ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

চোখ রাঙাচ্ছে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ‘স্নেইল ফিভার’

এপি নিউজ

  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫০
ছবি: সংগৃহীত

নীরবেই এটি ডিম পাড়ে, আর এসব ডিম জমা হয় মানবদেহের লিভার, ফুসফুস ও যৌনাঙ্গে। এই পরজীবীর সংক্রমণ ‘স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত। স্নেইল বা শামুক এই পরজীবী বহন করার কারণেই এই নামকরণ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে মানুষের শরীরে এই পরজীবীর উপস্থিতি থাকলেও তা ধরা না-ও পড়তে পারে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো এই পরজীবী সংক্রমিত রোগ ক্রমেই বদলাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মনোযোগ উপেক্ষিত এই পরজীবীর সংক্রমণ এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রতি বছর এই রোগের জন্য চিকিৎসা নেন বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ। যাদের বেশিরভাগই আফ্রিকা মহাদেশে বসবাস করেন। কারণ, যেসব শামুক এই পরজীবী বহন করে, সেগুলো মূলত আফ্রিকাতেই পাওয়া যায়।

তবে বিশ্বজুড়ে ৭৮টি দেশে এই রোগের সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চীন, ভেনেজুয়েলা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এমন সব পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।

এই দিবসের লক্ষ্য হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত এমন রোগগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া, যেগুলো মূলত দরিদ্র অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে।

স্নেইল ফিভার কী?

আগেই জানিয়েছি এই পরজীবী বহন করে বিশেষ ধরনের শামুক। এই শামুক যে পানিতে থাকে সেখানে এই পরজীবীর লার্ভা বা শিশু পরজীবী পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন কোনো মানুষ বা প্রাণী যদি কোনোভাবে সেই পানির সংস্পর্শে আসে বা গোসল করতে নামে তখন তার স্নেইল ফিভার হতে পারে। এই লার্ভাগুলোয় চামড়া গলিয়ে ফেলার মতো এনজাইম ছাড়ে এবং ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে।

ধীরে ধীরে এগুলো মানুষের শরীরের ভেতরে বড় হয়ে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। এই ডিমগুলোর কিছু কিছু মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অনেক ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে যায়। ডিমগুলো আটকে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।

কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস। এই রোগে পেটব্যথা থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্নেইল ফিভার সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে সেরে যায়। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের, যেমন ছোট শিশু, কৃষিশ্রমিক ও জেলেদের গত কয়েক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছেন যেন তারা প্রতি বছর এই ওষুধ খান।

তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরজীবীর নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে যেগুলো বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ধরা নাও পড়তে পারে।

সংকট আরও গভীর

প্রশ্ন হলো, একই জায়গায় বারবার এই রোগ ছড়াচ্ছে কেন? গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে থাকা পরজীবী আর প্রাণীর শরীরে থাকা পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন ‘হাইব্রিড’ (মিশ্র) ধরন তৈরি করছে। এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষ ও প্রাণী দুজনকেই আক্রান্ত করতে পারে। ফলে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে মানুষ ও প্রাণীর শরীরের পরজীবীগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রজনন করছে। কিন্তু তারা নিশ্চিত ছিলেন না, এই হাইব্রিড ডিমগুলো শরীরের বাইরে টিকে থাকতে ও বেঁচে থাকতে পারছে কি না। এটা প্রমাণ করতে গবেষকরা মালাউইর কিছু নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ ও প্রাণীর কাছ থেকে নমুনা নেন।

তারা দেখেন, এসব পরজীবীর সাত শতাংশই ছিল পরিবর্তিত হাইব্রিড, যা তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। এর মানে, এই নতুন পরজীবীগুলো সফলভাবে বংশবিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতে আরও ছড়িয়ে পড়বে।

অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘প্রকৃতিতে যদি এভাবে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে’। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেহেতু গবেষণা শুধু কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় করা হয়েছে, তাই এটা হয়তো ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র’, আসল সমস্যা আরও বড় হতে পারে। বিশেষ করে, অনেক সময় পরীক্ষায় এই সংক্রমণ ধরাই পড়ছে না।

ভবিষ্যতে এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো পুরোনো পরজীবীদেরও হারিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন তিনি। এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিত নন, এই হাইব্রিড পরজীবী বহন করা রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে।

অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের একটা বার্তা, সচেতন হউন। বড় সমস্যা হওয়ার আগেই কি আমরা দ্রুত কিছু করতে পারি না?’

পরীক্ষায় যৌনাঙ্গে হওয়া সংক্রমণ ধরা পড়ছে না

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে হাইব্রিড স্নেইল ফিভার শনাক্ত করা কঠিন। কারণ, এদের ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর ডিমের মতো দেখায় না। এ ছাড়া অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা এর উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করতে পারেন।

চিকিৎসা না হলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস থেকে যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যাত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের শারীরিক, সামাজিক ও সন্তান ধারণসংক্রান্ত প্রভাব আরও বেশি গুরুতর বলে মনে করা হয়।

অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘ভাবুন তো, যদি কোনো নারী সন্তান ধারণ করতে না পারেন… আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে মানুষ ওই নারীকে নানা নামে ডাকতে শুরু করে। এটা সত্যিই খুব খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ।’

চাপের মুখে অগ্রগতি

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো নতুন নতুন অঞ্চলে স্নেইল ফিভার ছড়িয়ে দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভ্রমণ এবং মানুষের অভিবাসনের কারণে স্নেইল ফিভার ছড়াতে পারে। আর হাইব্রিড পরজীবী থাকলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে দক্ষিণ ইউরোপের কিছু এলাকায় এমন হাইব্রিড সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা. আমাদু গারবা জিরমে বলেন, ‘এটা একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ’। সংস্থাটির আশঙ্কা করছে, এর ফলে রোগ নির্মূলের লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিছু দেশে মানুষের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ নেই, কিন্তু প্রাণীদের শরীরে পরজীবীটি রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সেটাই মানুষের জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।’ এই নতুন হুমকি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের কৌশল বদলাচ্ছে।

