অনেকেরই মনে হতে পারে, অ্যালার্জি নারীদের ক্ষেত্রে একটু বেশি কষ্টকর। তবে এটি শুধু ধারণা নয়, গবেষণায়ও এখন এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ছে। এর একটি বড় কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, যা অ্যালার্জির মৌসুমকে দীর্ঘ করছে। তবে এর পাশাপাশি নারী-পুরুষের মধ্যে এর প্রভাবের পার্থক্যেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
শিশুকালে দেখা যায়, ছেলেদের মধ্যে অ্যালার্জি ও হাঁপানির হার কিছুটা বেশি। কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর এই চিত্র বদলে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নারীদের অ্যালার্জির হার বেশি। একইভাবে হাঁপানিও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় হরমোনের প্রভাব।
নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এই হরমোন শরীরের ‘মাস্ট সেল’ নামে পরিচিত কোষকে সক্রিয় করে।
এই কোষগুলো হিস্টামিন নামের একটি রাসায়নিক তৈরি করে, যা অ্যালার্জির প্রধান লক্ষণ যেমন চুলকানি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার জন্য দায়ী। ফলে নারীদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত ও বেশি তীব্র হতে পারে।
গবেষণা বলছে, নারীদের ক্ষেত্রে শুধু অ্যালার্জির হারই বেশি নয়, এর তীব্রতাও বেশি হতে পারে।
নারীদের মধ্যে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, হাঁপানির জটিলতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অনেক সময় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের উপসর্গ যথাযথ গুরুত্ব পায় না বা অন্য কারণে ব্যাখ্যা করা হয়, যা চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটাতে পারে।
সাধারণত নারীদের হরমোন মাসিক চক্রের সময় ওঠানামা করে, যা অ্যালার্জির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে এক থেকে দুই সপ্তাহে অনেক নারী অ্যালার্জি বা হাঁপানির উপসর্গ বেশি অনুভব করেন।
এছাড়া খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রতিও সংবেদনশীলতা থাকতে পারে, যা ত্বকে ফুসকুড়ি বা গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
আগেভাগে ওষুধ শুরু করা: অ্যালার্জির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ওষুধ ব্যবহার শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
উপসর্গের সময় নোট রাখা: মাসিক চক্রের সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক থাকলে তা লিখে রাখা এবং চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালার্জি পরীক্ষা করা: কোন জিনিসে অ্যালার্জি হয় তা জানা থাকলে তা এড়িয়ে চলা সহজ হয় এবং চিকিৎসাও নির্দিষ্টভাবে করা যায়।
অ্যালার্জি শট বিবেচনা করা: দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি শট কার্যকর হতে পারে।
নিজের উপসর্গ গুরুত্ব দেওয়া: অ্যালার্জি যদি ঘুম, কাজ বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নারীদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বেশি এবং অনেক সময় বেশি তীব্র হতে পারে, যার পেছনে হরমোন বড় ভূমিকা রাখে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা, সচেতনতা এবং নিজের শরীরের পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট




