে ফুটান। খুব বেশি বেকিং সোডা দেবেন না। এতে চায়ের স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে। কাশ্মিরি চা পাতা না পেলে ভালো মানের গ্রিন টি দিয়েও তৈরি করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। একটি ভালো খবর হলো, এই চায়ে ক্যাফেইন তুলনামূলক কম থাকায় রাতে খেলেও সাধারণ চায়ের মতো ঘুমের সমস্যা কম হয়।
ঘরেই তৈরি করুন পিংক টি
২ সপ্তাহ টানা গ্রিন টি খেলে শরীরে আসবে যেসব পরিবর্তন
২ সপ্তাহ টানা গ্রিন টি খেলে শরীরে আসবে যেসব পরিবর্তন
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে গ্রিন টি এখন বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। অনেকেই দিনের শুরু করেন এক কাপ গ্রিন টি দিয়ে। ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীর সতেজ রাখা পর্যন্ত নানা কারণে এটি খাদ্যতালিকায় রাখেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে এটি বিপাকক্রিয়া, মনোযোগ ও লিভারের স্বাস্থ্যে উপকার করতে পারে। হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণ নেওয়া গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. সেথি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান, টানা ১৪ দিন প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করলে শরীরে কিছু সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে ডা. সেথির মতে, গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন ও ইজিসিজি নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তিনি জানান, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে কাজ করে, যা বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাড়তে পারে মেটাবলিজম গ্রিন টি শরীরের ফ্যাট মেটাবলিজম ও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। তার ভাষায়, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া কিছুটা সক্রিয় হতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে পারে অনেকেই কফির বিকল্প হিসেবে গ্রিন টি পান করেন। কারণ এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। এ ছাড়া গ্রিন টিতে রয়েছে এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা মনোযোগ বাড়াতে এবং শান্তভাবে শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। ডা. সেথি বলেন, গ্রিন টি মস্তিষ্কে হালকা উদ্দীপনা তৈরি করে। এতে থাকা অল্প ক্যাফেইন ও এল-থিয়ানিন একসঙ্গে কাজ করে মনোযোগ বাড়াতে পারে, তবে কফির মতো অতিরিক্ত অস্থিরতা তৈরি করে না। কতটুকু গ্রিন টি পান করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করাই যথেষ্ট। তবে অতিরিক্ত ঘন বা কনসেন্ট্রেটেড গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। ডা. সেথির সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত ঘন গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট কিছু ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মনে রাখবেন, গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হতে পারে, তবে এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে গ্রিন টি যুক্ত হলে এর উপকার বেশি পাওয়া যেতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যে খাবার উপকারী
সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য শুধু ধাঁধা সমাধান বা পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে এবং বয়সজনিত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পূর্ণ শস্য, ফল, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে থাকা ফাইবার শুধু হজমশক্তিই ভালো রাখে না, এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও সক্রিয় রাখে। আর এই অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার সম্পর্কই এখন গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফাইবার কীভাবে কাজ করে ফাইবার এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীর সহজে হজম করতে পারে না। ফলে এটি অন্ত্রে দীর্ঘ সময় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণ পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খান, তাদের ওজন ও পেটের চর্বি তুলনামূলক কম থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। অন্ত্র ও মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক গবেষকরা বলছেন, ফাইবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি ঘটে অন্ত্রে। আমাদের অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া ফাইবার ভেঙে কিছু উপকারী উপাদান তৈরি করে, যেগুলোকে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বলা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিউটিরেট। এই উপাদান অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর উপাদানকে রক্তে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে মস্তিষ্কও সুরক্ষিত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার যত বেশি খাওয়া হবে, অন্ত্রে তত বেশি বিউটিরেট তৈরি হবে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও তত ভালো থাকতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে ২০২২ সালের এক গবেষণায় ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা বেশি ফাইবার খেতেন তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কম ছিল। অন্যদিকে যারা কম ফাইবার খেতেন, তাদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। আরেকটি গবেষণায় ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়, যাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি ছিল, তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। সম্প্রতি যমজদের ওপর করা একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রিবায়োটিক ফাইবার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আলঝেইমারের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি দেখতে পেয়েছেন, আলঝেইমার রোগীদের অন্ত্রে বিউটিরেট উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কম থাকে। একই সঙ্গে তাদের শরীরে প্রদাহজনিত উপাদানের মাত্রা বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। কীভাবে বাড়াবেন ফাইবার গ্রহণ ফাইবার বাড়ানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন: সাদা চাল বা পাউরুটির বদলে লাল চাল ও আটার রুটি খাওয়া বেশি বেশি ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় খাবার খাওয়া প্রতিদিন ফল ও সবজি রাখা বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার নাস্তা হিসেবে খাওয়া পূর্ণ শস্যের সিরিয়াল বা ওটস দিয়ে দিনের শুরু করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কতটুকু ফাইবার প্রয়োজন গবেষকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু বিশ্বের অনেক মানুষই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ফাইবার খাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো গেলে তা শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতাও দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখতে সাহায্য করবে। সূত্র: বিবিসি