চলতি বছর সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে। বড় পরিসরে অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির কারণে ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্নেইল ফিভারের সংক্রমণ ৬০ শতাংশ কমেছে। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে দরকার নিয়মিত অর্থায়ন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উপেক্ষিত ট্রপিক্যাল রোগ খাতে সহায়তা ৪১ শতাংশ কমে গেছে, যা বড় হুমকি।

তবু অধ্যাপক মুসায়া আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা রোগটি নির্মূল করতে পারি। তবে এটা একা কারও কাজ নয়। আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমরা বলছি, সমস্যাটা আছে, এখনই এটাকে সামলাতে হবে।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ম্যালেরিয়ার কারণ, লক্ষণ ও ঝুঁকি
ম্যালেরিয়া মূলত একটি সংক্রামক রোগ। সাধারণত এটি প্লাজমোডিয়াম নামের একধরনের পরজীবীর কারণে হয়ে থাকে। এই পরজীবী মানুষের শরীরে ছড়ায় মশার কামড়ের মাধ্যমে, বিশেষ করে অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে। আক্রান্ত হলে সাধারণত উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে, যেমন সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় ম্যালেরিয়া এখনও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব কম না। লক্ষণ ম্যালেরিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো জ্বর ও কাঁপুনি মাথাব্যথা বমি বমি ভাব ও বমি ডায়রিয়া পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা অতিরিক্ত ক্লান্তি দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন অনেক ক্ষেত্রে রোগটি চক্রাকারে দেখা দেয়। প্রথমে ঠান্ডা লাগা, তারপর জ্বর, এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যাওয়া। যদি আপনি ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় থাকেন বা ভ্রমণ করে এসে জ্বর অনুভব করেন, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। কীভাবে সংক্রমণ ঘটে ম্যালেরিয়ার জীবাণু রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়ায়। সংক্রমণের ধাপগুলো সাধারণত-  সংক্রমিত মশা কামড় দেয় → পরজীবী রক্তে প্রবেশ করে → লিভারে গিয়ে বৃদ্ধি পায় → পরে রক্তের লোহিত কণিকায় আক্রমণ করে → তখন লক্ষণ দেখা দেয় এ ছাড়া খুব বিরল ক্ষেত্রে এটি অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে ছড়াতে পারে। সংক্রমিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে বা একই সুচ ব্যবহার করলেও এটি ছড়াতে পারে। ঝুঁকি শিশু ও বয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যারা আগে কখনো ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়নি কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেছে তারা মূলত বেশি ঝুঁকিতে থাকে।  খেয়াল রাখবেন, ম্যালেরিয়া সময়মতো চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে প্রভাব (সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া), শ্বাসকষ্ট, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, রক্তশূন্যতা ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য হলেও অবহেলা করলে এটি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সচেতনতা, সঠিক প্রতিরোধ এবং দ্রুত চিকিৎসাই এই রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র : মায়ো ক্লিনিক
ম্যালেরিয়ার কারণ, লক্ষণ ও ঝুঁকি
মৌসুমি অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে কি বেশি কষ্টকর, জানাচ্ছে গবেষণা
অনেকেরই মনে হতে পারে, অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে একটু বেশি কষ্টকর। তবে এটি শুধু ধারণা নয়, গবেষণায়ও এখন এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ছে। এর একটি বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, যা অ্যালার্জির মৌসুমকে দীর্ঘ করছে। তবে এর পাশাপাশি নারী-পুরুষের মধ্যে এর প্রভাবের পার্থক্যেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। নারী না পুরুষ? কাদের অ্যালার্জি বেশি হয় শিশুকালে দেখা যায়, ছেলেদের মধ্যে অ্যালার্জি ও হাঁপানির হার কিছুটা বেশি। কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর এই চিত্র বদলে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নারীদের অ্যালার্জির হার বেশি। একইভাবে হাঁপানিও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় হরমোনের প্রভাব। হরমোনের প্রভাব  নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এই হরমোন শরীরের ‘মাস্ট সেল’ নামে পরিচিত কোষকে সক্রিয় করে। এই কোষগুলো হিস্টামিন নামের একটি রাসায়নিক তৈরি করে, যা অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণ যেমন চুলকানি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার জন্য দায়ী। ফলে নারীদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত ও বেশি তীব্র হতে পারে। নারীদের অ্যালার্জি কি বেশি গুরুতর গবেষণা বলছে, নারীদের ক্ষেত্রে শুধু অ্যালার্জির হারই বেশি নয়, এর তীব্রতাও বেশি হতে পারে। নারীদের মধ্যে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, হাঁপানির জটিলতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অনেক সময় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের উপসর্গ যথাযথ গুরুত্ব পায় না বা অন্য কারণে ব্যাখ্যা করা হয়, যা চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটাতে