
জটিল স্নায়ুরোগ মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে আক্রান্ত হন তানিয়া খাতুন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেন। দেওয়া হয় লাইফ সাপোর্ট। ধীরে-ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন– ঝুঁকি থাকায় সহজে গর্ভধারণ করতে পারবেন না তানিয়া। তবে ঝুঁকি কাটিয়ে সেই তানিয়া হয়েছেন কন্যাসন্তানের মা।
সোমবার (৪ মে) দুপুরের দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি চিকিৎসাধীন। আগের দিন রোববার (৩ মে) হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তানিয়াকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছিল। তিনি ঝুঁকি কাটিয়ে নিরাপদে সন্তান প্রসব করেছেন–এটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে নবজাতককে আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মা ও সন্তান দুজনের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
স্ত্রীর পাশে অবস্থান করছিলেন তানিয়ার স্বামী জেবর আলী। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিয়ের এক বছর পর প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। ২০২২ সালে তানিয়া অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সমন্বিত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে। এবার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হয়।
চিকিৎসকরা জানান, তানিয়াকে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চোখের পাতা ঝুলে পড়া, কথা বলতে অসুবিধা এবং তীব্র শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস শনাক্ত হয়; যা একটি দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ এবং এতে পেশি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ২৫ জানুয়ারি তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ২১ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পাশাপাশি আড়াই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
উচ্চমূল্যের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে চিকিৎসকরা প্লাজমা এক্সচেঞ্জ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। পাঁচ দফায় রক্তরস পরিবর্তনের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। চিকিৎসার প্রায় ১০ দিনের মাথায় লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া সম্ভব হয় এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তানিয়া।
সুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকরা ভবিষ্যতে গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দিলেও ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। ঝুঁকি বিবেচনায় গর্ভপাতের পরামর্শ দেওয়া হলেও তানিয়া ও পরিবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
এরপর নিউরোমেডিসিন, গাইনি, মেডিসিন ও আইসিইউ বিভাগের সমন্বয়ে তার গর্ভকালীন চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলে। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, এ ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত নারীর নিরাপদ প্রসব অত্যন্ত বিরল। তানিয়ার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