ঘরেই তৈরি করুন মজাদার আলু পরোটা
ঘরেই তৈরি করুন মজাদার আলু পরোটা
গরম গরম পরোটা খেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। মাখন বা ঘি মাখানো নরম, স্তরযুক্ত পরোটার সঙ্গে ডাল, দই কিংবা ঝাল আচার হলে যেন জমে যায় পুরো খাবার। সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার, এমনকি বিকেলের নাস্তাতেও পরোটা হতে পারে দারুণ পছন্দ। সাধারণ পরোটার পাশাপাশি আলু পরোটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। মশলাদার আলুর পুর ভরা এই পরোটা ঘরেই খুব সহজে তৈরি করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক সুস্বাদু আলু পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি। আলু পরোটা তৈরি করতে যা যা লাগবে খামিরের জন্য আটা ২ কাপ লবণ ১ চা চামচ তেল বা ঘি ২ টেবিল চামচ হালকা গরম পানি ১ কাপ আলুর পুরের জন্য মাঝারি আলু ৪টি লবণ স্বাদমতো কুচি করা পেঁয়াজ ১টি আদা কুচি ১ ইঞ্চি পরিমাণ ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ কাঁচামরিচ কুচি ১টি জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ পাপরিকা বা মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ সামান্য কায়েন মরিচ বা শুকনা মরিচ গুঁড়া ঘি বা তেল প্রয়োজনমতো (ভাজার জন্য) যেভাবে তৈরি করবেন খামির তৈরি একটি বড় বাটিতে আটা ও লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর তেল বা ঘি দিয়ে হাতে মিশিয়ে ঝুরঝুরে করুন। ধীরে ধীরে গরম পানি দিয়ে নরম খামির তৈরি করুন। ৫ থেকে ১০ মিনিট ভালোভাবে মথে নিন যাতে খামির মসৃণ হয়। এরপর ঢেকে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। আলুর পুর তৈরি আলু সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর হালকা করে চটকে নিন যাতে সামান্য দানাদার ভাব থাকে। এর সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ ও সব মসলা মিশিয়ে নিন। স্বাদমতো লবণ দিন। পরোটা তৈরি খামির থেকে সমান আকারের বল তৈরি করুন। একটি বল বেলে মাঝখানে আলুর পুর দিন। এরপর চারপাশ মুড়ে মুখ বন্ধ করে আবার হালকা হাতে বেলে গোল পরোটার আকার দিন। ভাজা গরম তাওয়ায় পরোটা দিন। এক পাশ হালকা সোনালি হলে ঘি বা তেল মাখিয়ে উল্টে দিন। দুই পাশ ভালোভাবে সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। সব পরোটা একইভাবে তৈরি করুন। পরিবেশন: গরম গরম আলু পরোটা দই, আচার কিংবা ডালের সঙ্গে পরিবেশন করুন। চাইলে উপরে একটু মাখনও দিতে পারেন। কিছু দরকারি টিপস খামির বেশি শক্ত করবেন না, তাহলে পরোটা নরম হবে না। পুর খুব বেশি ভরলে বেলার সময় ফেটে যেতে পারে। ধীরে ধীরে বেলুন, এতে পুর সমানভাবে ছড়িয়ে যাবে। ফ্রিজে রেখে পরে গরম করেও খেতে পারবেন। ঘরে সহজ উপকরণেই তৈরি এই আলু পরোটা পরিবারের সকালের নাশতা বা ছুটির দিনের বিশেষ খাবার হিসেবে হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংসের রেসিপি
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংসের রেসিপি
মেজবানি গরুর মাংস চট্টগ্রামের খুবই জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ মসলা আর ধীরে ধীরে রান্নার কারণে এই মাংসের স্বাদ হয় আলাদা ও গভীর। সাধারণত বড় আয়োজন, দাওয়াত বা উৎসবে এই খাবার রান্না করা হয়। গরম ভাতের সাথে ঝাল ঝাল মেজবানি মাংস খেতে সত্যিই অসাধারণ লাগে। যা যা লাগবে  গরুর মাংস ২ কেজি হাড়সহ মাংস হলে স্বাদ বেশি ভালো হয় পেঁয়াজ কুঁচি ৫ থেকে ৬টি বড় আদা বাটা ২ টেবিল চামচ রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ শুকনা মরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া ২ টেবিল চামচ জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ তেজপাতা ২টি দারুচিনি ৩ টুকরা এলাচ ৫টি লবঙ্গ ৫ থেকে ৬টি জয়ফল জয়ত্রী গুঁড়া সামান্য সরিষার তেল বা সয়াবিন তেল ১ কাপ লবণ স্বাদমতো কাঁচা মরিচ ৮ থেকে ১০টি যেভাবে বানাবেন প্রথমে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর আদা বাটা, রসুন বাটা, লবণ, মরিচ গুঁড়া, হলুদ, ধনিয়া ও জিরা গুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে মেখে অন্তত ১ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। একটি বড় হাঁড়িতে তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে ধীরে ধীরে বাদামি করে ভেজে নিন। এখন মেরিনেট করা মাংস হাঁড়িতে দিয়ে মাঝারি আঁচে দীর্ঘ সময় ধরে কষাতে থাকুন। মাংস থেকে পানি বের হবে, সেই পানিতেই রান্না করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যাতে নিচে লেগে না যায়। প্রয়োজন হলে অল্প গরম পানি দিতে পারেন। মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হলে গোলমরিচ গুঁড়া, জয়ফল জয়ত্রী গুঁড়া ও কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। ধীরে ধীরে মাংস নরম হয়ে এলে এবং তেল উপরে উঠে এলে গরম মসলা গুঁড়া ছড়িয়ে দিন। আরও ১০ মিনিট অল্প আঁচে দমে রেখে নামিয়ে ফেলুন। গরম সাদা ভাতের সাথে মেজবানি গরুর মাংস পরিবেশন করলে সবচেয়ে ভালো লাগে। সাথে সালাদ বা লেবু রাখতে পারেন। টিপস মেজবানি মাংসের আসল স্বাদ আসে ঝাল ও মসলার ভারসাম্য থেকে ধীরে আঁচে রান্না করলে মাংস নরম ও সুস্বাদু হয় হাড়সহ মাংস ব্যবহার করলে ঝোলের স্বাদ আরও বেড়ে যায় এই সহজ রেসিপি মেনে চললে ঘরেই তৈরি করতে পারবেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত মেজবানি গরুর মাংস।