পারে। মাসিক চক্রের প্রভাব সাধারণত নারীদের হরমোন মাসিক চক্রের সময় ওঠানামা করে, যা অ্যালার্জির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে এক থেকে দুই সপ্তাহে অনেক নারী অ্যালার্জি বা হাঁপানির উপসর্গ বেশি অনুভব করেন। এছাড়া খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রতিও সংবেদনশীলতা থাকতে পারে, যা ত্বকে ফুসকুড়ি বা গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে: আগেভাগে ওষুধ শুরু করা: অ্যালার্জির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ওষুধ ব্যবহার শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। উপসর্গের সময় নোট রাখা: মাসিক চক্রের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে তা লিখে রাখা এবং চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালার্জি পরীক্ষা করা: কোন জিনিসে অ্যালার্জি হয় তা জানা থাকলে তা এড়িয়ে চলা সহজ হয় এবং চিকিৎসাও নির্দিষ্টভাবে করা যায়। অ্যালার্জি শট বিবেচনা করা: দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি শট কার্যকর হতে পারে। নিজের উপসর্গ গুরুত্ব দেওয়া: অ্যালার্জি যদি ঘুম, কাজ বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নারীদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বেশি এবং অনেক সময় বেশি তীব্র হতে পারে, যার পেছনে হরমোন বড় ভূমিকা রাখে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা, সচেতনতা এবং নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
মৌসুমি অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে কি বেশি কষ্টকর, জানাচ্ছে গবেষণা
কেন এখন আর ৮ ঘণ্টা ঘুমও যথেষ্ট মনে হয় না
একসময় দিনের শেষে ঘুম মানেই ছিল পুরো শরীরের বিশ্রাম। কাজ শেষ, আলো নিভে গেছে, আর তারপর গভীর একটা ঘুম। কিন্তু এখন! অনেকের জন্য বাস্তবতা ভিন্ন। রাত আসে, শরীর বিছানায় যায়, কিন্তু ঘুম আসে হালকাভাবে বা আসে না বললেই চলে। সকালে উঠেও আগের দিনের সেই ক্লান্তি থেকেই যায়। গবেষকরা বলছেন, সমস্যাটা শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন তা নয়, বরং কেমন ঘুম হচ্ছে সেটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই হয়তো নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিছানায় কাটাচ্ছেন, কিন্তু শরীর সেই সময়টুকুতে পুরোপুরি নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারছে না। বিশেষ করে গভীর ঘুম বা স্লো-ওয়েভ স্লিপ কমে যাচ্ছে, যা শরীরের কোষ মেরামত এবং শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই নিজের অভ্যাসের সমস্যা বলে মনে করেন। যেমন বেশি মোবাইল ব্যবহার বা ঠিকমতো বিশ্রাম না নেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল। দিনের কাজ শেষ হলেও আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় সেটি বুঝতে পারে না। শরীর তখনো সতর্ক অবস্থায় থাকে, যেন কোনো কাজ বাকি আছে। ঘুমের জন্য শরীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দরকার। যেমন কর্টিসল হরমোন কমে আসা, স্নায়ুতন্ত্রের শান্ত হওয়া এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি রাতের মোডে চলে যাওয়া। কিন্তু আধুনিক জীবনের চাপ, বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার, এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন কাজ আমাদের মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ সক্রিয় রাখে। আমরা হয়তো ফোন বন্ধ করেছি, কিন্তু মস্তিষ্ক তখনো সেই উত্তেজনা বা প্রত্যাশার মধ্যে থাকে। ফলে শরীর বিশ্রামে গেলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি শান্ত হতে পারে না। গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়। এমনকি তারা নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর চেষ্টা করলেও মানসিক চাপ ও অস্থিরতা ঘুমকে প্রভাবিত করে। এছাড়া আধুনিক জীবনের আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনিয়মিত সময়সূচি। অনেকেই সপ্তাহের দিন ও ছুটির দিনে আলাদা সময়ে ঘুমান এবং জাগেন। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিঘ্নিত হয়। ফলে ঠিক সময়েও ঘুমাতে গেলেও শরীর প্রস্তুত থাকে না। ঘুমের মান নির্ভর করে শুধু সময়ের ওপর নয়, বরং সময়ের সঠিকতা এবং ধারাবাহিকতার ওপরও। ভুল সময়ে ঘুমালে সেটি হালকা হয় এবং শরীর ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলো। রাতে কৃত্রিম আলো, বিশেষ করে স্ক্রিনের আলো, শুধু ঘুমের সময় পিছিয়ে দেয় না, বরং মস্তিষ্ককে সতর্ক রাখে। এতে কর্টিসল কমতে দেরি হয় এবং ঘুমের গভীরতা কমে যায়। এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, কেউ ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে সতেজ বোধ করেন না। কারণ তার ঘুমের গভীরতা এবং গুণগতমান ঠিক ছিল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা থেকে বের হতে হলে শুধু ঘুমের সময় বাড়ালেই হবে না। বরং দিনের শেষে শরীর ও মস্তিষ্ককে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে এখন বিশ্রামের সময়। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা, রাতে আলো কমানো, এবং ঘুমানোর আগে ধীরে ধীরে কাজ থেকে নিজেকে আলাদা করা- এসব অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস, যেমন লাইট কমিয়ে দেওয়া, মোবাইল থেকে দূরে থাকা বা নির্দিষ্ট একটি রুটিন অনুসরণ করা, মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে দিনের কাজ শেষ। তখন শরীর ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুম গভীর হতে পারে। সব মিলিয়ে, এখন আর শুধু ৮ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক সময়ে, সঠিক পরিবেশে এবং মানসম্পন্ন ঘুম। তাহলেই সত্যিকারের বিশ্রাম পাওয়া সম্ভব। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
কেন এখন আর ৮ ঘণ্টা ঘুমও যথেষ্ট মনে হয় না
মানুষের শরীরের আদর্শ ওজন কত
শরীরের আদর্শ ওজন সবার জন্য কখনই একরকম নয়। তবে বর্তমানে চিকিৎসকরা ওজনকে স্বাস্থ্যের একটি সূচক হিসেবে ব্যবহার করেন। একজন মানুষের জন্য ‘স্বাস্থ্যকর ওজনের পরিসর’ নির্ভর করে তার ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের ওপর। আর এই পরিসর চিকিৎসকদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নে সাহায্য করে। আগে ‘আদর্শ ওজন’ বলতে বোঝানো হতো এমন একটি ওজন, যেখানে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম। তবে সময়ের সঙ্গে এই ধারণা ও হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা অর্জনের চেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন গড়ে তোলা। আমার ওজন কত হওয়া উচিত? ওজন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ চিত্র না। শুধু ওজন কম বা বেশি হলেই স্বাস্থ্য ভালো বা খারাপ বলা যায় না। যেসব বিষয় আপনার আদর্শ ওজন নির্ধারণে ভূমিকা রাখে—  বয়স জিনগত বৈশিষ্ট্য শারীরিক অবস্থা ও রোগব্যাধি জীবনযাত্রা যে বিষয়গুলো আদর্শ ওজনকে প্রভাবিত করে বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে মেটাবলিজম ধীর হয় এবং হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা ওজনকে প্রভাবিত করে। লিঙ্গ: সাধারণত পুরুষদের হাড় ও পেশি বেশি হওয়ায় তাদের ওজন তুলনামূলক বেশি হতে পারে। উচ্চতা: উচ্চতা যত বেশি, স্বাস্থ্যকর ওজনের পরিসরও তত বেশি হয়। রোগ ও ওষুধ: কিছু রোগ বা ওষুধের কারণে ওজন বাড়তে বা কমতে পারে। যেমন স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, গর্ভাবস্থা বা কিছু ওষুধ ওজন বাড়াতে পারে। শরীরের গঠন: কারও শরীরে পেশি বেশি থাকলে তার ওজন বেশি হলেও তা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, কারণ পেশির ওজন চর্বির চেয়ে বেশি। জিনগত প্রভাব: আপনার ক্ষুধা, শক্তি খরচ এবং ওজন বাড়া বা কমার প্রবণতা জিন দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। আদর্শ ওজন মাপার পদ্ধতি বডি মাস ইনডেক্স বা BMI বডি মাস ইনডেক্স হলো একটি প্রচলিত পদ্ধতি, যেখানে ওজন ও উচ্চতার অনুপাত হিসেব করা হয়। ৩০ বা তার বেশি: স্থূলতা ২৫ - ২৯.৯: অতিরিক্ত ওজন ১৮.৫ - ২৪.৯: স্বাভাবিক ১৮.৫ এর নিচে: কম ওজন বডি মাস ইনডেক্স আপনাকে একটি ধারণা দেয়, কিন্তু এটি শরীরের চর্বির পরিমাণ সরাসরি মাপে না। এক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা আছে— পেশি ও চর্বির পার্থক্য বোঝা যায় না বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভুল ধারণা দিতে পারে শরীরের কোন অংশে চর্বি বেশি তা জানা যায় না তাই বডি মাস ইনডেক্স একমাত্র সূচক নয়। কোমরের মাপ পেটের চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ নির্দেশনা পুরুষ: কোমর ৪০ ইঞ্চির বেশি নয় নারী: কোমর ৩৫ ইঞ্চির বেশি নয় মাপার নিয়ম সোজা দাঁড়ান কোমরের চারপাশে ফিতা দিন খুব চাপ দেবেন না শ্বাস ছাড়ার পর মাপ নিন কোমর-নিতম্ব অনুপাত (WHR) কোমরের মাপকে নিতম্বের মাপ দিয়ে ভাগ করলে এই অনুপাত পাওয়া যায়। এটি পেটের চর্বির ঝুঁকি বোঝাতে সাহায্য করে এবং অনেক ক্ষেত্রে BMI-এর চেয়ে বেশি কার্যকর। কোমর-উচ্চতা অনুপাত (WHR) কোমরের মাপকে উচ্চতা দিয়ে ভাগ করা হয়। ০.৫-এর কম: ঝুঁকি কম ০.৫-০.৫৯: ঝুঁকি বাড়ছে ০.৬ বা বেশি: উচ্চঝুঁকি সহজ নিয়ম: কোমর যেন উচ্চতার অর্ধেকের বেশি না হয়। শরীরের গঠন বিশ্লেষণ বিশেষ স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে চর্বি, পেশি ও হাড়ের পরিমাণ জানা যায়। এতে মোট চর্বির পরিমাণ, পেশির পরিমাণ, হাড়ের ঘনত্ব ও শরীরের কোথায় চর্বি জমছে জানা যায়। এটি স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কার্যকর হলেও সাধারণত সবার জন্য সহজলভ্য নয়। কীভাবে স্বাস্থ্যকর ওজনে পৌঁছাবেন? ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু ডায়েট নয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি। পুষ্টিকর খাবার খান ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান বেশি করে ফল, সবজি ও প্রাকৃতিক খাবার খান পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার নিন নিয়মিত নড়াচড়া করুন হাঁটা, ব্যায়াম বা খেলাধুলা বাড়ান প্রতিদিনের ছোটখাটো নড়াচড়াও গুরুত্বপূর্ণ ওজন কমাতে করণীয় প্রতিদিন যত ক্যালোরি খরচ হয়, তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করুন ধীরে ধীরে ওজন কমান, সপ্তাহে আধা থেকে এক কেজি কমানো স্বাভাবিক খুব কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে ওজন বাড়াতে করণীয় যারা কম ওজনের তারা পুষ্টিকর বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খান বারবার অল্প অল্প করে খান প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বাড়ান শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনই আসল দ্রুত ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি সাধারণত বাস্তবসম্মত নয়। টেকসই ফল পেতে ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ২.৫ ঘণ্টা ব্যায়াম নিয়মিত পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনে বেশি চলাফেরা আদর্শ শরীরের ওজন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়। এটি নির্ভর করে আপনার বয়স, উচ্চতা, লিঙ্গ, জিন, শরীরের গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। বডি মাস ইনডেক্স, কোমরের মাপ বা অন্যান্য পদ্ধতি আপনাকে ধারণা দিতে পারে, কিন্তু এগুলোর কোনোটিই একা পুরো চিত্র তুলে ধরে না। সুস্থ থাকতে সবচেয়ে জরুরি হলো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস গড়ে তোলা সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিজের জন্য উপযুক্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো পথ। সূত্র : ওয়েব এমডি
মানুষের শরীরের আদর্শ ওজন কত
যে বিষয়টির সঙ্গে লাখো অকাল জন্ম এবং শিশুর মৃত্যু সম্পর্কিত
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিককে নমনীয় করতে ব্যবহৃত দুটি রাসায়নিক কোটি কোটি অকাল জন্ম এবং হাজার হাজার নবজাতকের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। শিশু তখনই অকাল জন্মে আসে যখন গর্ভধারণের ৩৭তম সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম হয়। অকাল জন্ম শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অকাল জন্ম নেওয়া শিশুরা বাঁচলেও শ্বাসকষ্ট, খাওয়াদাওয়া সমস্যা, সেরিব্রাল পালসি, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিলম্ব, চোখ ও কান সংক্রান্ত সমস্যাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। যে রাসায়নিকগুলো সমস্যা সৃষ্টি করছে গবেষণায় দুটি রাসায়নিকের কথা বলা হয়েছে—ডাই-২-ইথাইলহেক্সাইলফথালেট এবং ডাইইসোনোনাইলফথালেট। এগুলো ফথালেটস নামে পরিচিত সিন্থেটিক রাসায়নিক পরিবারের অংশ। ফথালেটস শরীরের হরমোন উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। জাতীয় পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট জানায়, এগুলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক, প্রজনন, মস্তিষ্ক, ইমিউন এবং অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নিউইয়র্কের NYU Langone-এর ড. লিওনার্দো ত্রাসান্দে বলেন, এটি বিপজ্জনক রাসায়নিক। আমাদের উচিত শুধু শিশু সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং শিশুদের সুস্থ জন্ম নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, ফথালেটস সীমিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা প্লাস্টিক সংক্রান্ত নিয়ম প্রয়োজন। ফথালেটস প্রায় সর্বত্র ফথালেটসকে প্রায় সর্বত্র থাকা রাসায়নিক বলা হয়। এগুলো খেলনা, আর্ট সামগ্রী, খাদ্য সংরক্ষণ কনটেইনার, ভিনাইল ফ্লোরিং, শাওয়ার কার্টেন, মেডিকেল যন্ত্র এবং পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে ব্যবহৃত হয়। এগুলো সুগন্ধি বহন, লুব্রিকেশন এবং প্লাস্টিককে নমনীয় করতে সাহায্য করে। গবেষণা দেখিয়েছে, ফথালেটস শিশুদের প্রজনন সমস্যা, লিঙ্গের অস্বাভাবিকতা, কন্যা শিশুর মধ্যে টেস্টিস অপ্রকাশিত থাকা, পুরুষদের হরমোন হ্রাস ও অস্বাভাবিক বীজাণু সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া শিশুদের স্থূলতা, হাঁপানি, হৃদরোগ ও ক্যানসারের সঙ্গেও সম্পর্ক থাকতে পারে। কিভাবে অকাল জন্মের ঝুঁকি বাড়ে ফথালেটস প্লেসেন্টার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে। প্লেসেন্টা হলো সেই অঙ্গ যা গর্ভস্থ শিশুকে অক্সিজেন, পুষ্টি ও ইমিউন সাপোর্ট প্রদান করে। ব্যর্থ প্লেসেন্টা অকাল জন্মের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি। ড. ত্রাসান্দে বলেন, সংক্রমণ বা প্রদাহ প্লেসেন্টার আঠালো অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা গর্ভাশয়ের সংকোচন এবং মেমব্রেন ফাটার জন্য দায়ী হতে পারে। তবে একক কোনো পথ নেই; এটি জটিল প্রক্রিয়া। বিশ্বব্যাপী প্রভাব গবেষণাটি দেখেছে যে ডাই-২-ইথাইলহেক্সাইলফথালেট এবং ডাইইসোনোনাইলফথালেট-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দ্রুত বর্ধনশীল প্লাস্টিক শিল্প এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের উচ্চমাত্রা থাকা দেশগুলোতে। গবেষকরা বলছেন, অন্য ধরনের ফথালেটসও বিপজ্জনক হতে পারে। ডাই-২-ইথাইলহেক্সাইলফথালেট সবচেয়ে বেশি অধ্যয়ন করা হয়েছে, আর ডাইইসোনোনাইলফথালেট হলো বিকল্প। তবে পুরো ফথালেটস শ্রেণির ঝুঁকি দেখা প্রয়োজন। কীভাবে ফথালেটস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় ভালো খবর হলো, ফথালেটস শরীর থেকে কয়েক দিনের মধ্যে বের হয়ে যায়। সচেতনভাবে প্লাস্টিক এড়িয়ে চললে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ফথালেটস মুক্ত লেবেলযুক্ত পার্সোনাল কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উপাদান তালিকায় DEP, DBP, BBzP খুঁজে দেখা প্লাস্টিককে মাইক্রোওয়েভ বা ডিশওয়াশারে গরম না করা ঘরের বাতাস চলাচল ভালো রাখা ও নিয়মিত ভ্যাকুয়াম করা তবে ব্যক্তিগত সতর্কতা যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণনীতি, নিরাপদ পণ্য, উন্নত লেবেলিং এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। ফথালেটস প্লাস্টিক ও দৈনন্দিন পণ্যগুলোতে প্রায় সর্বত্র ব্যবহৃত হলেও এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিশুদের স্বাস্থ্য ও অকাল জন্মের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। সচেতন ব্যবহার, নিরাপদ বিকল্প এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ নীতিই শিশু ও নবজাতকের সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। সূত্র : সিএনএন
যে বিষয়টির সঙ্গে লাখো অকাল জন্ম এবং শিশুর মৃত্যু সম্পর্কিত
ম্যালেরিয়ার কারণ, লক্ষণ ও ঝুঁকি
ম্যালেরিয়ার কারণ, লক্ষণ ও ঝুঁকি
ম্যালেরিয়া মূলত একটি সংক্রামক রোগ। সাধারণত এটি প্লাজমোডিয়াম নামের একধরনের পরজীবীর কারণে হয়ে থাকে। এই পরজীবী মানুষের শরীরে ছড়ায় মশার কামড়ের মাধ্যমে, বিশেষ করে অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে। আক্রান্ত হলে সাধারণত উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। উষ্ণমণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে, যেমন সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় ম্যালেরিয়া এখনও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব কম না। লক্ষণ ম্যালেরিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো জ্বর ও কাঁপুনি মাথাব্যথা বমি বমি ভাব ও বমি ডায়রিয়া পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা অতিরিক্ত ক্লান্তি দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন অনেক ক্ষেত্রে রোগটি চক্রাকারে দেখা দেয়। প্রথমে ঠান্ডা লাগা, তারপর জ্বর, এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যাওয়া। যদি আপনি ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় থাকেন বা ভ্রমণ করে এসে জ্বর অনুভব করেন, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। কীভাবে সংক্রমণ ঘটে ম্যালেরিয়ার জীবাণু রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়ায়। সংক্রমণের ধাপগুলো সাধারণত-  সংক্রমিত মশা কামড় দেয় → পরজীবী রক্তে প্রবেশ করে → লিভারে গিয়ে বৃদ্ধি পায় → পরে রক্তের লোহিত কণিকায় আক্রমণ করে → তখন লক্ষণ দেখা দেয় এ ছাড়া খুব বিরল ক্ষেত্রে এটি অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে ছড়াতে পারে। সংক্রমিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে বা একই সুচ ব্যবহার করলেও এটি ছড়াতে পারে। ঝুঁকি শিশু ও বয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং যারা আগে কখনো ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়নি কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গেছে তারা মূলত বেশি ঝুঁকিতে থাকে।  খেয়াল রাখবেন, ম্যালেরিয়া সময়মতো চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কে প্রভাব (সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া), শ্বাসকষ্ট, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, রক্তশূন্যতা ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য হলেও অবহেলা করলে এটি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সচেতনতা, সঠিক প্রতিরোধ এবং দ্রুত চিকিৎসাই এই রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র : মায়ো ক্লিনিক
মৌসুমি অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে কি বেশি কষ্টকর, জানাচ্ছে গবেষণা
মৌসুমি অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে কি বেশি কষ্টকর, জানাচ্ছে গবেষণা
অনেকেরই মনে হতে পারে, অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে একটু বেশি কষ্টকর। তবে এটি শুধু ধারণা নয়, গবেষণায়ও এখন এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ছে। এর একটি বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, যা অ্যালার্জির মৌসুমকে দীর্ঘ করছে। তবে এর পাশাপাশি নারী-পুরুষের মধ্যে এর প্রভাবের পার্থক্যেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। নারী না পুরুষ? কাদের অ্যালার্জি বেশি হয় শিশুকালে দেখা যায়, ছেলেদের মধ্যে অ্যালার্জি ও হাঁপানির হার কিছুটা বেশি। কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর এই চিত্র বদলে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নারীদের অ্যালার্জির হার বেশি। একইভাবে হাঁপানিও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় হরমোনের প্রভাব। হরমোনের প্রভাব  নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এই হরমোন শরীরের ‘মাস্ট সেল’ নামে পরিচিত কোষকে সক্রিয় করে। এই কোষগুলো হিস্টামিন নামের একটি রাসায়নিক তৈরি করে, যা অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণ যেমন চুলকানি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার জন্য দায়ী। ফলে নারীদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত ও বেশি তীব্র হতে পারে। নারীদের অ্যালার্জি কি বেশি গুরুতর গবেষণা বলছে, নারীদের ক্ষেত্রে শুধু অ্যালার্জির হারই বেশি নয়, এর তীব্রতাও বেশি হতে পারে। নারীদের মধ্যে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, হাঁপানির জটিলতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অনেক সময় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের উপসর্গ যথাযথ গুরুত্ব পায় না বা অন্য কারণে ব্যাখ্যা করা হয়, যা চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটাতে পারে। মাসিক চক্রের প্রভাব সাধারণত নারীদের হরমোন মাসিক চক্রের সময় ওঠানামা করে, যা অ্যালার্জির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে এক থেকে দুই সপ্তাহে অনেক নারী অ্যালার্জি বা হাঁপানির উপসর্গ বেশি অনুভব করেন। এছাড়া খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রতিও সংবেদনশীলতা থাকতে পারে, যা ত্বকে ফুসকুড়ি বা গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে: আগেভাগে ওষুধ শুরু করা: অ্যালার্জির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ওষুধ ব্যবহার শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। উপসর্গের সময় নোট রাখা: মাসিক চক্রের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে তা লিখে রাখা এবং চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালার্জি পরীক্ষা করা: কোন জিনিসে অ্যালার্জি হয় তা জানা থাকলে তা এড়িয়ে চলা সহজ হয় এবং চিকিৎসাও নির্দিষ্টভাবে করা যায়। অ্যালার্জি শট বিবেচনা করা: দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি শট কার্যকর হতে পারে। নিজের উপসর্গ গুরুত্ব দেওয়া: অ্যালার্জি যদি ঘুম, কাজ বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নারীদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বেশি এবং অনেক সময় বেশি তীব্র হতে পারে, যার পেছনে হরমোন বড় ভূমিকা রাখে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা, সচেতনতা এবং নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট
কেন এখন আর ৮ ঘণ্টা ঘুমও যথেষ্ট মনে হয় না
কেন এখন আর ৮ ঘণ্টা ঘুমও যথেষ্ট মনে হয় না
একসময় দিনের শেষে ঘুম মানেই ছিল পুরো শরীরের বিশ্রাম। কাজ শেষ, আলো নিভে গেছে, আর তারপর গভীর একটা ঘুম। কিন্তু এখন! অনেকের জন্য বাস্তবতা ভিন্ন। রাত আসে, শরীর বিছানায় যায়, কিন্তু ঘুম আসে হালকাভাবে বা আসে না বললেই চলে। সকালে উঠেও আগের দিনের সেই ক্লান্তি থেকেই যায়। গবেষকরা বলছেন, সমস্যাটা শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন তা নয়, বরং কেমন ঘুম হচ্ছে সেটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই হয়তো নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিছানায় কাটাচ্ছেন, কিন্তু শরীর সেই সময়টুকুতে পুরোপুরি নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারছে না। বিশেষ করে গভীর ঘুম বা স্লো-ওয়েভ স্লিপ কমে যাচ্ছে, যা শরীরের কোষ মেরামত এবং শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই নিজের অভ্যাসের সমস্যা বলে মনে করেন। যেমন বেশি মোবাইল ব্যবহার বা ঠিকমতো বিশ্রাম না নেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল। দিনের কাজ শেষ হলেও আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় সেটি বুঝতে পারে না। শরীর তখনো সতর্ক অবস্থায় থাকে, যেন কোনো কাজ বাকি আছে। ঘুমের জন্য শরীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দরকার। যেমন কর্টিসল হরমোন কমে আসা, স্নায়ুতন্ত্রের শান্ত হওয়া এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি রাতের মোডে চলে যাওয়া। কিন্তু আধুনিক জীবনের চাপ, বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার, এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন কাজ আমাদের মস্তিষ্ককে সারাক্ষণ সক্রিয় রাখে। আমরা হয়তো ফোন বন্ধ করেছি, কিন্তু মস্তিষ্ক তখনো সেই উত্তেজনা বা প্রত্যাশার মধ্যে থাকে। ফলে শরীর বিশ্রামে গেলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি শান্ত হতে পারে না। গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের ঘুমের মান তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়। এমনকি তারা নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর চেষ্টা করলেও মানসিক চাপ ও অস্থিরতা ঘুমকে প্রভাবিত করে। এছাড়া আধুনিক জীবনের আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনিয়মিত সময়সূচি। অনেকেই সপ্তাহের দিন ও ছুটির দিনে আলাদা সময়ে ঘুমান এবং জাগেন। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিঘ্নিত হয়। ফলে ঠিক সময়েও ঘুমাতে গেলেও শরীর প্রস্তুত থাকে না। ঘুমের মান নির্ভর করে শুধু সময়ের ওপর নয়, বরং সময়ের সঠিকতা এবং ধারাবাহিকতার ওপরও। ভুল সময়ে ঘুমালে সেটি হালকা হয় এবং শরীর ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলো। রাতে কৃত্রিম আলো, বিশেষ করে স্ক্রিনের আলো, শুধু ঘুমের সময় পিছিয়ে দেয় না, বরং মস্তিষ্ককে সতর্ক রাখে। এতে কর্টিসল কমতে দেরি হয় এবং ঘুমের গভীরতা কমে যায়। এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, কেউ ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে সতেজ বোধ করেন না। কারণ তার ঘুমের গভীরতা এবং গুণগতমান ঠিক ছিল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা থেকে বের হতে হলে শুধু ঘুমের সময় বাড়ালেই হবে না। বরং দিনের শেষে শরীর ও মস্তিষ্ককে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে এখন বিশ্রামের সময়। নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা, রাতে আলো কমানো, এবং ঘুমানোর আগে ধীরে ধীরে কাজ থেকে নিজেকে আলাদা করা- এসব অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস, যেমন লাইট কমিয়ে দেওয়া, মোবাইল থেকে দূরে থাকা বা নির্দিষ্ট একটি রুটিন অনুসরণ করা, মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে দিনের কাজ শেষ। তখন শরীর ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুম গভীর হতে পারে। সব মিলিয়ে, এখন আর শুধু ৮ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক সময়ে, সঠিক পরিবেশে এবং মানসম্পন্ন ঘুম। তাহলেই সত্যিকারের বিশ্রাম পাওয়া সম্ভব। সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
মানুষের শরীরের আদর্শ ওজন কত
মানুষের শরীরের আদর্শ ওজন কত
শরীরের আদর্শ ওজন সবার জন্য কখনই একরকম নয়। তবে বর্তমানে চিকিৎসকরা ওজনকে স্বাস্থ্যের একটি সূচক হিসেবে ব্যবহার করেন। একজন মানুষের জন্য ‘স্বাস্থ্যকর ওজনের পরিসর’ নির্ভর করে তার ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের ওপর। আর এই পরিসর চিকিৎসকদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নে সাহায্য করে। আগে ‘আদর্শ ওজন’ বলতে বোঝানো হতো এমন একটি ওজন, যেখানে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম। তবে সময়ের সঙ্গে এই ধারণা ও হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা অর্জনের চেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন গড়ে তোলা। আমার ওজন কত হওয়া উচিত? ওজন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ চিত্র না। শুধু ওজন কম বা বেশি হলেই স্বাস্থ্য ভালো বা খারাপ বলা যায় না। যেসব বিষয় আপনার আদর্শ ওজন নির্ধারণে ভূমিকা রাখে—  বয়স জিনগত বৈশিষ্ট্য শারীরিক অবস্থা ও রোগব্যাধি জীবনযাত্রা যে বিষয়গুলো আদর্শ ওজনকে প্রভাবিত করে বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে মেটাবলিজম ধীর হয় এবং হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা ওজনকে প্রভাবিত করে। লিঙ্গ: সাধারণত পুরুষদের হাড় ও পেশি বেশি হওয়ায় তাদের ওজন তুলনামূলক বেশি হতে পারে। উচ্চতা: উচ্চতা যত বেশি, স্বাস্থ্যকর ওজনের পরিসরও তত বেশি হয়। রোগ ও ওষুধ: কিছু রোগ বা ওষুধের কারণে ওজন বাড়তে বা কমতে পারে। যেমন স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, গর্ভাবস্থা বা কিছু ওষুধ ওজন বাড়াতে পারে। শরীরের গঠন: কারও শরীরে পেশি বেশি থাকলে তার ওজন বেশি হলেও তা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, কারণ পেশির ওজন চর্বির চেয়ে বেশি। জিনগত প্রভাব: আপনার ক্ষুধা, শক্তি খরচ এবং ওজন বাড়া বা কমার প্রবণতা জিন দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। আদর্শ ওজন মাপার পদ্ধতি বডি মাস ইনডেক্স বা BMI বডি মাস ইনডেক্স হলো একটি প্রচলিত পদ্ধতি, যেখানে ওজন ও উচ্চতার অনুপাত হিসেব করা হয়। ৩০ বা তার বেশি: স্থূলতা ২৫ - ২৯.৯: অতিরিক্ত ওজন ১৮.৫ - ২৪.৯: স্বাভাবিক ১৮.৫ এর নিচে: কম ওজন বডি মাস ইনডেক্স আপনাকে একটি ধারণা দেয়, কিন্তু এটি শরীরের চর্বির পরিমাণ সরাসরি মাপে না। এক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা আছে— পেশি ও চর্বির পার্থক্য বোঝা যায় না বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভুল ধারণা দিতে পারে শরীরের কোন অংশে চর্বি বেশি তা জানা যায় না তাই বডি মাস ইনডেক্স একমাত্র সূচক নয়। কোমরের মাপ পেটের চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ নির্দেশনা পুরুষ: কোমর ৪০ ইঞ্চির বেশি নয় নারী: কোমর ৩৫ ইঞ্চির বেশি নয় মাপার নিয়ম সোজা দাঁড়ান কোমরের চারপাশে ফিতা দিন খুব চাপ দেবেন না শ্বাস ছাড়ার পর মাপ নিন কোমর-নিতম্ব অনুপাত (WHR) কোমরের মাপকে নিতম্বের মাপ দিয়ে ভাগ করলে এই অনুপাত পাওয়া যায়। এটি পেটের চর্বির ঝুঁকি বোঝাতে সাহায্য করে এবং অনেক ক্ষেত্রে BMI-এর চেয়ে বেশি কার্যকর। কোমর-উচ্চতা অনুপাত (WHR) কোমরের মাপকে উচ্চতা দিয়ে ভাগ করা হয়। ০.৫-এর কম: ঝুঁকি কম ০.৫-০.৫৯: ঝুঁকি বাড়ছে ০.৬ বা বেশি: উচ্চঝুঁকি সহজ নিয়ম: কোমর যেন উচ্চতার অর্ধেকের বেশি না হয়। শরীরের গঠন বিশ্লেষণ বিশেষ স্ক্যানের মাধ্যমে শরীরে চর্বি, পেশি ও হাড়ের পরিমাণ জানা যায়। এতে মোট চর্বির পরিমাণ, পেশির পরিমাণ, হাড়ের ঘনত্ব ও শরীরের কোথায় চর্বি জমছে জানা যায়। এটি স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কার্যকর হলেও সাধারণত সবার জন্য সহজলভ্য নয়। কীভাবে স্বাস্থ্যকর ওজনে পৌঁছাবেন? ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু ডায়েট নয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি। পুষ্টিকর খাবার খান ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান বেশি করে ফল, সবজি ও প্রাকৃতিক খাবার খান পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার নিন নিয়মিত নড়াচড়া করুন হাঁটা, ব্যায়াম বা খেলাধুলা বাড়ান প্রতিদিনের ছোটখাটো নড়াচড়াও গুরুত্বপূর্ণ ওজন কমাতে করণীয় প্রতিদিন যত ক্যালোরি খরচ হয়, তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করুন ধীরে ধীরে ওজন কমান, সপ্তাহে আধা থেকে এক কেজি কমানো স্বাভাবিক খুব কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে ওজন বাড়াতে করণীয় যারা কম ওজনের তারা পুষ্টিকর বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খান বারবার অল্প অল্প করে খান প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বাড়ান শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করুন দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনই আসল দ্রুত ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি সাধারণত বাস্তবসম্মত নয়। টেকসই ফল পেতে ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ২.৫ ঘণ্টা ব্যায়াম নিয়মিত পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনে বেশি চলাফেরা আদর্শ শরীরের ওজন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়। এটি নির্ভর করে আপনার বয়স, উচ্চতা, লিঙ্গ, জিন, শরীরের গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। বডি মাস ইনডেক্স, কোমরের মাপ বা অন্যান্য পদ্ধতি আপনাকে ধারণা দিতে পারে, কিন্তু এগুলোর কোনোটিই একা পুরো চিত্র তুলে ধরে না। সুস্থ থাকতে সবচেয়ে জরুরি হলো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস গড়ে তোলা সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিজের জন্য উপযুক্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো পথ। সূত্র : ওয়েব এমডি